প্রিন্ট এর তারিখঃ Sep 14, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Sep 14, 2026 ইং
তরমুজ চাষে খোরশেদের ভাগ্য বদল

মৌলভীবাজার সংবাদদাতাঃ
ফেসবুক,ইউটিউব দেখে আগ্রহ করে তরমুজ চাষাবাদ করে ব্যাপক সফলতা পেয়েছেন খোরশেদ আলম নামে এক তরুন উদ্যোক্তা। ৩ বিঘা জমিতে এই চাষাবাদ করে ৩ মাসেই তিনি খরচ বাদে ৫ লাখ টাকা লাভের আশা করছেন। যা এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। খোরশেদ মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার গোয়ালবাড়ী ইউনিয়নের ডোমাবাড়ি গ্রামের পরিবেশ ও সংবাদকর্মী।
জানা যায়,৫ বছর আগে সখের বসে মাত্র ৬ শতাংশ জমিতে পরীক্ষামূলক হলুদ তরমুজ চাষাবাদ করেন এই উদ্যোক্তা। ফলন ভালো হওয়ায় এবং বাজারে চাহিদা থাকায় ধীরে ধীরে বাণিজ্যিক চাষের দিকে ঝুঁকে পড়েন তিনি। এবার ৩ বিঘা পতিত জমিতে ল্যানফে, সূর্যডিম, সানগোল্ড, লিয়োনা, রবি, সাম্মাম মার্লিন ও হ্যানিডিউ মেলন জাতের হলুদ তরমুজ চাষ করেছেন খোর্শেদ। এখন তার জমির গাছে সারি সারি হলুদ তরমুজ ধরেছে।
একসময় ধান কাটার পর বছরের বেশির ভাগ সময় এই জমি পতিত পড়ে থাকত। সেখানে এখন সবুজের সমারোহ। মাটির ওপর বিছিয়ে থাকা লতাগুল্মের ফাঁকে ফাঁকে উঁকি দিচ্ছে হলুদ রঙের বাহারি তরমুজ। বাগানের চারপাশে ভিড় করছেন উৎসুক মানুষ।
কেউ আসছেন শুধু বাগান দেখতে, কেউ তুলছেন ছবি। আবার কেউ পরিবারের জন্য কিনে নিয়ে যাচ্ছেন ১০-১৫টি করে। অনেকের কাছেই হলুদ তরমুজ দেখা কিংবা খাওয়ার অভিজ্ঞতা এবারই প্রথম।
তরমুজ চাষের উদ্যোক্তা খোরশেদ আলম জানান, সখ করে এই চাষাবাদ শুরু করেছিলাম। এখন সেটি বাণিজ্যিক আকার ধারন করেছে। হলুদ তরমুজ শীত মৌসুমের ফসল। চাষের মাত্র তিন মাসের মধ্যেই ফলন পাওয়া যায়। চলতি মৌসুমে তাঁর প্রায় ৩ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। ভালো ফলন হওয়ায় এবার ৮ থেকে ৯ লাখ টাকা বিক্রির আশা করছেন তিনি।
গত মৌসুমের অভিজ্ঞতাও তাঁকে আরো উৎসাহিত করেছে। প্রায় ৩ লাখ টাকা ব্যয়ে তরমুজ চাষ করে প্রায় ৮ লাখ টাকার ফল বিক্রি করেছিলেন তিনি। অর্থাৎ তিন মাসের একটি ফসল থেকে প্রায় ৫ লাখ টাকা আয় হয়।
জুড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদুল আলম বলেন, ল্যানফাই জাতের হলুদ তরমুজ চাষ জুড়ীতে ইতিমধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। প্রতিদিন শত শত কৃষক ও দর্শনার্থী বাগানটি দেখতে আসছেন। ল্যানফাই জাতের হলুদ তরমুজ একটি উচ্চমূল্যের হাইব্রিড জাত। উৎপাদন পদ্ধতি অনেকটা দেশি তরমুজের মতো। এতে অ্যান্টিঅঙ্েিডন্ট, ভিটামিন এ ও সি রয়েছে এবং ফলটি বেশ মিষ্টি। জুড়ীর মাটি ও আবহাওয়া এ জাতের তরমুজ চাষের জন্য উপযোগী। কৃষি বিভাগের প্রশিক্ষণ ও মাঠপর্যায়ের সহযোগিতাকে এই সাফল্যের অন্যতম কারণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, তরুণরা আগ্রহী হলে কৃষি অফিস থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ, প্রশিক্ষণ ও সহযোগিতা দেওয়া হবে।
কৃ/স/জয়
Email : kshomoynews@gmail.com<br></br>
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ কৃষি সময়