প্রিন্ট এর তারিখঃ Oct 2, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Oct 2, 2026 ইং
চালকলের বর্জ্য বিপন্ন কৃষি জমি

বগুড়া সংবাদদাতাঃ
চাল কলের তরল বর্জ্য পরিশোধনাগার (ইটিপি) ছাড়াই খাল, জলাশয় ও ফসলি জমিতে ফেলা হচ্ছে। এতে দূষিত হচ্ছে পানির উৎস, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে আবাদি জমি ও জলজ পরিবেশ। বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহারে একাধিক অটো চাল কলের বর্জ্য এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
জানা যায়,এখানকার বিভিন্ন কলকারখানার বর্জ্য ও অপরিশোধিত তরল পদার্থের কারণে দিন দিন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কৃষি ও জলজ পরিবেশ। বিশেষ করে সান্তাহার এলাকায় কয়েকটি অটোরাইস মিলের বর্জ্য সরাসরি খাল ও ফসলি জমিতে পড়ছে।
অভিযোগ রয়েছে, এখানকার প্রায় ১৪টি অটোরাইস মিলের সিদ্ধ ও ধোয়া সেকশন থেকে নির্গত দুর্গন্ধযুক্ত তরল বর্জ্য সরাসরি খাল, জলাশয় ও ফসলি জমিতে ফেলা হচ্ছে। অটো রাইস মিলের বর্জ্য পানি রেলের জায়গা দিয়ে ফসলি জমির পাশ দিয়ে ইরামতি খালে গিয়ে পড়ছে। আরেকটি রাইস মিলের বর্জ্য পানি ড্রেনের মাধ্যমে ফসলি জমি পেরিয়ে খাড়িতে গিয়ে পড়ছে। স্থানীয়দের দাবি, অন্যান্য চালকলেও একইভাবে অপরিশোধিত বর্জ্য পানি খাল ও জলাশয়ে ফেলা হচ্ছে। অথচ বর্জ্য পানি পরিশোধনের জন্য ইটিপি স্থাপন করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও এসব প্রতিষ্ঠানে তা দৃশ্যমান নয় বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মিলের বর্জ্য পানি ও খালের পানির নমুনা সংগ্রহ করে সান্তাহার মৎস্য গবেষণাগারে পরীক্ষা করা হয়েছে। পরীক্ষার তথ্যে দেখা যায়, পানিতে দ্রবীভূত অঙ্েিজনের (ডিও) স্বাভাবিক মাত্রা প্রতি লিটারে ৩ থেকে ৬ মিলিগ্রাম থাকার কথা থাকলেও মিলের পানিতে তা পাওয়া গেছে ১ দশমিক ৪ মিলিগ্রাম এবং খালের পানিতে ১ দশমিক ২ মিলিগ্রাম। যা মানব দেহের জন্য ক্ষতিকারক|
স্থানীয় কৃষক লতিফুর রহমান বলেন,খাড়ির দুর্গন্ধে এখন আশপাশে যাওয়া যায় না। জমিতে ফলন কমেছে, পচা পানিতে মাছও বাঁচে না। একসময় খালের মাছেই পরিবারের আমিষের চাহিদা মিটত। এখন মাছ কিনে খাওয়াও কঠিন।
সান্তাহার মৎস্য গবেষণাগারের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা শিশির কুমার দে বলেন, নমুনা পরীক্ষায় মিল ও ইরামতি খালের পানি প্রকৃতির জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর বলে দেখা গেছে। নমুনায় ছাই ও ধাতব উপাদানের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। হেভি মেটাল পরীক্ষা করা হলে ক্ষতিকর ধাতুর উপস্থিতি সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানা যাবে।
কৃ/স/জয়
Email : kshomoynews@gmail.com<br></br>
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ কৃষি সময়