প্রিন্ট এর তারিখঃ Sep 22, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Sep 22, 2026 ইং
মানিকগঞ্জে মাটির উর্বরা শক্তি কমছে

মানিকগঞ্জ সংবাদদাতাঃ
মানিকগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলার মাঠে মাঠে কৃষকরা জমিতে মাত্রাতিরিক্ত রাসায়নিক সার ব্যবহারের ফলে জমির উর্বরা শক্তি আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাচ্ছে। এতে ফসল উৎপাদন যেমন কমছে,তেমনি কৃষকরা অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন।
জেলা কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি আমন ও আগাম সবজি মৌসুমে মানিকগঞ্জে ইউরিয়া ১৫ হাজার ৯১৭ মেট্রিক টন, টিএসপি ৫ হাজার ৪৭০ মেট্রিক টন, ডিএপি ১২ হাজার ২০১ মেট্রিক টন এবং এমওপি ৭ হাজার ২০২ মেট্রিক টন বরাদ্দ রয়েছে। কৃষি বিভাগের দাবি, গত বছরের তুলনায় এবার বরাদ্দ বেশি এবং তা পর্যাপ্ত।
জেলার কয়েকটি উপজেলার প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়,তারা দীর্ঘদিন ধরে জমিতে অধিক ফলন পেতে বেশি সার ব্যবহার করেন। এখন একই পরিমাণ সার ব্যবহার করেও আগের মতো ফলন পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে ফলন বাড়ানোর আশায় এবং সঠিক মাত্রা সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণে কেউ কেউ প্রয়োজনের তুলনায় বেশি সার প্রয়োগ করছেন।
সঠিক মাত্রা না জেনে অতিরিক্ত সার প্রয়োগে মাটির উর্বরতা শক্তি আশঙ্কাজনক হারে কমে পাচ্ছে। অন্যদিকে, জৈবসারের ব্যবহার কমে যাওয়ায় মাটির স্বাস্থ্য নিয়েও তৈরি হয়েছে বড় ধরনের উদ্বেগ।
কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের গাজীপাড়া এলাকার কৃষক সাগর গাজী মনে করেন, আগাম সবজি চাষে সারের প্রয়োজন বেশি হয়। বিশেষ করে বর্ষাকালে ঘন ঘন বৃষ্টিতে জমিতে দেওয়া সার ধুয়ে যায়। ফলে একবার সার প্রয়োগ করলেই হয় না, কয়েক দফায় সার দিতে হয়।
একই এলাকার কৃষক মিশুক গাজী বলেন, ছয় বছর আগে ৫০০ শতাংশ জমিতে যেখানে প্রায় ১০ মণ সার লাগত, এখন একই জমিতে প্রায় ১২ মণ সার প্রয়োজন হচ্ছে। একই জমিতে বারবার ফসল চাষের কারণে সারের প্রয়োজন বাড়ছে।
বর্তমানে জেলার প্রায় প্রতিটি ইউনিয়নেই আমন ধানের আবাদ এবং আগাম সবজি চাষের প্রস্তুতি চলছে। এসব ফসলে ইউরিয়া, টিএসপি, ডিএপি ও এমওপি সারের চাহিদা রয়েছে।
ব্যাপক চাহিদার বিপরীতে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাড়তি দামে সার বিক্রি এবং নিম্নমানের সারের অভিযোগও করেছেন কয়েকজন কৃষক। তাদের অভিযোগ, চাহিদার সুযোগ নিয়ে কোনো কোনো পরিবেশক নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রি করছেন।
আটিগ্রাম ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা জেসমিন জেরিন বলেন, জমিতে জৈব পদার্থের পরিমাণ যেখানে ৫ থেকে ৭ শতাংশ থাকার কথা, সেখানে অনেক জমিতে তা ৫ শতাংশের নিচে নেমে গেছে। জৈবসার ব্যবহার কমে যাওয়ায় মাটির উর্বরতা কমছে। ফলে কৃষকেরা বেশি পরিমাণে রাসায়নিক সার ব্যবহার করছেন এবং এর চাহিদাও বাড়ছে। এতে কৃষকের উৎপাদন খরচ বাড়ার পাশাপাশি মাটির গুণাগুণও নষ্ট হচ্ছে।
কৃষি গবেষক বিল্লাল হোসেন বলেন, অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ব্যবহারের ফলে মাটির উপকারী অণুজীব দিন দিন কমে যাচ্ছে। মাটির স্বাস্থ্য রক্ষায় রাসায়নিক সারের পাশাপাশি জৈবসার ব্যবহারে জোর দিতে হবে। না হলে মাটির ক্ষতি হয়ে যাবে। ফসল উৎপাদনের মার খাবে কৃষক। এ জণ্য সার ব্যবহারে কৃষকদেও সচেতন করা জরুরী।
কৃ/স/জয়
Email : kshomoynews@gmail.com<br></br>
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ কৃষি সময়