প্রিন্ট এর তারিখঃ Sep 13, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Sep 13, 2026 ইং
২০০ কোটি টাকার কলা বিক্রির আশা

দিনাজপুর সংবাদদাতাঃ
দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার দশ মাইলের কলার হাটে বছরে ২শ কোটি টাকার কলা বিক্রি হয়। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পাইকার এই হাট থেকে কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। ঢাকায় ফুটপাতের দোকান উচ্ছেন হওয়ায় এই হাটে কলার দর পতন হয়েছে। এতে চাষীরা তেমন একটা লাভবান হতে পারছেন না।
কাহারোল উপজেলার ঢাকা-দিনাজপুর-ঠাকুরগাঁও মহাসড়কের পাশে দশ মাইল মোড়ে কলার হাট বসে দীর্ঘদিন ধরে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা পাইকার আর কলা চাষীদের উপস্থিতিতে এই হাট এখন জমজমাট।
দশমাইল কলার হাটে দেখা যায়, হাটজুড়ে সারি সারি কলার কাঁদি সাজানো রয়েছে। ভোর থেকে দিনাজপুরের ১৩ উপজেলাসহ ঠাঁকুরগাও, পঞ্চগড়, নীলফামারী জেলার কলা চাষি ও ব্যবসায়ীরা ভ্যান ও বিভিন্ন যানবাহনে করে কলা নিয়ে আসছেন। পাইকারদের সঙ্গে দর-কষাকষির পর অনেক ক্ষেত্রেই ভ্যানের ওপর থেকেই কলা বিক্রি হয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয় চাষীরা জানান, এবার প্রতিটি কলার কাঁদি প্রকার ভেদে ১০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত কম দামে বিক্রি হচ্ছে। এর কারন হিসাবে তারা বলছেন,ঢাকায় ফুটপাতের দোকান উচ্ছেদের কারনে এই দও পতন।
উত্তরাঞ্চলের মধ্যে সবচেয়ে বড় এই হাটে প্রতিদিন গড়ে কোটি টাকার ওপর কাঁচা কলা বিক্রি হয়। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা পাইকাররা এখান থেকে কলা কিনে ট্রাকে করে ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে যান। জুলাই থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত প্রতিদিন এই হাটে কলা বেচা কেনা হবে।
চাষী,হাটের ইজারাদার,পাইকারদের সাথে কথা বলে জানা যায়,চার মাসে দিনাজপুরে থেকে ১২০ কোটি টাকা এবং অন্যান্য জেলা থেকে আসা কলা ৮০ কোটি টাকায় কেনাবেচা হয়ে থাকে হাটে। সব মিলিয়ে মৌসুমে দশ মাইলের কলাহাটে ২০০ কোটি টাকার কলা বিক্রি হয়। বিশাল এই হাটে ভাল দামে কলা বিক্রির সুেেযাগ থাকায় চাষীদের বাড়তি খরচ করে দুরে যেতে হচ্ছে না। তাছাড়া এই হাট ঘিরে স্থানীয় অনেকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিদিন কয়েকশ শ্রমিক কলা বাছাই, পরিবহন ও ট্রাকে ওঠানোর কাজে যুক্ত থেকে আয় করছেন অনেক শ্রমিক।
কাহারোল উপজেলার গুড়নুরপুর গ্রামের কৃষক নুরুল ইসলাম লাইজু এবার ৫২ শতক জমিতে কলা চাষ করেছেন। তিনি জানান, দশ মাইলের হাটে ১০০টি কলার কাঁদি এনে ৪৬ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন। সব মিলিয়ে তার জমি থেকে প্রায় দুই লাখ টাকার বেশি কলা বিক্রি হবে বলে আশা করছেন।
জানা যায়,চলতি বছর দিনাজপুরে ১ হাজার ২৫৯ হেক্টর জমিতে কলা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। তবে অনুকূল আবহাওয়া ও বাজারে ভালো চাহিদার কারণে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে কলাচাষ হয়েছে।
ঢাকার ব্যবসায়ী মো. নিয়ামুল ইসলাম জানান, ভালো মানের কলার দাম তুলনামূলক বেশি। তিনি প্রতিদিন দশ মাইলের হাট থেকে তিন থেকে চার ট্রাক কাঁচা কলা কিনে ঢাকায় পাঠাচ্ছেন। ঢাকায় ফুটপাত থেকে ভাসমান দোকান উচ্ছেদে অভিযান চলছে। এই দোকানগুলোতে কলা রুটি সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়। দোকানগুলো না থাকায় রাজধানীতে কলার চাহিদা কমেছে।
দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) মো. আনিছুজ্জামান বলেন, এবছর দিনাজপুরে ১২৫৯ হেক্টর জমিতে কলার চাষ হয়েছে। দিনাজপুরের মাটি উঁচু হওয়ায় কলা স্বাদে গন্ধে অতুলনীয়, সে কারণে দেশজুড়ে দিনাজপুরের কলার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। আশা করা হচ্ছে দশমাইল কলার হাটে ৪ মাসে প্রায় ২০০ কোটি টাকার কলা কেনাবেচা হবে।
কৃ/স/জয়
Email : kshomoynews@gmail.com<br></br>
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ কৃষি সময়