প্রিন্ট এর তারিখঃ Oct 19, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Oct 19, 2026 ইং
বেগুনের ভাইরাসের আক্রমণে দুশ্চিন্তায় কৃষক

কুড়িগ্রাম সংবাদদাতাঃ
কুড়িগ্রামের চরাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় বেগুনের খেতে ভাইরাসের আক্রমন দেখা দিয়েছে। এতে আক্রান্ত গাছের পাতা হলুদ হয়ে যাচ্ছে, আর বেগুনের স্বাভাবিক আকৃতি নষ্ট হয়ে কুঁকড়ে যাচ্ছে। কৃষকরা বিভিন্ন ধরনের বালাইনাশক প্রয়োগ করেও কোন প্রতিকার পাচ্ছেন না। ফলে বাম্পার ফলনেও কৃষকদের মুখের হাসি বিলিন হয়ে গেছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, কুড়িগ্রামে প্রায় ১ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে বেগুনের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১৫০ হেক্টর জমিতে আগাম বেগুন চাষ করা হয়েছে। জেলার কৃষকদের জন্য বেগুন একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থকরী সবজি ফসল।
নদ-নদীবেষ্টিত কুড়িগ্রামের বিভিন্ন চরাঞ্চলে বেগুনের আবাদ বেশি হয়। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। মাঠে মাঠে বেগুন খেতে কোথাও গাছে ঝুলছে পরিপক্ব বেগুন, কোথাও আবার এসেছে নতুন ফল। এর মধ্যেই কিছু গাছের পাতা হলুদ হয়ে গেছে। আক্রান্ত গাছের বেগুনের স্বাভাবিক আকৃতি থাকছে না; কোনো কোনো বেগুন কুঁকড়ে যাচ্ছে। এতে বেগুনের গুণগত মান নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি বিক্রিযোগ্য ফলের পরিমাণ কমে যাচ্ছে। অনুকূল আবহাওয়া ও ভালো ফলনের কারণে এবার শুরু থেকেই আশাবাদী ছিলেন চাষিরা। বাজারে ভালো দাম থাকায় উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে লাভের আশা করছিলেন তাঁরা। তবে গাছে ভাইরাসের লক্ষণ দেখা দেওয়ায় তাদের সেই আশায় ভাটা পড়েছে।
কৃষকেরা বলছেন, গাছে রোগের লক্ষণ দেখা দেওয়ার পর থেকেই তারা বিভিন্ন ওষুধ স্প্রে করছেন। কিন্তু গাছ প্রকৃতপক্ষে কোন রোগে আক্রান্ত এবং তা কীভাবে নিয়ন্ত্রণ সম্ভব, সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারছেন না। এতে একদিকে বাড়ছে উৎপাদন খরচ, অন্যদিকে ফলন ও আয় নিয়ে তৈরি হচ্ছে অনিশ্চয়তা। তাদের মতে, বেগুন চাষে জমি প্রস্তুত, চারা রোপণ, সার, সেচ, পরিচর্যা ও বালাইনাশক প্রয়োগে ইতিমধ্যে অনেক টাকা খরচ হয়েছে। এখন গাছের রোগ নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে বিনিয়োগের সুফল পাওয়া কঠিন হবে। বিশেষ করে যেসব কৃষক ভালো ফলন ও বাজারদরের ওপর ভরসা করে বেশি জমিতে বেগুনের আবাদ করেছেন, তাদের দুশ্চিন্তা সবচেয়ে বেশি।
কৃষকদের অভিযোগ, ক্ষেত আক্রান্ত হওয়ার পরও রোগ শনাক্তকরণ ও প্রতিকারের পরামর্শ দিতে মাঠপর্যায়ে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের দেখা মিলছে না। ফলে কোন ওষুধ ব্যবহার করলে উপকার পাওয়া যাবে, তা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় রয়েছেন তারা। কৃষকেরা নিজেদের মতো করে ওষুধ প্রয়োগ করলেও কোনো কাজ হচ্ছে না।
সদর উপজেলার গুলকুর এলাকার কৃষক শফিকুল ইসলাম বলেন, আমার জমিতে ভাইরাস আক্রমণ করেছে। শুধু আমার নয়, প্রায় সবার বেগুনক্ষেতেই একই অবস্থা। কিন্তু এমন সংকটের মধ্যেও কৃষি বিভাগের লোকজনকে পাশে পাচ্ছি না।
একই এলাকার বেগুনচাষী আব্দুল আউয়াল বলেন, আমি ২২ শতক জমিতে বেগুন চাষ করেছি। এতে খরচ হয়েছে ২২ হাজার টাকা। ইতিমধ্যে ১০ হাজার টাকার বেগুন বিক্রি করেছি। কিন্তু হঠাৎ গাছের পাতা হলুদ হয়ে শুকিয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা হয়েছে। এসব গাছের বেগুনও কুঁকড়ে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাহিদা আফরিন বলেন, বেগুনগাছে হলুদ মোজাইক ভাইরাসের লক্ষণ দেখা দিলে আক্রান্ত গাছ শনাক্ত করা এবং রোগের বিস্তার ঠেকাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। যেমন আক্রান্ত গাছের ডালপালা কেটে ফেলতে হবে, বেশি আক্রান্ত হলে পুরো গাছ উপড়ে ফেলতে হবে। এ ছাড়া মাঠপর্যায়ে আমাদের কর্মীরা রয়েছেন, তাঁরা কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন।
কৃ/স/জয়
Email : kshomoynews@gmail.com<br></br>
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ কৃষি সময়