প্রিন্ট এর তারিখঃ Sep 26, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Sep 26, 2026 ইং
মাল্টা চাষে শারমিনের বাজিমাত

পাবনা সংবাদদাতাঃ
অনাবাদি জমিতে মাল্টা চাষাবাদ করে ব্যাপক সফলতা পেয়েছেন শারমনি খাতুন নামে এক নারী উদ্যোক্তা। ২ বিঘা জমিতে তিনি এ চাষাবাদ করে এক বছরেই চার লাখ টাকা লাভ করেছেন। এই চাষাবাদে নিজের ভাগ্যর চাকা ঘুরিয়ে এখন সচ্ছল স্বাভল্বী এই নারী। সফল এই নারী উদ্যোক্তা পাবনার চাটমোহর উপজেলার হোগলবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা।
জানা যায়, ২০২১ সালে করোনা মহামারির সময় শারমিনও ঘরে বসে না থেকে কৃষিতে আত্মনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেন। তিনি পাঁচ বছরের জন্য ২ বিঘা লিজ নিয়ে সেখানে জমিতে গড়ে তোলেন ভিয়েতনামী ও বারি-১ জাতের মাল্টার বাগান। পরের বছরই তিনি এখান থেকে সফলতা পেতে থাকেন।
এখন এই উদ্যোক্তার বাগানে সারি সারি গাছে থোকায় থোকায় ঝুলে আছে সবুজ বর্ণের মাল্টা। ফলের ভারে প্রতিটি গাছের ডাল নুয়ে পড়েছে। বাগানের এই মাল্টা আকার, রসালো ও স্বাদের দিক থেকে বাজারের আমদানিকৃত বিদেশি ফলের চেয়ে কোনো অংশে কম নয়। স্থানীয় বাজারে শারমিনের উৎপাদিত ফল বেশ দাপটের সঙ্গেই টেক্কা দিচ্ছে বিদেশি মাল্টাকে।
অনাবাদী জমিতে মাল্টা চাষের এই অভাবনীয় সাফল্য তাকে এনে দিয়েছে অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা, বদলে দিয়েছে জীবনের গল্পও। অভাবনীয় সাফল্যের এই গল্পে তার খ্যাতি এখন ‘মাল্টা ভাবি’ নামে।
শুরুর প্রথম দুই বছর খুব বেশি ফল পাননি শারমিন। নিবিড় পরিচর্যা ও নিয়মিত তদারকিতে গত বছর বাগান ভরে ওঠে ফলে। জমির লিজ খরচ এবং সব ধরনের পরিচর্যা ব্যয় মিটিয়ে প্রথম বছরেই ২ লক্ষাধিক টাকা লাভের মুখ দেখেন। এ বছর ফলন আরও বেড়েছে। শারমিন খাতুন আশা করছেন, এবার সব খরচ বাদ দিয়ে অন্তত ৪ লাখ টাকা লাভ থাকবে তার।
মাল্টার এমন ফলনে প্রতিদিন বহু মানুষ ভিড় করছেন শারমিনের বাগান দেখতে। কেউ আসছেন মাল্টা কেনার জন্য, কেউ দেখতে ও জানতে।
মাল্টা চাষে নিজের সাফল্যর কথা গিয়ে উদ্যোক্তা শারমিন খাতুন জানান, শুরুর দিকে লিজের জমিতে ফল বাগান করা নিয়ে আশপাশের অনেকেই অনেক কটাক্ষ করেছিল। কারণ যে জমিতে সাধারণ ফসল চাষ করে লাভ করা দুঃস্বপ্ন ছিল, সেখানে মাল্টা চাষ করা ছিল বড় ঝুঁকি। তবে তিনি দমে যাননি। গত বছর ভালো লাভ করার পর এবার ৪ লাখ টাকা লাভের আশা করছি। নতুন করে আরও ১ বিঘা জমিতে অস্ট্রেলিয়ান হলুদ জাতের মাল্টার চারা লাগিয়েছি।
চাটমোহর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ কুন্তলা ঘোষ জানান, শারমিন খাতুনের মতো সাহসী উদ্যোগ চাটমোহর উপজেলার কৃষি অর্থনীতিতে নতুন প্রাণ সঞ্চার করেছে। উপজেলা ফল মেলায় শারমিনের বাগানের মাল্টা প্রদর্শন করার পর তা দেখে এলাকার বহু সাধারণ কৃষক এখন মাল্টা চাষে অনুপ্রাণিত হচ্ছেন। কৃষকদের মাঝে এ চাষের বিস্তার লাভে কৃষি বিভাগ সকলকে সহযোগিতা করবে।
কৃ/স/জয়
Email : kshomoynews@gmail.com<br></br>
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ কৃষি সময়