প্রিন্ট এর তারিখঃ Sep 23, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Sep 23, 2026 ইং
জমজমাট করলার পাইকারি বাজার

জয়পুরহাট সংবাদদাতাঃ
জয়পুরহাটের ক্ষেতলালে পাইকারি বাজারে জমে উঠেছে করলার জমজমাট কেনাবেচা। চাষীরা জমি থেকে করলা তুলে এই বাজারে ভাল দামে বিক্রি করছেন। দুরদুরান্তের পাইকার আসায় দাম পাচ্ছেন চড়া। এতে স্থানীয় চাষীরা সব দিক থেকে লাভবান হচ্ছেন।
ক্ষেতলালের বাখেরা কোমলগাড়ী গ্রামে প্রায় ১৫ বছর ধরে চলছে করলার পাইকারি বাজার। সেখানে সারি সারি করে রাখা হয়েছে করলা ভর্তি ব্যাগ ও প্লাস্টিকের ক্রেট। বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলে বেচাকেনা। কৃষকরা জমি থেকে তোলা করলা নিয়ে আসছেন, আর পাইকাররা তা বাছাই করে ব্যাগ ও ক্রেটে ভরে পিকআপে তুলছেন। পরদিন সকালেই এসব করলা পাঠানো হচ্ছে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার বাজারে। এভাবে প্রতিদিন নিয়ম করে এই বাজার বসে। এতে দূরের হাটে পণ্য নিয়ে যাওয়ার পরিবহন খরচ ও সময়Ñদুটিই সাশ্রয় হচ্ছে তাদের।
কৃষকদের জন্য এই বাজারের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, উৎপাদিত পণ্য বিক্রির জন্য দূরের হাটে যেতে হচ্ছে না। বাখেরা কোমলগাড়ী গ্রাম থেকে সবচেয়ে কাছের চৌমুহনী হাটের দূরত্ব প্রায় তিন কিলোমিটার। সেখানে সপ্তাহে শনিবার ও মঙ্গলবার হাট বসে।
অন্যদিকে ক্ষেতলাল পৌরসভার ইটাখোলা হাট প্রায় ছয় কিলোমিটার দূরে। ফলে প্রতিদিনের উৎপাদন সেখানে নিয়ে যেতে হলে পরিবহন খরচের পাশাপাশি সময়ও ব্যয় হতো।
স্থানীয় কৃষক ও ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতিদিন এই বাজারে প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ মণ করলা কেনাবেচা হয়। বর্তমানে পাঁচ-ছয়জন পাইকার নিয়মিত কৃষকদের কাছ থেকে করলা কিনছেন। উৎপাদন মৌসুমে বাজারটি আরও জমজমাট হয়ে ওঠে|
স্থানীয় বাসিন্দা আলম হোসেন জানান, আশপাশের মাঠে করলার আবাদ বেশি হওয়ায় প্রায় ১৫ বছর আগে কয়েকজন পাইকার এখানে কৃষকদের কাছ থেকে করলা কেনা শুরু করেন। ধীরে ধীরে কৃষকের সংখ্যা ও উৎপাদন বাড়তে থাকায় জায়গাটি করলার পাইকারি কেনাবেচার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
কৃষক উজ্জ্বল হোসেন বলেন,এক মণ করলা ১ হাজার ৭০০ টাকা দরে বিক্রি করেছি। জমি থেকে তুলে কাছেই বিক্রি করতে পারছি। এতে হাটে নিয়ে যাওয়ার খরচ হচ্ছে না, সময়ও বাঁচছে।
স্থানীয় করলার পাইকারি ক্রেতা বাবু মণ্ডল বলেন,প্রতিদিন এখানে ২৫০ থেকে ৩০০ মণ করলা কেনাবেচা হয়। তিনি ও আরও কয়েকজন ব্যবসায়ী কৃষকদের কাছ থেকে করলা কিনে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার বাজারে পাঠান।
কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, করলার মতো দ্রুত পচনশীল সবজির ক্ষেত্রে উৎপাদনের পর দ্রুত বাজারজাত করা গুরুত্বপূর্ণ। গ্রামের কাছেই পাইকারি ক্রেতা থাকায় কৃষক দ্রুত পণ্য বিক্রি করতে পারছেন। এতে পণ্য পরিবহনের সময় কমার পাশাপাশি নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিও কমছে। একই সঙ্গে করলা বাছাই, প্যাকেটজাত, লোডিং-আনলোডিং ও পরিবহনের কাজে স্থানীয় শ্রমিকদের কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে।
ক্ষেতলাল উপজেলার অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা মাসউদ পারভেজ বলেন,উপজেলায় প্রায় ৬০ হেক্টর জমিতে করলার আবাদ হয়েছে। বাখেরা কোমলগাড়ী গ্রামে প্রতিদিন করলার পাইকারি বাজার বসে। এখানে কৃষকরা সহজেই তাদের উৎপাদিত করলা বিক্রি করতে পারছেন এবং ভালো দামও পাচ্ছেন।
কৃ/স/জয়
Email : kshomoynews@gmail.com<br></br>
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ কৃষি সময়