প্রিন্ট এর তারিখঃ Oct 22, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Oct 21, 2026 ইং
দেশি মাছের সংকট শুঁটকি উৎপাদনে ধস

সিরাজগঞ্জ সংবাদদাতাঃ
দেশি মাছ সংকটে চলনবিলের চাতালগুলোতে শুঁটকি উপাদনে ধ্বস নেমেছে। মাছ না থাকায় ফাঁকা পড়ে আছে বিশাল বিশাল চাতাল। অলম সময় কাটাচ্ছে শ্রমিকরা। এতে বিপাকে পড়েছেন ব্যবসায়ী, জেলে ও শ্রমজীবীরা।
চলনবিলের বিভিন্ন উপজেলায় প্রতি বছর বর্ষার শুরু থেকে দেশি মাছের শুটকি তৈরি শুরু করে ব্যবসায়ীরা। তবে এবার মাছের সংকটে কমছে শুঁটকি উৎপাদন। উল্লাপাড়া ও তাড়াশ উপজেলার ৬০টি শুঁটকি মহালে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৩০২ মেট্রিক টন শুঁটকি উৎপাদিত হয়। কিন্তু গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১৮৫ দশমিক ১৭ মেট্রিক টনে। এক বছরের ব্যবধানে উৎপাদন কমেছে প্রায় ৩৮ দশমিক ৭ শতাংশ। এতে কয়েক কোটি টাকার বাজার হারানোর পাশাপাশি সংকটে পড়েছেন এ পেশার সঙ্গে যুক্ত মানুষ। প্রতি বছর ক্রমেই এ জনপদে কমছে শুটকির উৎপাদন।
স্থানীয়রা বলছেন,অপরিকল্পিত পুকুর খনন, বর্ষায় দীর্ঘমেয়াদি পানি না থাকা ও বাদাই জালে মা মাছ নিধনের কারণে ব্যাহত হচ্ছে বংশবিস্তার। এর প্রভাব পড়েছে শুঁটকি উৎপাদনে। মাছের অভাবে একের পর এক বন্ধ হচ্ছে শুঁটকির চাতাল। এতে বিপাকে পড়েছেন ব্যবসায়ী, জেলে ও শ্রমজীবীরা।
সম্প্রতি হাটিকুমরুল-বনপাড়া মহাসড়কের মহিষলুটি শুঁটকিপল্লিতে গিয়ে দেখা যায়, সড়কের দুই পাশে বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে গড়ে উঠেছে শুঁটকি তৈরির চাতাল। কয়েকটি চাতালে সামান্য পুঁটি মাছ রোদে শুকানো হচ্ছে। অন্য চাতালগুলোতে পড়ে আছে গোছানো চাটাই। মাছের অভাবে অধিকাংশ চাতালেই উৎপাদন বন্ধ। কাজ না থাকায় অলস সময় পার করছেন চাতালমালিক ও শ্রমিকেরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চলনবিলের শুঁটকিপল্লিতে দেশীয় পদ্ধতিতে তৈরি এসব শুঁটকি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহের পাশাপাশি রপ্তানি করা হয় বিদেশেও। তাড়াশের মহিষলুটি মাছের আড়ত, চাটমোহরের বোয়ালমারী ও সিংড়া বাজারসহ বিভিন্ন আড়ত থেকে মাছ কিনে আনা হয় চাতালে। সেখানে শোল, বোয়াল, খলসা, টাকি, টেংরা ও চাঁদাসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ শুকিয়ে তৈরি করা হয় শুঁটকি। পরে এসব শুঁটকি সৈয়দপুর, নীলফামারী ও রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হয়।
তাড়াশের মান্নান নগর মৎস্য আড়তদার রাসেল আহমেদ বলেন, ‘আড়তে মাছ সংকটের কারণে এখানকার অনেক চাতালের কার্যক্রম পুরাপুরি শুরু করতে পারেনি। এ মৌসুমে যে পরিমাণ মাছ আড়তে আমদানি হওয়ার কথা এর কিছুই হচ্ছে না।’ একই ধরনের কথা বলেন সিরাজ সরকার নামে আরেক মৎস্য আড়ৎদার।
তাড়াশ উপজেলার মান্নান নগর এলাকার শুঁটকি ব্যবসায়ী আব্দুস সালাম বলেন, ‘চলনবিলে মাছের সংকটের কারণে প্রায় ৫০ শতাংশ মহালে শুঁটকি উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। এতে প্রায় ৬ হাজার শ্রমজীবী মানুষ অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছেন।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান বলেন,চলনবিলে মাছের সংকটের কারণে শুঁটকি উৎপাদনে ব্যবসায়ীদের কিছুটা হিমশিম খেতে হচ্ছে। নিরাপদ উপায়ে শুঁটকি উৎপাদন নিশ্চিত করতে স্থানীয় মৎস্য অফিস থেকে চাতাল মালিকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি শুঁটকির গুণগত মান উন্নয়নে কাজ করা হচ্ছে।
কৃ/স/জয়
Email : kshomoynews@gmail.com<br></br>
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ কৃষি সময়