প্রিন্ট এর তারিখঃ Sep 25, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Sep 24, 2026 ইং
সম্ভাবনাময় রাবার বাগানে চোরের হানা

বান্দরবান সংবাদদাতাঃ
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে রাবার বাাগানে রাত নাম নামলেই হানা দিচ্ছে চোরের দল। তারা বাগানে ঢুকে রাবার চুরি কওে নিয়ে যাচ্ছে। এতে বাগান মালিকরা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন। গত কয়েক বছর ধরেই চলছে এই কর্মকান্ড। এতে সম্ভাবনাময়ী এই শিল্পটিকে সংকটে ফেলেছে।
জানা যায়,বাইশারীসহ নাইক্ষ্যংছড়ি এলাকায় ৭৬৫টি রাবার বাগান রয়েছে। এসব বাগানের আওতায় প্রায় সাড়ে ১৬ হাজার একর জমি শিল্পীজাত পণ্য চাষের আওতায় এসেছে। এখানকার রাবার শিল্পের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ৮ হাজার শ্রমিক ও অন্যান্যরা যুক্ত।
নাইক্ষ্যংছড়ির বাইশারীতে সম্ভাবনার নতুন দুয়ার খুলেছিল রাবারশিল্প। বিস্তীর্ণ পাহাড়ে গড়ে উঠেছে শত শত রাবার বাগান। তৈরি হয়েছে কারখানা কর্মসংস্থান ও স্থানীয় অর্থনীতির নতুন ক্ষেত্র। কিন্তু গত কয়েক বছর থেকে রাত নামলেই একের পর এক বাগানে ঢ়ুকে রাবার চুরির ঘটনা ঘটছে। র্দীঘদিন ধরে এমন কর্মকান্ড হলেও তা প্রতিরোধে কার্যক্রর কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। এতে বাগান মালিকরা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন। এমন অবস্থায় এরই মধ্যে গাজী গ্রুপ ও মেসার্স বায়েজিদ রাবার প্রসেসিং প্ল্যান্ট বন্ধ হয়ে গেছে।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, রাবার শিল্পের এমন ঝুঁকিতে হুমকিতে পড়ছে বাগানের শ্রমিক, পরিবহনকর্মী প্রক্রিয়াজাতকারী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কর্মসংস্থানও। চুরি, চোরাই রাবারের কেনাবেচা এবং প্রশাসনিক নজরদারির ঘাটতির অভিযোগে শিল্পটির ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বাগান মালিকদের অভিযোগ, সংঘবদ্ধ চোরচক্র বিভিন্ন বাগান থেকে রাবার চুরি করে স্থানীয় ও বাইরের কিছু ক্রেতার কাছে বিক্রি করছে। বারবার স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের সহযোগিতে চেয়েও পাওয়া যাচ্ছে না প্রতিকার। এমন অবস্থায় চোরাই রাবারের বাজার চলমান থাকায় চক্রটি আরও সক্রিয় হয়ে উঠছে।
সরেজমিন পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, বাইশারীর বিস্তীর্ণ পাহাড়ি এলাকায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে অসংখ্য ছোট-বড় রাবারবাগান। রাতের বেলায় এসব বাগানে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ও নজরদারি নেই। বাগান মালিকরা বলছেন, বিস্তীর্ণ পুরো এলাকায় নিরাপত্তাবেষ্টনী স্থাপন সম্ভব নয়। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে সংঘবদ্ধচক্র বাগানে ঢ়ুকে রাবার চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে।
মেসার্স বায়েজিদ রাবার প্রসেসিং প্ল্যান্টের মালিক আবদুর রহিম মনু বলেছেন, রাবার শিল্পের সঙ্গে স্থানীয়ভাবে বহু শ্রমিক ও ব্যবসায়ী জড়িত। চুরি অব্যাহত থাকলে বাগান মালিকদের পাশাপাশি শ্রমিকদের কর্মসংস্থানও সংকুচিত হবে। তার কারখানা থেকে ট্রাকে করে রাবার নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় মামলা করা হলেও এখনো কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায়নি। এতে চোরচক্র আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। পরিস্থিতির চাপ সইতে না পারায় তার কারখানাসহ দুটি কারখানা ইতোমধ্যেই বন্ধ করে দিতে হয়েছে।
বাইশারী রাবার মালিক সমিতির সভাপতি মুহাম্মদ রফিক বশরী বললেন, বাইশারীর বিভিন্ন বাগান থেকে নিয়মিত রাবার চুরি হচ্ছে। চোরাই রাবার একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করা হচ্ছে। এতে বাগান মালিকরা বড় ধরনের লোকসানে পড়েছেন।তিনি বাগান এলাকায় রাতে পুলিশের টহল বাড়ানো এবং চোরাই রাবারের পরিবহন ও বিক্রির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এনামুল হাসান বলেছেন, রাবার চুরি এবং অবৈধ বাজারের বিষয়ে তিনি বিস্তারিত অবহিত নন। খুব শিগগিরই এ বিষয়ে খোঁজ-খবর নিয়ে কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাইশারী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পরিদর্শক মঞ্জুর আহসান জানান, রাবার চুরির ঘটনায় কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
কৃ/স/জয়
Email : kshomoynews@gmail.com<br></br>
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ কৃষি সময়