প্রিন্ট এর তারিখঃ Sep 12, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Sep 12, 2026 ইং
কঙ্বাজারে বর্জ্য থেকে হবে ১.২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ

কঙ্বাজার সংবাদদাতাঃ
কঙ্বাজার পৌর এলাকায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ডিপিএইচই) প্রস্তাবিত আধুনিক ইন্টিগ্রেটেড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট (আইডব্লিউএম) প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে প্লাস্টিকসহ বিভিন্ন বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করে প্রায় ১ দশমিক ২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।
এটি বাস্তবায়িত হলে কস্তুরাঘাট এলাকায় এক একর জায়গা জুড়ে বছরের পর বছর ধরে জমতে জমতে থাকা বর্জ্যরে ৪০ থেকে ৬০ ফুট উঁচু স্তুপ যেমন দুর হবে। তেমনি এখান থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে।
শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদন নয়, প্রকল্পের আওতায় প্লাস্টিক পুনর্ব্যবহার করে নতুন পণ্য তৈরি, ফিকাল স্লাজ থেকে জৈব সার উৎপাদন এবং পয়োবর্জ্য পরিশোধনের জন্য সুয়েজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (এসটিপি) স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে। অর্থাৎ দীর্ঘদিনের বর্জ্যরে বোঝাই পরিণত হতে পারে বিদ্যুৎ, সার ও অর্থনৈতিক সম্পদে।
তবে প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে বড় চ্যালেঞ্জ কস্তুরাঘাটের পুরোনো বর্জ্যরে পাহাড়। সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা বর্জ্যরে পরিমাণ ২ লাখ ৫০ হাজার টনের বেশি। এসব বর্জ্য থেকে দুর্গন্ধ, জীবাণু ও মাটি-পানিদূষণের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। বৃষ্টির পানি বর্জ্যরে ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে দূষিত তরল আশপাশের মাটি ও জলাশয়ে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
ইয়ুথ এনভায়রনমেন্ট সোসাইটির (ইয়েস) প্রধান নির্বাহী এম. ইব্রাহিম খলিল মামুন জানিয়েছেন, কঙ্বাজার পৌর এলাকায় স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন প্রায় ১৫০ টন বর্জ্য উৎপন্ন হয়। পর্যটন মৌসুমে পর্যটকের চাপ বাড়লে তা প্রায় ১৭০ টনে পৌঁছে। এর মধ্যে প্রায় ৩৪ টন প্লাস্টিক বর্জ্য।
তার ভাষ্য, ‘খাবারের প্যাকেট, প্লাস্টিক বোতল, পলিথিন ও বিভিন্ন প্যাকেজিং সামগ্রী প্রতিদিন বিপুল পরিমাণে যুক্ত হচ্ছে শহরের বর্জ্য।ে উৎস পর্যায়ে এসব বর্জ্য আলাদা করে সংগ্রহের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় প্লাস্টিক, জৈব বর্জ্য ও অন্যান্য আবর্জনা একসঙ্গে মিশে যাচ্ছে। শেষ পর্যন্ত সেগুলোর ঠাঁই হচ্ছে ডাম্পিং এলাকায়।’
ডিপিএইচইর সহকারী প্রকৌশলী আবুল মনজুর জানালেন, পরিস্থিতি বদলাতেই আইডব্লিউএম প্রকল্পে বর্জ্য সংগ্রহ, পৃথকীকরণ, পুনর্ব্যবহার ও শক্তি উৎপাদনকে একই ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। তাদের প্রস্তাব অনুযায়ী, শহরের প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবহার করে প্রায় ১ দশমিক ২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হতে পারে। উৎপাদিত বিদ্যুতের একটি অংশ প্রকল্পের নিজস্ব কাজে ব্যবহার করা যাবে। প্রযুক্তিগত ও আর্থিক কাঠামো অনুযায়ী অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে দেওয়ার সুযোগও তৈরি হতে পারে।
কৃ/স/জয়
Email : kshomoynews@gmail.com<br></br>
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ কৃষি সময়