
ময়মনসিংহ সংবাদদাতাঃ
বাড়ির আঙিনায় দেশি বিদেশি হরেক প্রজাতির ফলের বাগান গড়ে সাফল্য পেয়েছেন কাজিম উদ্দিন নামে এক স্কুল শিক্ষক। নতুন নতুন ফলের জাত সংগ্রহ,সংরক্ষণ করে তার বাড়িকে রুপ দিয়েছেন‘কৃষির জার্মপ্লাজম’। যেখানে রয়েছে শতাধিক দেশি বিদেশি ফলের গাছ। এই শিক্ষকের দেখাদেখি এলাকার অনেকেই ফল চাষাবাদে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। সফল এই ফল চাষীর বাড়ি ময়মনসিংহের ফুলবাড়ী উপজেলার অনন্তপুর গ্রামে।
জানা যায়,এই স্কুল শিক্ষক তার বাড়ির আঙিনায় ১৭ শতক জমিতে ২০২১ সখের বসে গড়ে তুলেছেন ফল বাগান। প্রথমে মাল্টা বাগান পড়ে সাফল্য পেলে ধীরে ধীরে সেখানে বিভিন্ন ফলের চারা লাগান। বর্তমানে তার বাড়ির আঙিনায় ফল বাগানে রয়েছে থাইল্যান্ডের বারমাসি আঠা বিহীন কাঁঠাল, অষ্ট্রোলিয়ার বারমাসি হলুদ মাল্টা, সাদা জাম,রামবুটান, মিষ্টি তেতুল, সৌদি খেজুর, রুবি লঙ্গান, ভ্যালেজ, মুন্ড্রপ, গ্রীন লং ডিঙ্ন,দাসোনিয়া, মার্সেল ফোর্স, চয়ন, কারডিনাল, আল ফনস, দোবস্কি, বাই কুনুর আঙ্গুর, আনার- ই শাহী, বিদেশী থার্টি ওয়ান, ট্রান্সফিগারেশনসহ ৩০ এর অধিক জাতের আঙ্গুর। চেঙ্মাই, মিয়াজাকি, কিউজাকি, কাটিমনসহ ২০ এর অধিক জাতের আম রয়েছে। এছাড়াও এভকাডো, কাট বাদাম, শরিফা, অস্ট্রেলিয়ান মাল্টা, মিশরীয় মাল্টা, বারি-১, ভিয়েতনামি১২ মাসি মাল্টা, করমচা, বারোমাসি কদবেল, বারোমাসি আমড়া, মিশরিয় আনার, পাকিস্তানি আনার রয়েছে। ফিলিপাইনি লাল ও কালো আখ, চেরি ফলের গাছও রয়েছে। এছাড়াও বাড়ির পাশে বাণিজ্যিক ভাবে ১ একর জমিতে কলম্বো ও সিডলেস লেবু, প্রায় ৩ একর জমিতে মাল্টা ও ১৫ শতক জমিতে ভিয়েতনামি ও বারি ৪ জাতের কাঠাল বাগান গড়ে তুলেছেন।
ফুলবাড়িয়া উপজেলা সদর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে রাঙ্গামাটিয়া ইউনিয়নের পাহার অনন্তপুর গ্রামে মো. কাজিম উদ্দিন মাস্টারের বাড়ি। বাড়ির আঙিনায় তার এই ফুল ও ফলের বাগানের নাম দিয়েছেন ‘মাস্টার বাড়ি মিশ্র ফল বাগান’।
বাড়ির আঙিনায় শখের ফল বাগানে সাফল্যতায় তিনি বাড়ির আশপাশে প্রায় ৫ একর জমিতে গড়ে তোলেছের বাণিজ্যিক ভাবে মাল্টা, লেবু ও বারি জাতের কাঠালসহ বিভিন্ন ফলের বাগান। গ্রামের মানুষের কাছে এখন কাজিম উদ্দিন মাস্টার শিক্ষকের পাশাপাশি ‘আর্দশ কৃষক’ হিসেবে বেশ পরিচিত।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা তাঁর ফল বাগান মাঝে মধ্যে পরিদর্শনে আসেন ও গবেষণা করেন। নিজেকে সুস্থ্য রাখতে সৃজনশীল চিন্তায় তিনি বাড়ির আঙিনায় ফুল ও ফলের বাগান গড়ে তোলেন। বাগানে দেশী-বিদেশী ফলদ গাছের সবুজ আবরনে সেজেছে পরিপূর্ণ নৈপুণ্যতায়। গ্রামের ভিতরে এ যেনো এক ব্যতিক্রমী ফলের উদ্যান।
গ্রামের মানুষের কাছে এখন কাজিম উদ্দিন মাস্টার শিক্ষকের পাশাপাশি ‘আর্দশ কৃষক’ হিসেবে বেশ পরিচিত।
উল বাগানের উদ্যোক্তা মো. কাজিম উদ্দিন মাস্টারের জানান, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুশয্যায় চলে গিয়েছিলাম। দীর্ঘ চিকিৎসা শেষে সুস্থ্য হওয়ার পরও বিষন্নতায় ভোগছিলাম। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকে পরামর্শে নিজেকে সুস্থ্য রাখতে বাড়ির আঙিনায় ফুল ও ফলের বাগান করে নিজেই পরিচর্যা করি।
ফুলবাড়িয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নূর মোহাম্মদ জানান,কাজিম উদ্দিন মাস্টার একজন শিক্ষিত সৌখিন কৃষক। কৃষির প্রতি তার অনেক আগ্রহ। নতুন ধরণের জাত সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করেন। তার বাড়ির আঙিনা যেন ‘কৃষির জার্মপ্লাজম’।
কৃ/স/জয়