
#৩,৯০৫ উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার পদ শূন্য
কৃষি সময় প্রতিবেদক
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরে উপসহকারী
কৃষি কর্মকর্তা ও সমমানের ৩ হাজার ৯০৫টি পদ শূন্য রয়েছে। অনুমোদিত পদের প্রায় ২৬ শতাংশ
শূন্য থাকায় মাঠপর্যায়ে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কৃষিসেবা নিশ্চিত করতে জনবলসংকটের
চিত্র উঠে এসেছে। এ অবস্থায় শূন্য পদগুলোর মধ্যে ৩ হাজার ১২৮টিতে নিয়োগের প্রস্তাব
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর।
গত ২৯ সেপ্টেম্বর পাঠানো এ প্রস্তাবের
বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর নিয়োগ কার্যক্রমের অগ্রগতি নির্ভর
করছে। বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের লিখিত পরীক্ষায় ৪৩০ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন বলেও সংশ্লিষ্ট
কার্যপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত ত্রয়োদশ
জাতীয় সংসদের স্থায়ী কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকে অধিদফতরের জনবল পরিস্থিতি ও মাঠপর্যায়ে কৃষিসেবা
কার্যক্রমের বিষয়টি উঠে আসে। সোমবার জাতীয়
সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি মোঃ শাহাদাত হোসেন সেলিম এমপি।
এতে কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদসহ কমিটির সদস্য ও মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা
উপস্থিত ছিলেন।
অনুমোদিত পদের ২৬ শতাংশ শূন্য
:
সংসদীয় কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকের
কার্যপত্রের তথ্যানুযায়ী, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা বা সমমানের
পদের অনুমোদিত সংখ্যা ১৪ হাজার ৮৯৯। এর বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন ১০ হাজার ৯৯৪ জন। ফলে
শূন্য রয়েছে ৩ হাজার ৯০৫টি পদ। শূন্য পদগুলোর মধ্যে ৩ হাজার ১২৮টিতে নিয়োগের প্রস্তাব
পাঠানো হয়েছে। অর্থাৎ, মোট শূন্য পদের প্রায় ৮০ শতাংশ পূরণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের মাঠপর্যায়ের
কার্যক্রমে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। কৃষকদের ফসল
উৎপাদন, রোগবালাই দমন, সার ও বালাইনাশকের সঠিক ব্যবহার এবং আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তি সম্পর্কে
পরামর্শ দেয়া তাদের অন্যতম দায়িত্ব। কৃষি উৎপাদন বাড়ানো, উৎপাদন খরচ কমানো এবং নিরাপদ
খাদ্য উৎপাদনে কৃষকদের সচেতন করার ক্ষেত্রেও তাদের ভূমিকা রয়েছে।
কিন্তু বিপুলসংখ্যক পদ শূন্য
থাকলে কৃষকদের কাছে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও প্রযুক্তিগত সেবা পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষ
করে ফসলের মৌসুমে রোগবালাই শনাক্তকরণ, সুষম সার ব্যবস্থাপনা এবং উৎপাদনসংক্রান্ত সমস্যার
দ্রুত সমাধানে মাঠপর্যায়ে পর্যাপ্ত জনবল থাকা জরুরি।
কৃষকবান্ধব সেবার নির্দেশনা :
বৈঠকে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের
কৃষকবান্ধব মনোভাব নিয়ে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। মাঠপর্যায়ে কৃষকদের সঙ্গে
কার্যকর যোগাযোগ, তাদের সমস্যার দ্রুত সমাধান এবং কৃষি সম্প্রসারণ সেবার মান উন্নয়নে
কর্মকর্তাদের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। তবে জনবলসংকট কাটাতে
নিয়োগপ্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নেয়ার পাশাপাশি শূন্য পদগুলোর বিপরীতে প্রয়োজনীয় জনবল নিশ্চিত
করা জরুরি। একই সঙ্গে নিয়োগে স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং মাঠপর্যায়ে কর্মকর্তাদের কার্যক্রম
তদারকির মাধ্যমে কৃষকদের কাছে সেবার সুফল পৌঁছানো প্রয়োজন।
বৈঠকে সংসদীয় কমিটির সদস্য মোঃ শহিদুল ইসলাম এমপি, মোঃ মুজিবুর রহমান চৌধুরী এমপি ও মোঃ গোলাম রছুল এমপিসহ কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব, অধীন বিভিন্ন দপ্তরের মহাপরিচালক এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।