প্রিন্ট এর তারিখঃ Sep 13, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Sep 13, 2026 ইং
ঝিনুক-কোরাল মিশ্র চাষে সফলতা

কঙ্বাজার সংবাদদাতাঃ
কঙ্বাজারে ভাসমান খাঁচায় সবুজ ঝিনুক ও সামুদ্রিক কোরাল মাছের মিশ্র চাষাবাদ করা হচ্ছে । এ পদ্ধতি স্থানীয় বেকার যুবকদের বিকল্প আয়ের পথ দেখানোর পাশাপাশি সামুদ্রিক সম্পদের টেকসই ব্যবহারের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
কঙ্বাজার সদর উপজেলার খুরুশকুল বাঁকখালী নদীর মোহনায় পরীক্ষামূলকভাবে ভাসমান ভেলার এই মিশ্র মাছের খামার গড়ে তোলা হয়েছে। যেখানে বাঁশ, দড়ি ও প্লাস্টিকের ড্রাম দিয়ে তৈরি ভাসমান কাঠামোর নিচে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে সবুজ ঝিনুকের বীজ। জোয়ার-ভাটার প্রাকৃতিক স্রোত ও নোনাজলের অনুকূল পরিবেশে অতিরিক্ত কোনও প্রযুক্তি ছাড়াই বেড়ে উঠছে ঝিনুক। এ চাষাবাদ ইতিমধ্যে স্থানীয়দের মাঝে বেশ সাড়া ফেলেছে।
একই কাঠামোর সঙ্গে জালের খাঁচা তৈরি করে চাষ করা হচ্ছে উচ্চমূল্যের সামুদ্রিক কোরাল মাছ। বড় আকারের এসব খাঁচায় কোরাল মাছের পোনা ছাড়া হয়। নিয়মিত খাবার ও পরিচর্যার মাধ্যমে কয়েক মাসের মধ্যেই মাছগুলো বিক্রিযোগ্য আকার ধারণ করে। বাজারে কোরাল মাছের তুলনামূলক বেশি দাম থাকায় এ খাতেও লাভের সম্ভাবনা দেখছেন উদ্যোক্তারা।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সাধারণত কয়েক মাসের মধ্যেই ঝিনুক বাজারজাত করার উপযোগী হয়ে ওঠে। দেশে পুষ্টিকর সামুদ্রিক খাদ্য হিসেবে এর চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে। ভবিষ্যতে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন বাড়ানো গেলে স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি বিদেশেও রফতানির সুযোগ তৈরি হতে পারে।
খাঁচায় মাছ চাষি শহীদুল ইসলাম বাবু বলেন, ‘আগে আমরা মূলত মাছ ধরার ওপর নির্ভরশীল ছিলাম। কিন্তু আবহাওয়া খারাপ থাকলে বা মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা এলে আয় বন্ধ হয়ে যেতো। এখন ভাসমান ভেলায় ঝিনুক ও কোরাল মাছ চাষ করে নিয়মিত আয় হচ্ছে। সঠিক প্রশিক্ষণ ও সরকারি সহযোগিতা পেলে এই চাষ আরও বড় পরিসরে করা সম্ভব।’
সবুজ ঝিনুক চাষি আনোয়ার মিয়া জানান,২০১৮ সালে সর্বপ্রথম সবুজ ঝিনুক (গ্রিন মাসেল) ভাসমান ভেলায় চাষ শুরু করি। এতে প্রতি বছরই লাভের মুখ দেখেছি। ব্যাপক সফলতা এসেছে। প্রচলিত মাছ ধরার ওপর নির্ভরশীলতার পাশাপাশি এ ধরনের আধুনিক চাষাবাদ বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি করেছে।
এই চাষাবাদ প্রকল্পটি অর্থায়ন করছে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) এবং বাস্তবায়ন করছে ইন্টিগ্রেটেড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (আইডিএফ)। প্রকল্পের আওতায় স্থানীয় চাষিদের প্রশিক্ষণ, কারিগরি সহায়তা এবং আধুনিক সামুদ্রিক চাষাবাদ বিষয়ে সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আইডিএফের মৎস্য কর্মকর্তা মুহাম্মদ হাসান বলেন, ‘বাংলাদেশের দীর্ঘ সমুদ্র উপকূল ও সমুদ্রসম্পদকে কাজে লাগিয়ে ব্লু-ইকোনমির যে পরিকল্পনা সরকার গ্রহণ করেছে, ভাসমান ভেলায় ঝিনুক ও কোরাল মাছ চাষ সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে এটি খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক অবদান রাখবে। বাংলাদেশে ভাসমান ভেলায় সবুজ ঝিনুক ও সামুদ্রিক মাছ চাষের সম্ভাবনা অত্যন্ত উজ্জ্বল। উপকূলীয় এলাকায় পর্যাপ্ত নোনাজল ও অনুকূল পরিবেশ থাকায় এই খাত দ্রুত সম্প্রসারণ করা সম্ভব। সরকার, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং বেসরকারি সংস্থাগুলোর সমন্বিত সহযোগিতা পাওয়া গেলে এটি উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জন্য একটি লাভজনক ও টেকসই জীবিকার উৎসে পরিণত হবে।
কৃ/স/জয়
Email : kshomoynews@gmail.com<br></br>
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ কৃষি সময়