প্রিন্ট এর তারিখঃ Sep 24, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Sep 24, 2026 ইং
২৫ জনে চলছে জেলার প্রাণিসম্পদ সেবা

পিরোজপুর সংবাদদাতাঃ
পিরোজপুরে তীব্র জনবল সংকটে জেলা সহ সাতটি উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালের কার্যক্রম এখন মুখ থুবড়ে পড়েছে। এখানে ৮৭ কর্মকর্তা-কর্মচারীর পিরীতে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ২৫ জন। সামান্য এই জনবল দিয়ে জেলার বিপুল পরিমাণ প্রাণি সম্পদেও সেবা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। ফলে খামারিরা লাভবান হতে পারছে না।
প্রাণিসম্পদ দপ্তর সুত্রে জানা যায়,এ জেলায় গাভির খামার রয়েছে ৭৪২টি। হৃষ্টপুষ্টকরণ খামার ২১৬টি, ছাগলের খামার ৩৩২টি, মহিষের খামার ২৭টি, লেয়ার মুরগির খামার ৯৯১টি, ব্রয়লার মুরগির খামার ৩১২টি, সোনালি মুরগির খামার ১৭২টি, হাঁসের খামার ১৩৪টি এবং কবুতরের খামার ৩৬টি। ২০২৫-২৬ অর্থবছওে ডেইরী সেক্টর থেকে দুধ উৎপাদন হয়েছে ১ দশমিক ৬১ লাখ মেট্রিক টন, মাংস উৎপাদন হয়েছে ১ দশমিক ২৫ লাখ মেট্রিক টন এবং ডিম উৎপাদন হয়েছে ১৬ দশমিক ৮৭ লাখ। বিপুল পরিমাণ এই ডেইরী এবং পোল্ট্রি খামরের বিপরীতে সেবা দেয়ার দায়িত্বে নিয়োজিত প্রাণি সম্পদ বিভাগের কর্মকতা,কমচারী না থাকায় কাঙ্খিত সেবা মিলছে না।
জানা যায়,জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরে দুজন কর্মকর্তা ও পাঁচজন কর্মচারীসহ মোট সাতটি পদ শূন্য রয়েছে। মাত্র তিনজন জনবল দিয়ে চলছে কার্যক্রম। সদরে ১১টি কর্মকতা,কর্মচারীর বিপরীতে মাত্র দুজন কর্মচারী দিয়ে চলছে কার্যক্রম। জিয়ানগর উপজেলায় কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ আটটি পদই শূন্য। এখানে মাত্র তিনজন দিয়ে চলছে কার্যক্রম। নাজিরপুর উপজেলায় কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ ছয়জন দিয়ে চলছে কার্যক্রম। বাকি প্রায় পাঁচটি পদ শূন্য। মঠবাড়িয়া উপজেলায় কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ আটটি পদই শূন্য রয়েছে। মাত্র তিনজন দিয়ে চলছে কার্যক্রম। ভান্ডারিয়া উপজেলায় কর্মকর্তা-কর্মচারীর ১১টি পদের মধ্যে প্রায় নয়টি পদই শূন্য। মাত্র দুজন জনবল দিয়ে চলছে কার্যক্রম। কাউখালী উপজেলায় কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ আটটি পদ শূন্য রয়েছে। এখানে মাত্র তিনজন জনবল দিয়ে চলছে কার্যক্রম। নেছারাবাদ উপজেলায় কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ আটটি পদ শূন্য রয়েছে। এখানেও মাত্র তিনজন জনবল দিয়ে চলছে কার্যক্রম।
পিরোজপুর সদর উপজেলার কদমতলা এলাকার বাসিন্দা ও খামারি মো. জুলফিকার খান বলেন, আমার প্রায় ২০-২৫টি গরু রয়েছে। পশু অসুস্থ হলে দ্রুত চিকিৎসা পাওয়া খুবই জরুরি। কিন্তু অনেক সময় হাসপাতালে গিয়ে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক বা জনবল পাওয়া যায় না। তখন বাধ্য হয়ে বেসরকারি চিকিৎসকের কাছে যেতে হয়। এতে একদিকে সময় নষ্ট হয়, অন্যদিকে চিকিৎসার জন্য অতিরিক্ত টাকা খরচ করতে হয়।
পিরোজপুর শহরের মন্ডলপাড়া এলাকার বাসিন্দা মাহাবুব হোসেন বলেন, প্রাণিসম্পদ হাসপাতালে সাধারণ মানুষ এসে নিয়মিত চিকিৎসক পাচ্ছেন না। এ কারণে আমরা সেবা পাচ্ছি না। এর মূল কারণ হচ্ছে, এই হাসপাতালে কোনো চিকিৎসক নেই। জানতে পেরেছি, চিকিৎসকের পদ শূন্য। আমরা সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানাই, দ্রুত মেধাবী চিকিৎসক নিয়োগের মাধ্যমে হাসপাতালের শূন্য পদগুলো পূরণ করা হোক।
মঠবাড়িয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোহা. নুর আলম বলেন, এটি একটি বড় উপজেলা। এত বড় উপজেলায় অর্ধেকের কম জনবল নিয়ে সেবা দেওয়া খুবই কঠিন। মাঠপর্যায়ে টিকা প্রদান, ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ও উঠান বৈঠক কার্যক্রমে গতি আসছে না। মাঠপর্যায় থেকে চিকিৎসার জন্য যে খবরগুলো আসে, দ্রুত সময়ের মধ্যে চিকিৎসা দিতে সমস্যা হচ্ছে। তবে এখানে কোনো ওষুধের সংকট নেই। তবুও আমরা নিয়মিত সেবা দেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. তরুণ কুমার সিকদার বলেন, আমাদের জেলা অফিসসহ সাতটি উপজেলায় ব্যাপক জনবল শূন্য রয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ জনবল সংকটের কারণে আমাদের বিশাল কার্যক্রম পরিচালনা কিছুটা বিঘ্নিত হচ্ছে। তারপরও আমাদের যে জনবল রয়েছে, তা দিয়ে মানুষকে সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি। এ ছাড়া আমাদের সদর প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের ভবনটিরও খুবই নাজুক অবস্থা। আশা করি, আমাদের এই জনবল সংকটসহ যেসব সমস্যা রয়েছে, তা দূর হলে অফিসগুলো স্বাভাবিক গতিতে ফিরবে এবং সেবার মান আরও বৃদ্ধি পাবে।
কৃ/স/জয়
Email : kshomoynews@gmail.com<br></br>
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ কৃষি সময়