প্রিন্ট এর তারিখঃ Sep 17, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Sep 17, 2026 ইং
সুপারি চাষে সমৃদ্ধ গ্রামীণ অর্থনীতি

বরিশাল সংবাদদাতাঃ
বরিশাল বিভাগের প্রায় প্রতিটি জেলা উপজেলায় চাষাবাদ হচ্ছে সুপারি। বাড়ির আঙিনা থেকে জমির আইল। সুপারির চাষাবাদ বিস্তৃতি লাভ করেছে। এখানকার উৎপাদিত সুপারি যাচ্ছে সারা দেশে। কোন ধরনের বাড়তি খরচ ছাড়া এই চাষাবাদ থেকে স্থানীয়রা আয় করছেন বিপুল পরিমাণ অর্থ। যা এখানকার গ্রামীণ অর্থনৈতিকে সমৃদ্ধ করেছে।
কৃষি বিভাগের তথ্যনুর্যায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বরিশাল বিভাগের ৬ জেলায় মোট ২২ হাজার ৮৪৬ হেক্টর জমিতে সুপারি আবাদ হয়েছে। এসব জমি থেকে উৎপাদন হয়েছে ১ লাখ ৮ হাজার ৬৬৬ দশমিক ২ মেট্রিক টন সুপারি। এরমধ্যে ভোলা জেলায় সবচেয়ে বেশি সুপারি উৎপাদন হচ্ছে। এখানে প্রায় ১৩ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে সুপারি আবাদ হয়েছে। আর এ থেকে উৎপাদন হয়েছে প্রায় ৬৮ হাজার মেট্রিক টন। বিভাগের মোট উৎপাদনের বড় একটি অংশই আসছে এ জেলা থেকে। পিরোজপুর জেলা সুপারি উৎপাদনে এর পরের অবস্থানে রয়েছে। এ জেলায় ৪ হাজার ৫৭৯ হেক্টর জমিতে উৎপাদন হয়েছে প্রায় ১৭ হাজার ৭১ মেট্রিক টন সুপারি। পটুয়াখালীতে ১ হাজার ৫৪৮ হেক্টর জমিতে উৎপাদন হয়েছে ১৫ হাজার ৩৩৯ মেট্রিক টন। বরগুনায় ৮১০ হেক্টর জমিতে উৎপাদন হয়েছে প্রায় ৫ হাজার ৬৭০ মেট্রিক টন।
উর্বর মাটি ও অনুকূল আবহাওয়ায় উৎপাদিত সুপারি বরিশাল বিভাগের জেলাগুলোর অন্যতম প্রধান অর্থকরী ফসল। দেশের দক্ষিণাঞ্চালের গ্রামীণ অর্থনীতির একটি বড় চালিকাশক্তি এ সুপারি।
এখানকার প্রায় প্রতিটি এলাকায় দেখা মেলে গ্রামীণ জনপদের বাড়ির আঙিনা, বসতভিটা কিংবা গ্রামের রাস্তার দুই পাশে সারি সারি সুপারি গাছ। সুপারি বাগানের এ মনোরম দৃশ্য যেন বাংলার চিরচেনা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য।
একসময় পারিবারিক চাহিদা মেটাতেই বাড়ির আঙিনায় সুপারি গাছ লাগানো হতো। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সেই সুপারি এখন অনেক পরিবারের বাড়তি আয়ের অন্যতম উৎসে পরিনত হয়েছে। শুধু বসতভিটা নয়, বাণিজ্যিকভাবেও বাড়ছে সুপারি চাষাবাদ। ফলে বরিশাল অঞ্চলের গ্রামীণ অর্থনীতিতে সম্ভাবনাময় অর্থকরী ফসল হিসেবে ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে সুপারি চাষাবাদ।
এ চাষাবাদের জন্য আলাদা কৃষিজমির প্রয়োজন হয় না। বাড়ির আঙিনা, পুকুরপাড়, বসতভিটার ফাঁকা জায়গা কিংবা জমির আইলজুড়েও গড়ে ওঠে সুপারি বাগান। ফলে বাড়তি জমি ব্যবহার না করেই অনেক পরিবার দীর্ঘমেয়াদে এ গাছ থেকে বেশ ভালো আয় করার সুযোগ পাচ্ছেন।
রুহুল আমিন নামে এক সুপারি বাগান মালিক জানান,তার বাড়ি এবং পুরের চারদিকে ৬ শতাধিক সুপারি গাছ রয়েছে। এ থেকে প্রতি বছর তিনি কয়েক রাখ টাকার সুপারি বিক্রি করে আয় করে থাকেন। যা তার সংসারের চাহিদা মিটিয়েও লাভবান করছে। এ চাষাবাদে তার তেমন কোন খরচ হচ্ছে না।
সুপারি উৎপাদনকে ঘিরে শুধু কৃষকরাই নন, স্থানীয় ব্যবসায়ী, পাইকার, আড়তদার, শ্রমিক ও পরিবহন সংশ্লিষ্টরাও যুক্ত। মৌসুমে বিভিন্ন গ্রাম থেকে সুপারি সংগ্রহ করে ব্যবসায়ীরা তা স্থানীয় হাট-বাজার ও আড়তে নিয়ে যান। পরে সেখান থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এসব সুপারি সরবরাহ করা হয়। ফলে একটি সুপারি গাছ শুধু একটি পরিবারের আয়ের উৎস নয়, এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে একটি বড় সরবরাহব্যবস্থাও। উৎপাদন, সংগ্রহ, পরিবহন, বেচাকেনাÑপ্রতিটি ধাপেই তৈরি হচ্ছে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড।
বরিশাল বিভাগীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বরিশাল বিভাগের মাটি ও আবহাওয়া সুপারি চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। বসতভিটা ও বাণিজ্যিকভাবে সুপারি চাষের কারণে এ অঞ্চলে এর উৎপাদন ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব দু’টিই বাড়ছে। উন্নত জাতের চারা, সঠিক পরিচর্যা, রোগবালাই ব্যবস্থাপনা এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে উৎপাদন আরও বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি উৎপাদিত সুপারি সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া গেলে এ ফসল গ্রামীণ অর্থনীতিতে আরও বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
কৃ/স/জয়
Email : kshomoynews@gmail.com<br></br>
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ কৃষি সময়