প্রিন্ট এর তারিখঃ Sep 25, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Sep 24, 2026 ইং
ভিয়েতনামী কালো ধান চাষে সফল যুবক

দিনাজপুর সংবাদদাতাঃ
দিনাজপুরে ভিয়েতনামী কালো জাতের ধান চাষে সফলতা পেয়েছেন এক যুবক। তিনি ফেসবুক ইউটিউব দেখে এক বিঘা জমিতে এ ধান চাষাবাদ করেছেন। ইতোমধ্যে তার জমিতে ধান গাছে ভরে গেছে। তিনি আশা করছেন এখান থেকে ৩ লাখ টাকার ধান পাবেন। ধান চাষী এই যুবক রকিবুল হক বোচাগঞ্জ উপজেরার দিঘনবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা। তার দেখাদেখি এলাকার অনেকেই এই ধান চাষের আগ্রহ দেখাচ্ছেন।
জানা যায়,এই যুবক ভিয়েতনামী ধান চাষের জন্য তার বাবার কাছে জমি চান। কিন্তু তার পরিবার নতুন জাতের এই ধান চাষে অভিজ্ঞতা না থাকায় তাকে জমি দেয়নি। বাধ্য হয়ে সে এক বিঘা জমি ১৬ হাজার টাকায় লিজ নেয়। এরপর তিনি গাজীপুর শহরে একটি বীজ ভান্ডার থেকে ৫ কেজি ভিয়েতনাম জাতের কালো ধান বীজ ৪ হাজার ৫শ’ টাকায় কিনে নেন। বীজতলায় চারা তৈরি করে জমিতে রোপন করেছেন। ইতোমধ্যে জমিতে লাগানো ধান বেশ ভালো হয়েছে। জমিতেই এখন দুলছে ভিয়েতনাম জাতের কালো ধানের শীষ। ধান কাটার আগেই এই জাতের ধান ক্ষেত দেখতে ভীড় করছেন এলাকার মানুষজন। তার ক্ষেতে কালো ধান বীজের জন্য আগাম যোগাযোগ করছেন অনেক কৃষক।
জানা যায়,এই ধানের চালে ডায়াবেটিস, স্নায়ুরোগ ও বার্ধক্য প্রতিরোধে কালো চালের উপকারিতার আছে। এতে ভিটামিন, ফাইবার ও মিনারেল রয়েছে।
ধান চাষী রাকিবুল হক জানান, কালো ধান সাধারণত অন্য সব ধানের মতোই চাষ হয়ে থাকে। এই ধান চাষে অতিরিক্ত সার বা পানির প্রয়োজন হয় না। আলাদা কোনো পরিচর্যার প্রয়োজন নেই। প্রথমবার এই ধান চাষে ২০ থেকে ২২ মণ ধান পাওয়ার আশা করছেন। আশানুরূপ ফলন ও ভালো বাজারদর পেলে প্রায় ৩ লাখ টাকার কালো ধান বিক্রি করতে পারবেন।
বোচাগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নয়ন কুমার সাহা বলেন, ‘ব্ল্যাক রাইস বা কালো ধান অ্যান্টি-অঙ্েিডন্ট, অ্যান্থোসায়ানিন, ফাইবার ও আয়রন-সমৃদ্ধ একটি মান সম্পন্ন কালো ধান। পুষ্টি গুণের আধিক্যের কারণে বিশ্বজুড়ে সর্বমহলে কালো রাইসকে ‘সুপারফুড’ বলা হয়। রোগ প্রতিরোধে এই ধানের চাল উৎপাদন করে যদি সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া যায়। দেশের কৃষি বিভাগের অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারবেন।
দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মো. আফজাল হোসেন জানান, আমি গত কয়েক দিন পূর্বে রকিবুল হকের ভিয়েতনাম জাতের কালো ধান ক্ষেত সরেজমিনে পরিদর্শন করেছি। বর্তমানে চাইনিজ রেস্তোরাঁগুলোতে এই চালের কদর অনেক বেশি। আমরা কৃষি বিভাগ রকিবুল হকের সফলতা দেখার অপেক্ষায় রয়েছি। যেনো তাকে অনুসরণ করে আরও অনেক তরুণ ও যুবকের এ ধরনের অধিক মূল্যের চাহিদাসম্পন্ন কালো ধান চাষে আগ্রহী হয়ে ওঠেন।
কৃ/স/জয়
Email : kshomoynews@gmail.com<br></br>
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ কৃষি সময়