প্রিন্ট এর তারিখঃ Oct 15, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Oct 15, 2026 ইং
মাগুড়ায় কমলা চাষের সম্ভাবনা

মাগুড়া সংবাদদাতাঃ
পাকিস্তানি কেনু জাতের কমলা চাষে সফলতা পেয়েছেন হারুনুর রশিদ নামে এক নার্সারি মালিক। বাড়ির পাশে তিনি ২৪০টি গাছ লাগিয়ে এই কমলার বাগান গড়ে তুলেছেন। প্রতিটি গাছেই প্রচুর ফল এসেছে। এর মাধ্যমে দেশের মাটিতে কেনু জাতের কমলা চাষাবাদে সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। সফল ওই চাষী মাগুড়া জেলার সদর উপজেলার রামনগর ফার্নিচার মোড় এলাকায় আল্লাহর দান নার্সারির মালিক।
জানা যায়,তিনি গত ৫ বছর আগে ইন্ডিয়া থেকে এক ব্যক্তি কেনু কমলার একটি চারা নিয়ে এসে তার বাড়িতে লাগিয়েছিলেন। সেই গাছে কমলা ধরার পর হারুনুর রশিদ সেখান থেকে কলমের মাধ্যমে চারা সংগ্রহ করেন। সেই চারা নিজের নার্সারিতে লাগান। সেখান থেকে চারা তৈরি করে নিজের বাগানের পাশাপাশি কয়েকজনের কাছে ইতোমধ্যে সেই চারা বিক্রি করেছেন। ইতোমধ্যে হারুনার রশিদ বাড়ির পাশেই একটি বাগানে লাগিয়েছেন প্রায় ২৪০টি কেনু কমলার গাছ। চলতি বছরই প্রথমবারের মতো অধিকাংশ গাছে ফল এসেছে। প্রতিটি গাছে থোকায় থোকায় ঝুলছে কমলা। যেগুলো সবুজ থেকে এখন হলুদ আকার ধারন করতে শুরু করেছে।
কমলা চাষী হারুনুর রশিদ জানান, গাছ লাগানোর প্রায় তিন বছরের মধ্যে ফল আসতে শুরু করে। ফল পাকতে আট থেকে ১০ মাস সময় লাগে। একটি ফলন সংগ্রহের পর আবার গাছে ফুল ও নতুন ফল আসতে পারে। এসব গাছ থেকে একাধিক চারা তৈরি করেছেন তিনি। বর্তমানে প্রতিটি চারা ২০০ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে। চারা নেওয়া কৃষকদের সার, কীটনাশক ও পরিচর্যার বিষয়েও পরামর্শ দিচ্ছেন তিনি।
এই চাষী উল্লেখ করেন,পাকিস্তানি কেনু কমলার গাছে সাধারণত ফেব্রুয়ারি মাসের দিকে ফুল আসে। এরপর গুটি বাঁধে এবং ধীরে ধীরে বড় হয়ে ডিসেম্বর-জানুয়ারি নাগাদ ফল পরিপক্ব হয়। তিন থেকে চারটি কমলায় প্রায় এক কেজি ওজন হয় বলেও জানান তিনি। পূর্ণাঙ্গভাবে ফলন এলে একটি বড় গাছ থেকে তিন থেকে চার মণ পর্যন্ত কমলা পাওয়া সম্ভব।
হারুনার রশিদ ২৭ বছর ধরে গাছের পরিচর্যা করে আসছেন। কয়েক একর জায়গা জুড়ে গড়ে তুলেছেন নার্সারি। নানা রকম ফুল, ফল ও ঔষধি গাছের চারা উৎপাদন ও বিক্রি করেন তিনি। তার উৎপাদিত গাছের চারাগুলো জেলার চাহিদা মিটিয়েও অন্যান্য জেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে।
নার্সারি মালিক হারুনুর রশিদ জানান, তাঁর নার্সারিতে তিন জাতের কমলা রয়েছে। তবে তাঁর পর্যবেক্ষণে পাকিস্তানি কেনু জাতটি তুলনামূলক ভালো ফলন ও মান অনেক ভালো। মাগুরার বিভিন্ন এলাকার কয়েকজন কৃষক ইতোমধ্যে এ জাতের চারা নিয়ে বাগান করার উদ্যোগ নিয়েছেন বলেও জানান তিনি।
মাগুড়া জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মোঃ আজম উদ্দিন জানান, ইতিমধ্যে মাগুরাতে বেশ কয়েকটি চায়না কমলার বাগান হয়েছে। প্রায় এক হেক্টর জায়গাতে কমলা লেবুর চাষ হচ্ছে। সেই সকল চাষীদের কে আমরা প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছি। তবে নতুন কোনো ফলের বাণিজ্যিক চাষ শুরুর আগে স্থানীয় মাটি, আবহাওয়া, জাত নির্বাচন, রোগবালাই, উৎপাদন খরচ ও বাজারজাতকরণের বিষয়গুলো বিবেচনা করা জরুরি। এর আগে যারা চায়না কমলার চাষ করেছে তাদের ফলন বেশ ভালো হয়েছে। নতুন এই পাকিস্তানি কমলার জাতের ফলন বেশ ভালো হচ্ছে বলে দেখা যাচ্ছে। বিষয়টি আমরা খোঁজখবর রাখছি। স্থানীয় চাষীরা যদি এই কামলা চাষে আগ্রহী হয় আমরা তাদের প্রয়োজনীয় সকল পরামর্শ ও সহযোগিতা করতে প্রস্তুত আছি।
কৃ/স/জয়
Email : kshomoynews@gmail.com<br></br>
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ কৃষি সময়