প্রিন্ট এর তারিখঃ Oct 22, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Oct 21, 2026 ইং
ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে হারাচ্ছে কৃষি জমি

কুড়িগ্রাম সংবাদদাতাঃ
কুড়িগ্রামের রৌমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙন থামছেই না। ভাঙনে স্থানীয়দের ঘরবাড়ি সহ কৃষি জমি চলে গেছে নদীগর্ভে। এমন অবস্থায় চরম আতঙ্কে দিন করছেন স্থানীয় চাষীরা।
রৌমারী উপজেলার সুখেরবাতি ও খেদাইমারী গ্রামে নী ভাঙনে এক সপ্তাহে ১৭-১৮টি পরিবারের ভিটেমাটি নদীতে বিলীন হয়েছে। বসতবাড়ির পাশাপাশি কয়েক বিঘা কাঁচা-পাকা আমন ধান, ভুট্টা ও শাকসবজির খেত নদীতে চলে গেছে। প্রতিদিন নীধপাড় ধ্বসে পড়ছে। বাধ্য হয়ে কৃষকরা নদী পাড়ের কাছে ঝুঁকিতে থাকা কাঁচা-পাকা ধান কাটছেন কৃষকরা। এমন ধান কাটার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়েছে। এই নদী ভাঙনে গত এক বছরে সাড়ে পাঁচ শতাধিক পরিবার গৃহহীন হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পাউবো থেকে ছয়-সাত মাস আগে ভাঙন রোধে জিও ব্যাগ ফেললেও সঠিক তদারকি ও স্থায়ী ব্যবস্থার অভাবে সেগুলো এখন নদীতে চলে গেছে। ফলে নদীর পাড় কোনো বাধা ছাড়াই দ্রুত ভেঙে পড়ছে।
চর শৌলমারী ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আনছার আলী তুহিন জানান, গত এক সপ্তাহে তার ওয়ার্ডে সাতটি এবং ৮ নং ওয়ার্ডের খেদাইমারী গ্রামে ১০টি বাড়ি নদীতে চলে গেছে।
ইউপি সদস্য আনছার আলী তুহিন জানান, সুখেরবাতি এলাকার মৃত মহেজ মোল্লার ছেলে ইউনুছ মোল্লার নদীর তীরবর্তী দেড় বিঘা আমন ধানের জমির পুরোটাই নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এছাড়া মৃত ওসমান প্রামাণিকের ছেলে ছবুর প্রামাণিকের চার বিঘা জমির মধ্যে এক বিঘা আমন খেত নদীতে চলে গেছে। একই সঙ্গে ৮ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা জমসের আলীর ভিটাবাড়িসহ তিন বিঘা ধানি জমিও নদীতে চলে গেছে।
রৌমারীর চর শৌলমারী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান একেএইচএম সাইদুর রহমান বলেন, ‘আমার সুখেরবাতি, খেদাইমারী ও সোনাপুর ওয়ার্ড তিনটিতে নদীভাঙন মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। এখানে ব্লকের কাজ না করায় জিও ব্যাগ দিয়ে ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙন ঠেকানো যাচ্ছে না। পাউবো থেকে যা জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছে, সেগুলো স্রোতে নদীতে চলে গেছে। এখন উন্মুক্ত হয়ে গেছে নদীর পাড়। ফলে দ্রুত ফসলি জমি, গাছপালা ও বাড়িঘর ভেঙে নিয়ে যাচ্ছে।
এ ব্যাপারে কুড়িগ্রাম পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন,জরুরি কাজের জন্য এখন কোনো বরাদ্দ নেই। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আমরা স্থায়ীভাবে ভাঙন ঠেকাতে একটি প্রকল্প প্রস্তাব পাঠিয়েছি। এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিবেচনা করছে।
কৃ/স/জয়
Email : kshomoynews@gmail.com<br></br>
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ কৃষি সময়