প্রিন্ট এর তারিখঃ Oct 2, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Oct 2, 2026 ইং
ঢলের পানিতে ভেসে গেলো দুই শতাধিক কৃষকের স্বপ্ন

চট্টগ্রাম সংবাদদাতাঃ
চট্রগ্রামের ফটিকছড়িতে পাহাড়ী ঢলে দুই শতাধিক কৃষকের আবাদ তলিয়ে গেছে। এতে তারা চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
মঙ্গলবার ও বুধবারের আকস্মিক পাহাড়ি ঢলে কাঞ্চননগরের মানিকপুর থেকে কাঞ্চননগরহাট পর্যন্ত ধুরুং খালের দুই পাড়ের চরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্রায় ১০০ হেক্টর জমিতে আগাম রবি ও শীতকালীন সবজি চাষ করা হয়েছিল। ঢলের পানিতে এসব জমির বড় অংশের ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। ফসল হারিয়ে কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছে।
কাঞ্চননগরের হলিপাড়া এলাকার কৃষক মোহাম্মদ সুমন ও মুরশেদ আলম লালশাক, লাউ ও মিষ্টিকুমড়া চাষ করেছিলেন। পাহাড়ি ঢলে তাঁদের আবাদও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাল্লানপাড়া চরের কৃষক মো. রফিক আগাম সবজি চাষের জন্য এনজিও থেকে দুই লাখ টাকা ঋণ নিয়ে তিনখানি জমিতে চাষ করেছিলেন। ধুরুং খালের চরে তাঁর জমিগুলো পাহাড়ি ঢলের স্রোতে ভেঙে ও তলিয়ে গেছে। এতে প্রায় আড়াই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
একই এলাকার কৃষক আশিষ চন্দ্র দাশ ১৬ কানি জমিতে পেঁপে, শসা, বেগুন, মুলা, ফুলকপি, বাঁধাকপি, আলু ও মরিচসহ বিভিন্ন আগাম শীতকালীন সবজি চাষ করেছিলেন তিনি। লক্ষ্য ছিল মৌসুমের শুরুতেই ফসল বিক্রি করে ভালো দাম পাওয়া। চাষাবাদে নিজের অর্থের পাশাপাশি ব্র্যাক থেকে পাঁচ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন আশিষ। সব মিলিয়ে তার বিনিয়োগ ছিল প্রায় নয় লাখ টাকা।
কিন্তু ফসল বিক্রির আগেই আকষ্মিক পাহাড়ি ঢলের পানিতে তলিয়ে গেছে তার অধিকাংশ আবাদ। মাসের পর মাসের শ্রম ও বিনিয়োগ এখন পানির সঙ্গে ভেসে গেছে।
এসব কৃষকদের মতো একই পরিস্থিতিতে পড়েছেন ফটিকছড়ির কাঞ্চননগর ইউনিয়নের আরও দুই শতাধিক কৃষক। তাদের কেউ সঞ্চয়ের টাকা, কেউ এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে আগাম সবজি চাষ করেছিলেন। ফসল বিক্রি করে লাভ করার বদলে এখন তাঁদের ক্ষতির হিসাব কষতে হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জানান,পাহাড়ি ঢলে কাঞ্চননগরের মানিকপুর থেকে কাঞ্চননগরহাট পর্যন্ত ধুরুং খালের দুই পাড়ের চরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কৃষকদের উঠতি ফসল একেবারের নষ্ট হয়ে গেছে। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্থদের তালিকা করে কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।
কৃ/স/জয়
Email : kshomoynews@gmail.com<br></br>
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ কৃষি সময়