প্রিন্ট এর তারিখঃ Oct 18, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Oct 18, 2026 ইং
মাসে ৩ লাখ গাছ বিক্রি করেন মেহেদী

পটুয়াখালী সংবাদদাতাঃ
চাকরি নয়। মাত্র ৭০ হাজার পুঁজি নিয়ে নার্সারি করে ব্যাপক সফলতা পেয়েছেন মেহেদী হাসান নামে এক যুবক। এখন তিনি ১২৫ শতক জমিতে গড়ে তুলেছেন বিশাল নার্সারি। যেখান থেকে মাসে ৩ লাখ গাছ বিক্রি করেন তিনি। যার মাধ্যমে মোটা অংকের টাকা আয় কওে নিজের ভাগ্যও চাকা ঘুরিয়েছেন তিনি। সফল এ উদ্যোক্তা পটুয়াখালীর বাউফলের মদনপুরা ইউনিয়নের বাসিন্দা।
জানা যায়, এ উদ্যোক্তা ২০১৮ সালে পরিবারের পতিত জমিতে সবজি চাষের মধ্য দিয়ে কৃষির সাথে যাত্রা শুরু করেন। পরে ধীরে ধীরে নার্সারি ব্যবসায় যুক্ত হন। মেহেদী বাউফল সরকারি কলেজ থেকে ডিগ্রি পাস করেন। এরপর চাকরির পিছনে না ছুটে নিজে কিছু করার প্রত্যয়ে নার্সারিতে মনযোগ দেন। মাত্র ৭০ হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে তিনি ব্যবসা শুরু করেন। এখন তার নার্সারি বিস্তৃত হয়েছে ১২৫ শতক জমিতে। সেখানে রয়েছে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ প্রজাতির গাছ। প্রতি মাসে এখান থেকে প্রায় ৩ লাখ ঔষধি গাছ বিক্রি করেন তিনি। যার মাধ্যমে ভাল টাকা আয় করেন তিনি।
তার নার্সারিতে ঔষধি, বনজ, ফলজ ও সবজিসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা উৎপাদন ও বিক্রি করা হয়। ঔষধি গাছের মধ্যে রয়েছে স্টেভিয়া, পিসফল, করোসোল, অপরাজিতা, তুলসী, নিম, অর্জুন, আমলকী, হরীতকী, বহেড়া, চুইঝাল, সজনে, বেল, কাঠবাদাম, পেস্তাবাদাম ও অ্যালোভেরাসহ নানা প্রজাতির গাছ।
মেহেদীর নার্সারিতে শুধু বাউফল নয়, আশপাশের দশমিনা ও গলাচিপাসহ ভোলা থেকেও ক্রেতারা আসেন। অনলাইনেও চলে গাছের চারা বিক্রি। তার দাবি, অনলাইনে বা বিভিন্ন হাটবাজারে চারা কিনতে গিয়ে অনেক ক্রেতা প্রতারণার শিকার হন। নার্সারিতে সরাসরি এসে চারা কিনলে ক্রেতারা গাছের জাত ও মান সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার সুযোগ পান।
নার্সারির উদ্যোক্তা মেহেদী হাসান জানান,৩৩ শতক জমিতে নার্সারি শুরু করলেও বর্তমানে তা ১২৫ শতকে বিস্তৃত হয়েছে। শুরুতে বিনিয়োগ করেছিলেন ৭০ হাজার টাকা। বর্তমানে তার নার্সারিতে থাকা গাছের আনুমানিক মূল্য ১৫ থেকে ১৬ লাখ টাকা।
তবে এ পর্যায়ে আসার পথটা সহজ ছিল না। শুরুতে নানা বাধার মুখে পড়তে হয়েছিল তাকে। একসময় যারা তার কাজে বাধা দিয়েছিলেন, তারাই এখন সফলতার জন্য প্রশংসা করেন। আমার পরিকল্পনা আরও বড় পরিসরে নার্সারি গড়ে তোলা এবং সেখানে অন্যদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা।
বাউফল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. মিলন জানান, প্রধানমন্ত্রী আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের যে উদ্যোগ নিয়েছেন, সেই কর্মসূচির আওতায় ঔষধি গাছও রয়েছে। ঔষধি গাছের চারা বিতরণসহ বিভিন্ন প্রণোদনা কর্মসূচির মাধ্যমে এ ধরনের গাছ রোপণে কৃষকদের উৎসাহিত করা হচ্ছে। ঔষধি গাছের মধ্যে নিম অত্যন্ত উপকারী একটি উদ্ভিদ। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও ঔষধি গাছের গুরুত্ব বিবেচনায় বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। বাউফলের মেহেদী হাসানের নার্সারিতে বিভিন্ন প্রজাতির ঔষধি গাছের চারা পাওয়া যায়। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের মাধ্যমে কৃষকদের ঔষধি গাছ রোপণে উৎসাহিত করা হচ্ছে।
কৃ/স/জয়
Email : kshomoynews@gmail.com<br></br>
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ কৃষি সময়