
গাজীপুর সংবাদদাতাঃ
গাজীপুরের কাপাসিয়ায় রক মেলন চাষাবাদে ব্যাপক সফলতা পেয়েছেন কামরুজ্জামান খান নামে এক উদ্যোক্তা। ৮বিঘা জমিতে এ চাষাবাদ করে তিনি ইতিমধ্যে ফল বিক্রি শুরু করেছেন। তিনি আশা করছেন এক মৌসুমেই এ বাগান থেকে ৬ থেকে ৭ লাখ টাকার ফল বিক্রির আশা করছেন। কামরুজ্জামান কাপাসিয়া উপজেলার সূর্যনারায়ণপুর গ্রামের বাসিন্দা।
জানা যায়, কাপাসিয়ার তরগাঁও ইউনিয়নের উত্তর খামার এলাকায় বর্গা নেওয়া প্রায় সাড়ে ৮ বিঘা জমিতে আধুনিক পদ্ধতিতে রক মেলনের আবাদ করেছেন তিনি। কৃষি বিভাগের পরামর্শে মালচিং ফিল্ম ব্যবহার করে চাষাবাদ করছেন। এ জমির জন্য প্রতি বিঘায় বছরে ১৫ হাজার টাকা করে বর্গা দিতে হচ্ছে।
সরেজমিন বাগানে গিয়ে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ জমিতে ছড়িয়ে আছে রক মেলনের গাছ। গাছের নিচে বিছানো হয়েছে মালচিং ফিল্ম। কোথাও শ্রমিকরা গাছের পরিচর্যা করছেন, কোথাও ফলধারী লতা মাচায় তুলে দিচ্ছেন। আগাছা পরিষ্কারসহ নানা কাজে ব্যস্ত তারা।
গাছ জুড়ে ঝুলছে তরমুজের মতো দেখতে সারি সারি ফল। কোনোটি সবুজ, কোনোটি হলুদ। কাছে গেলে বোঝা যায়, এগুলো তরমুজ নয়, মরু অঞ্চলের পরিচিত ফল সাম্মাম বা রক মেলন। কাপাসিয়ার মাটিতে নতুন এই ফলের চাষ করে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছেন কামরুজ্জামান। এই বাগান থেকে এরই মধ্যে প্রায় ৫০ হাজার টাকার ফল বিক্রি করেছেন তিনি। বাগানে যেভাবে ফল ধরেছে তাতে পুরো বাগান থেকে ৬ থেকে ৭ লাখ টাকা বিক্রির আশা করছেন তিনি।
কৃষক ও শ্রমিকের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত বাগানে প্রায় এক লাখ টাকা খরচ হয়েছে। এর সঙ্গে জমির বর্গা, শ্রমিকের মজুরি, বীজ, সার, সেচ, মালচিং ফিল্ম, মাচা তৈরি ও অন্যান্য পরিচর্যার খরচ যোগ হলে মোট উৎপাদন ব্যয় আরও বাড়বে।
কাপাসিয়ায় নতুন এ ফলের চাষ ঘিরে আশপাশের কৃষকদের মধ্যেও আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তারা কামরুজ্জামানের বাগানে এসে বিনিয়োগের পরিমাণ, ফলন পেতে সময়, জমির ধরন ও বাজারদর সম্পর্কে খোঁজ নিচ্ছেন।
স্থানীয় কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সাম্মাম উৎপাদনে সাধারণত ৭৫ থেকে ৯০ দিন সময় লাগে। নিয়মিত পরিচর্যা ও সঠিক ব্যবস্থাপনা করা গেলে প্রতি বিঘা জমি থেকে প্রায় ২ থেকে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত বিক্রির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে প্রকৃত আয় ফলন, বাজারদর ও উৎপাদন ব্যয়ের ওপর নির্ভর করবে।
কামরুজ্জামান জানান, নতুন এ ফল চাষে শুরুতে ঝুঁকি থাকলেও ফলন ও বাজারদর তাকে আশাবাদী করেছে। চলতি মাসে পাইকারদের কাছে প্রতি কেজি রক মেলন ৮০ থেকে ১০০ টাকা দরে বিক্রি করেছেন। তবে উৎপাদন বাড়লে দাম কমে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এরই মধ্যে প্রায় ৫০ হাজার টাকার ফল বিক্রি করেছেন। পুরো বাগানের ফল বিক্রি শেষ হলে ৬ থেকে ৭ লাখ টাকা বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। তবে উৎপাদন ব্যয়, ফলন ও বাজারদরের ওপর চূড়ান্ত লাভ নির্ভর করবে।
কাপাসিয়ার অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা সৈয়দ শাকিল আহম্মেদ জানিয়েছেন,কাপাসিয়ার তরগাঁও, টোক, বারিষাব ও সনমানিয়া এলাকার পুরনো ব্রহ্মপুত্র ও শীতলক্ষ্যা নদীর অববাহিকার দোআঁশ মাটি রক মেলন চাষের জন্য উপযোগী। তবে ভালো ফলনের জন্য নিয়মিত পরিচর্যা, সেচ, রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ ও সঠিক সময়ে ফল সংগ্রহ জরুরি। রক মেলনে বেটা-ক্যারোটিন ও ভিটামিন সি ছাড়াও পটাশিয়াম, ফলিক অ্যাসিড, ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম রয়েছে। পুষ্টিগুণের কারণে ফলটির বাজারে চাহিদা তৈরির সম্ভাবনা রয়েছে।
কৃ/স/জয়