প্রিন্ট এর তারিখঃ Oct 9, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Oct 9, 2026 ইং
মাশরুম চাষে তিন বন্ধুর সাফল্য

মৌলভীবাজার সংবাদদাতাঃ
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের তিন তরুণ যুবক একসাথে মাশরুম চাষাবাদ শুরু করেছেন। মাত্র ৫০ হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে তারা অয়েস্টার মাশরুম চাষ করে ব্যাপক সফলতা পেয়েছে। এখন তারা এ চাষাবাদ থেকে ভাল আয় করতে শুরু করেছেন। তারা স্বপ্ন দেখছেন আরো বড় পরিসনে মাশরুম চাষাবাদ সম্প্রসারণের। সফল ওই তিন বন্ধুর নামÑএমদাদুল হক মিলন, সাখাওয়াত হোসেন ও মো. তানিম মিয়া। তারা শ্রীমঙ্গল উপজেলার পশ্চিম ভাড়াউড়া গ্রামের বাসিন্দা।
এই উদ্যোক্তারা জানান, শুরুতে তাদের পরিকল্পনা ছিল গবাদিপশুর খামার করার। খোঁজ নিয়ে তারা জানতে পারেন, এ ধরনের খামার করতে প্রায় ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা প্রয়োজন হতে পারে। এত বড় পুঁজি জোগাড় করা তাঁদের পক্ষে সম্ভব ছিল না। পরে কম খরচে শুরু করা যায়Ñএমন কৃষিভিত্তিক উদ্যোগ খুঁজতে গিয়ে মাশরুম চাষে আগ্রহী হন তারা। পরে ২৭০ বর্গফুটের একটি ঘরে তাঁরা মাশরুম চাষ শুরু করেন ।
মাশরুম চাষের জন্য ঘরটিও নিজেদের উদ্যোগে প্রস্তুত করেছেন তিন বন্ধু। শ্রীমঙ্গলের উষ্ণ আবহাওয়ায় তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে ব্যবহার করা হচ্ছে এঙ্স্ট ফ্যান। রয়েছে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পানি ছিটানোর ব্যবস্থাও। উদ্যোক্তাদের ভাষ্য, মাশরুম চাষে তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে গরমের সময়ে কাঙ্ক্ষিত পরিবেশ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই ঘরের পরিবেশ নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে হয়। শীত মৌসুমে তুলনামূলক ভালো ফলন পাওয়া যায়।
উদ্যোক্তা এমদাদুল হক মিলন বলেন, চাকরির পেছনে ছুটে সময় নষ্ট না করে নিজেদের কিছু করার চিন্তা থেকেই মাশরুম চাষ শুরু করেছি। অল্প পুঁজি দিয়ে শুরু হলেও ভবিষ্যতে এটিকে বড় পরিসরে নেওয়ার স্বপ্ন আছে। তিনি বলেন, শুরুতে নিজেদের স্বাবলম্বী করাই তাদের মূল লক্ষ্য। উৎপাদন ও বাজারজাতকরণে অভিজ্ঞতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে খামারের পরিসর বাড়িয়ে আরও তরুণের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে চান তারা।
স্থানীয় বাসিন্দা জমির আলী বলেন, চাকরির অপেক্ষায় না থেকে তিন তরুণ নিজেরাই কিছু করার চেষ্টা করছেন। তাঁদের উদ্যোগ সফল হলে এলাকার অন্য তরুণেরাও মাশরুম চাষে আগ্রহী হতে পারেন।
কৃষিসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, মাশরুম চাষের জন্য বড় জমির প্রয়োজন হয় না। সীমিত জায়গাতেও এটি করা সম্ভব। তবে ভালো ফলনের জন্য প্রয়োজন সঠিক প্রশিক্ষণ, মানসম্মত স্পন, পরিচ্ছন্নতা এবং তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণ। এসব বিষয় যথাযথভাবে অনুসরণ করতে পারলে তরুণদের জন্য মাশরুম চাষ সম্ভাবনাময় আত্মকর্মসংস্থানের ক্ষেত্র হতে পারে।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দিন বলেন, মাশরুম চাষে তরুণদের আগ্রহ ইতিবাচক। সঠিক প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত জ্ঞান নিয়ে চাষ করলে এ খাতে ভালো করার সুযোগ রয়েছে। তরুণ উদ্যোক্তাদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সরকারি সহযোগিতার বিষয়টি কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে। মাশরুম একধরনের ছত্রাক। এর অধিকাংশ প্রজাতি ব্যাসিডিওমাইকোটা এবং কিছু প্রজাতি অ্যাসকোমাইকোটার অন্তর্ভুক্ত। অন্যান্য সবুজ উদ্ভিদের মতো সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে খাদ্য তৈরি করতে মাশরুমের সূর্যের আলোর প্রয়োজন হয় না।
কৃ/স/জয়
Email : kshomoynews@gmail.com<br></br>
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ কৃষি সময়