প্রিন্ট এর তারিখঃ Oct 27, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Oct 27, 2026 ইং
গোখাদ্যের চড়া দামে দিশেহারা খামারি

দিনাজপুর সংবাদদাতাঃ
একদিকে গোখাদ্যের সংকট। অন্যদিকে বাজারে সব খাদ্যের চড়া দাম। এমন অবস্থায় দিশেহারা হয়ে পড়েছে দিনাজপুরের নবাবগঞ্জের খামারিরা। এখানকার বাজারে নতুন ধানের খড়ের আটি বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ৩০ টাকায়। খড়, ভুসি ও সবুজ ঘাস কিনতে গুনতে হচ্ছে বাড়তি টাকা। এতে গবাদিপশু পালনে তাদের খরচ বেড়ে যাওয়ায় লোকশানের আশঙ্কা করছেন।
জানা যায়,নবাবগঞ্জে ৯৫টি দুগ্ধ খামার, ৮৫টি ছাগলের খামার ও ৩৮টি ভেড়ার খামার রয়েছে। এসব খামারের সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে আয় ও কর্মসংস্থানের বিষয়টি জড়িত।
খামারিদের অভিযোগ, পশুখাদ্যের দাম বাড়লেও উৎপাদিত দুধ কিংবা বিক্রির সময় গরুর দাম সেই অনুপাতে না বাড়ায় তাদের লাভের পরিমাণ কমে যাচ্ছে। দীর্ঘদিন এ অবস্থা চলতে থাকলে গরু পালনের আগ্রহ হারাতে পারেন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা।
উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে কৃষিকাজের পাশাপাশি গবাদিপশু পালন বহু পরিবারের আয়ের অন্যতম উৎস। কেউ দুধ বিক্রি করে সংসার চালান, আবার কেউ গরু মোটাতাজাকরণের মাধ্যমে বাড়তি আয় করেন। কিন্তু গোখাদ্যের ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় এসব খামারের লাভ কমে আসছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে অল্প পুঁজি নিয়ে গরু পালন করা প্রান্তিক খামারিদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। প্রতিদিনের খাবারের জোগান দিতে গিয়ে অনেককেই সংসারের অন্যান্য খরচ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
খামারিদের মতে, গরুর খাবারের ব্যয় শুধু খড় ও ভুসি কেনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে খৈল, সবুজ ঘাস, শ্রমিকের মজুরি, চিকিৎসা ও পরিচর্যার খরচও রয়েছে। খরচের চাপ সামলাতে গিয়ে কেউ খাবারের পরিমাণ বা মান কমিয়ে দিলে গবাদিপশুর পুষ্টিতে ঘাটতি দেখা দিতে পারে। এতে গরুর ওজন বৃদ্ধি, দুধ উৎপাদন ও প্রজননক্ষমতা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
দুধ উৎপাদনকারী খামারি জাহাঙ্গীর হোসেন জুয়েল বলেন, গরুর খাবারের খরচ বেড়ে গেলে দুধ বিক্রি করে তেমন লাভ থাকে না। নিয়মিত খাবার দিতে না পারলে দুধ উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই বাধ্য হয়েই বেশি দামে খাবার কিনতে হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, আগে ভুসির বস্তা ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকায় পাওয়া যেত। এখন তা প্রায় ২ হাজার ৫০০ টাকা। নেপিয়ার ঘাসের প্রতিটি চারা কিনতে হচ্ছে ৪৫ থেকে ৫০ টাকায়।
উপজেলার দাউদপুর ইউনিয়নের কুন্দন গ্রামের ক্ষুদ্র খামারি সাহেব আলী বলেন, গরুর খাবার জোগাড় করতেই এখন হিমশিম খেতে হচ্ছে। আগে যে টাকায় কয়েক দিনের খাবার কেনা যেত, এখন সেই টাকায় অনেক কম খাবার পাওয়া যায়। গরু তো আর না খাইয়ে রাখা যায় না। সংসারের খরচের পাশাপাশি গরুর খাবারের টাকা জোগাড় করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। তিনি জানান, বর্তমানে নতুন ধানের প্রতিটি আঁটি ২০ থেকে ৩০ টাকায় কিনতে হচ্ছে।
নবাবগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. বিপুল কুমার চক্রবর্তী বলেন, গবাদিপশুর জন্য শুধু খড় দিলেই হবে না; এর সঙ্গে পর্যাপ্ত সবুজ ঘাস, পরিষ্কার পানি ও প্রয়োজন অনুযায়ী সুষম দানাদার খাবার দিতে হবে। খামারিরা বাড়ির আশপাশে নেপিয়ারসহ উপযোগী ঘাস চাষ করতে পারেন। মৌসুমে খড় সংরক্ষণ করলে সংকটের সময় খাদ্যের চাপ কিছুটা কমানো সম্ভব।
কৃ/স/জয়
Email : kshomoynews@gmail.com<br></br>
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ কৃষি সময়