
পঞ্চগড় সংবাদদাতাঃ
পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা ফরিদ হোসেন মাটিবিহীন আধুনিক প্রযুক্তি কোকোপিট ও প্লাস্টিক ট্রের সমন্বয়ে বিষমুক্ত ও সুস্থ-সবল চারা উৎপাদন করে এলাকায় রীতিমতো সাড়া ফেলেছেন। ২০ লাখ টাকা বিনিয়োগে এ উদ্যোক্তা গড়ে তুলেছেন ‘তেপুকুরিয়া ফারমার্স হাব’। এই হাব থেকে মাসে আয় করছেন লক্ষাধিক টাকা। সফল এ উদ্যোক্তা বোদা উপজেলার কুমিল্লাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।
জানা যায়,নিজেদের জমিতে চাষাবাদের জন্য বার বার চারা কিনে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছিলেন ফরিদ। পরে তিনি ২০২১ সালে মাত্র ৮শ’টাকা বিনিয়গে পরীক্ষামূলকভাবে দুইটি বেডে চারা উৎপাদন শুরু করেন। প্রথমে অভিজ্ঞতা না থাকায় তিনি এ কাজে সফল হতে পারেননি। পরবর্তীতে এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে পুনরায় নতুন উদ্যমে গড়ে তোলেন ‘তেপুকুরিয়া ফারমার্স হাব’।
এখানে দেশি-বিদেশি নামি ব্র্যান্ডের বীজ ব্যবহার করে পেঁপে, মিষ্টি কুমড়া, লাউ, শিম, টমেটো, বেগুন, ফুলকপি ও বাঁধাকপিসহ নানা সবজির বিষমুক্ত চারা তৈরি করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি তিনি পরিবেশবান্ধব কেঁচো কম্পোস্ট (ভার্মিকম্পোস্ট) সারও উৎপাদন করছেন।
বর্তমানে তিনি ৬০ শতাংশ জমি লিজ নিয়ে চারটি ইউনিটে ১০ হাজার ট্রেতে তিনি একসঙ্গে লক্ষাধিক চারা উৎপাদন করছেন। পোকামাকড়ের আক্রমণ ঠেকাতে পুরো অবকাঠামো ঘিরে রাখা হয়েছে বিশেষ ইনসেক্ট নেট বা সুরক্ষাজাল দিয়ে। এতে সরাসরি সূর্যের আলো মাটিতে পড়তে বাধা দেয়। চারা ঢেকে রাখেন পলিশেড দিয়ে।
ফরিদ হোসেনের এই ফারমার্স হাবে উৎপাদিত চারার মধ্যে রয়েছে পেঁপে, টমেটো, বেগুন, লাউ, ফুলকপি, বাঁধাকপিসহ বিভিন্ন সবজি। কাজ করছেন নারী-পুরুষসহ ১৫ জন শ্রমিক। কেউ কোকোপিট প্লাস্টিকের ট্রেতে ভরছেন। আবার কেউ চারার বীজ ট্রেতে বসাচ্ছেন। শ্রমিকেরা চাষীদের চাহিদামতো সবজির চারা সরবরাহ করছেন। আবার চারার পরিচর্যাতেও ব্যস্ত সময় পার করছেন।
চারা উৎপাদন ও শ্রমিকদের মজুরিসহ মাসে প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা ব্যয় হলেও কেঁচো কম্পোস্ট ও চারা বিক্রি থেকে সব ব্যয় শেষে লক্ষাধিক টাকা নিট মুনাফা পান ফরিদ। এ ছাড়াও স্থানীয় বাজারে একটি সার ও কীটনাশকের দোকান পরিচালনা করে মাসে তার আয় লক্ষাধিক টাকা।
মানসম্মত ও সুসংগঠিত পরিবহন ব্যবস্থার কারণে ফরিদ হোসেনের উৎপাদিত চারার চাহিদা এখন নিজ জেলা ছাড়িয়ে পৌঁছে যাচ্ছে বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ ও রাজশাহীর মতো দূরবর্তী জেলাগুলোতে। চাষীদের সুবিধার জন্য স্থানীয় পর্যায়ে ইজিবাইকে করে সরাসরি ক্ষেতে চারা পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে।
বেংহারী বনগ্রাম ইউনিয়নের ফুলতলা এলাকার চাষি আব্দুল মজিদ বলেন, আমি নিজের খাবার জন্য সবজির উৎপাদন করলেও এই হাবের চারা ব্যবহার করি। ফরিদ ভাই কোকোপিটসহ নানা জৈব উপায়ে চারা উৎপাদন করায় চারার মান ভালো থাকে। যে কারণে বিষ ব্যবহার তেমন করতে হয় না। আমি সবসময় এখান থেকে চারা কিনি।
কৃষি উদ্যোক্তা ফরিদ হোসেন বলেন,সফল এই অগ্রযাত্রায় কৃষি বিভাগের কাছ থেকে আশানুরূপ সহযোগিতা না পাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন এই কৃষি উদ্যোক্তা। ফরিদ হোসেন বলেন, কৃষি বিভাগকে পাশে না পেলেও বর্তমানে নিজেই মানসম্মত চারা উৎপাদন করছি। আমার চারার চাহিদা প্রচুর। নিজের বেকারত্ব দূর হয়েছে। গ্রামের বাজারে একটি সার ও কীটনাশকের দোকান দিয়েছি। বর্তমানে আমি পরিবার নিয়ে সুখে আছি।
বোদা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আহমেদ রাশেদ উন নবী জানান, মাঠ পর্যায়ে সব ধরনের কৃষককে পর্যায়ক্রমে সহযোগিতা করা হচ্ছে। তবে কৃষকের যে অভিযোগ তা আসলে দূরত্ব সৃষ্টির জন্য হয়েছে। আমরা সব সময় কৃষকদের কারিগরি সহযোগিতা করে থাকি। তবে তিনি যদি কোনো কৃষি উপকরণের জন্য আমাদের কাছে আবেদন করেন তাহলে আমরা অবশ্যই বরাদ্দ থাকা সাপেক্ষে সরবরাহ করবো।
কৃ/স/জয়