প্রিন্ট এর তারিখঃ Oct 23, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Oct 23, 2026 ইং
পানির অভাবে আমন ধানের খেত ফেটে চৌচির

রংপুর সংবাদদাতাঃ
প্রচণ্ড গরম ও বৃষ্টির অভাবে রংপুরের পীরগঞ্জে খেতের আমন ধান নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। পানি সংকটে অনেক এলাকায় খেতের মাটি ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। এতে ধান গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় মোট ৩২ হাজার ৮শ’ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষ করা হয়েছে। চলতি মৌসুমে ২৫ হাজার ৫৯৫ হেক্টর জমিতে রোপা আমনের আবাদ করেছেন কৃষক।
উপজেলার রায়পুর, বড় দরগা ও পৌর এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, আমন ধানের মৌসুমে নিয়মিত বৃষ্টির ওপর অনেকটাই নির্ভর করতে হয়। কিন্তু এবার তেমন বৃষ্টিপাত না হওয়ায় জমির আর্দ্রতা কমে গেছে। তীব্র রোদ ও গরমে মাটি দ্রুত শুকিয়ে যাওয়ায় ধান গাছ সতেজ রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় অনেক কৃষক সেচের মাধ্যমে জমিতে পানি দেয়ার চেষ্টা করছেন। তবে বাড়তি সেচের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকরা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। সময়মতো বৃষ্টি না হলে ফলন কমে যাওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
উপজেলার কাবিলপুরের কৃষক নজরুল ইসলাম বলেন, ‘বর্ষা মৌসুমে সাধারণত বৃষ্টির পানির ওপর নির্ভর করেই আমরা আমন ধানের চাষ করি। কিন্তু সময়মতো বৃষ্টি না হলে জমিতে পানির সঙ্কট দেখা দেয়। তখন বিকল্প উপায়ে সেচের ব্যবস্থা করতে হয়। এতে বাড়তি টাকা খরচ হয়। পাশাপাশি সময় এবং শ্রম দুটোই বেশি লাগে। তাই স্বল্প খরচে সেচের পানির ব্যবস্থা করা গেলে অনেক উপকার হতো।
আলমপুরের কৃষক মাহামুদুল হাসান বলেন, এসময় আমন ধানের জমিতে প্রচুর পানির প্রয়োজন। ধান গাছে শীষ বের হওয়ার সময় পানি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় জমি শুকিয়ে আছে। ফলে বাধ্য হয়ে সেচ দিতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে।
রায়পুরের কৃষক মজনু মিয়া বলেন, ‘জমির মাটি ফেটে গেছে। ধান গাছের বৃদ্ধি আগের মতো নেই। এখন আল্লাহর রহমতে বৃষ্টি ছাড়া কোনো উপায় দেখছি না। আমন ধান আমাদের সারা বছরের খাদ্য ও আয়ের অন্যতম উৎস। তাই দ্রুত বৃষ্টি দরকার।
পীরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমন আহমেদ জানান,বর্তমান পরিস্থিতিতে কৃষকদের প্রয়োজন অনুযায়ী সেচ দিতে হবে এবং জমির আর্দ্রতা ধরে রাখতে হবে। আমরা মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছি। আশা করছি, আগামী দিনে বৃষ্টিপাত হলে ধানের ক্ষতি অনেকটাই কমে আসবে।
কৃ/স/জয়
Email : kshomoynews@gmail.com<br></br>
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ কৃষি সময়