প্রিন্ট এর তারিখঃ Sep 18, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Sep 18, 2026 ইং
ভাসমান হাটে জমজমাট সবজি কেনাবেচা

বাগেরহাট সংবাদদাতাঃ
খালের বুকে সারি সারি নৌকা বেধে তার উপর বসানো হয়েছে বাজার। এসব নৌকায় থরে থরে সাজানো টাটকা সবজি। কোথাও শসা, লাউ ও করলা; আবার কোথাও চালকুমড়া, মিষ্টিকুমড়া, ঝিঙে ও বড়বটি।
কৃষকের হাঁকডাক আর পাইকারদের দরদামে ভোর থেকেই মুখর হয়ে ওঠে চারপাশ। শত বছর ধরে ভাসমান এমন সবজি হাট চলছে বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার গজালিয়া শতবর্ষী ভাসমান সবজি হাট।
সরেজমিনে দেখা যায়, সকালের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গেই গজালিয়া খালে শুরু হয় ব্যস্ততা। আশপাশের গ্রামের কৃষকেরা নিজেদের জমিতে উৎপাদিত সবজি নৌকায় করে হাটে নিয়ে আসেন। খালের বিভিন্ন স্থানে নৌকা নোঙর করে শুরু হয় বেচাকেনা।
সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে নৌকার সংখ্যা। একপর্যায়ে খালের দুই পাড় ও মাঝখানজুড়ে তৈরি হয় নৌকার সারি। কোনো নৌকায় সবজি ওজন করা হচ্ছে, কোনো নৌকায় চলছে দরদাম, আবার কোনো নৌকা থেকে মুহূর্তেই সবজি তুলে নেওয়া হচ্ছে পাইকারি নৌকা বা ট্রলারে।
এভাবে এই বাজারে মাত্র চার ঘণ্টার মধ্যেই চলে প্রায় ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকার সবজি বেচাকেনা। পুরো মৌসুমে যার পরিমাণ দাঁড়ায় চার কোটি টাকার বেশি।
সপ্তাহের প্রতি রোববার ও বুধবার গজালিয়া খালের ওপর বসে এই ব্যতিক্রমী বাজার। নৌকাই এখানে দোকান, আর খালের বুকই হয়ে ওঠে বাজারের মূল বেচাকেনার স্থান।
শুধু বাগেরহাট নয়, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বরগুনা, চাঁদপুরসহ বিভিন্ন জেলা থেকে নৌকা ও ট্রলার নিয়ে পাইকারি ব্যবসায়ীরা এই হাটে আসেন।
কৃষকের জমির টাটকা সবজি নৌপথে সরাসরি পৌঁছে যায় পাইকারদের হাতে। পরে এসব সবজি ছড়িয়ে পড়ে দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন বাজারে। ফলে একদিকে কৃষক দ্রুত তার উৎপাদিত পণ্যের বাজার পান, অন্যদিকে পাইকাররাও এক জায়গা থেকে বড় পরিমাণ সবজি সংগ্রহের সুযোগ পান।
স্থানীয় কৃষক রাজ্জাক মোল্লা বলেন, ‘আমরা নিজের জমিতে বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করি। হাটের দিনে নৌকায় করে সবজি নিয়ে আসি। পাইকাররা সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে কিনে নেন। ফলে দ্রুত পণ্য বিক্রি হয়ে যায় এবং পরিবহন খরচও তুলনামূলক কম।
পিরোজপুরের ব্যবসায়ী সালাম হালাদার বলেন, ‘গজালিয়ার হাটে একসঙ্গে অনেক ধরনের টাটকা সবজি পাওয়া যায়। কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি কেনার সুযোগ থাকায় আমরা এখান থেকে বড় পরিসরে সবজি সংগ্রহ করতে পারি। পরে এসব সবজি পিরোজপুরসহ বিভিন্ন এলাকার বাজারে নিয়ে বিক্রি করি।
বাগেরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মোতাহার হোসেন বলেন, গজালিয়ার ভাসমান সবজি হাট স্থানীয় কৃষি অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কৃষকের উৎপাদিত সবজি দ্রুত পাইকারদের মাধ্যমে বিভিন্ন এলাকায় পৌঁছে যাচ্ছে। এতে কৃষক যেমন বাজার পাচ্ছেন, তেমনি ভোক্তার কাছেও দ্রুত তাজা সবজি পৌঁছাচ্ছে। মৌসুমে এ হাটে চার কোটি টাকার বেশি সবজি বেচাকেনা হয়। তবে হাটটির অবকাঠামোগত কিছু সমস্যা রয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তিতে সবজি চাষ ও বাজারজাতকরণে আরও সহায়তা দেওয়ার কথা জানান তিনি।
কৃ/স/জয়
Email : kshomoynews@gmail.com<br></br>
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ কৃষি সময়