প্রিন্ট এর তারিখঃ Sep 12, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Sep 12, 2026 ইং
মরিচ চাষে লাভবান হচ্ছে কৃষকরা

সিরাজগঞ্জ সংবাদদাতাঃ
সিরাজগঞ্জের চরাঞ্চল ও বিভিন্ন এলাকায় মরিচ চাষাবাদ বাড়ছে। বর্ষার শেষ সময়ে মরিচ চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষীরা। কম সময়ে ফলন, কয়েক দফায় ফসল সংগ্রহ এবং বাজারে সারা বছর চাহিদা থাকায় এ চাষাবাদে কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন।
জানা গেছে, জেলার ৯টি উপজেলায় প্রায় ১ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে মরিচের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে চৌহালী, বেলকুচি, কামারখন্দ, কাজিপুর ও সদর উপজেলার চরাঞ্চল প্রধান। রোপা আমন ধান কাটার পর রবি মৌসুমে দেশীয় ও হাইব্রিড জাতের মরিচ চাষ করা হচ্ছে।
জেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের খরিফ-১ মৌসুমে জেলায় ২৫১ হেক্টর জমিতে ২ হাজার ৮৬৯ মেট্রিক টন মরিচ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। ইতিমধ্যে ১৭৫ হেক্টর জমির ফসল তোলা হয়েছে, যাতে উৎপাদন হয়েছে ১ হাজার ৯৪৫ টন মরিচ।
চলতি মৌসুমে অতিরিক্ত বৃষ্টি ও আর্দ্রতার কারণে এ চাষাবাদে কিছুটা ক্ষতি হলেও কৃষি বিভাগের পরার্মশে কৃষকরা তা প্রতিরোধ করেছেন।
সদর উপজেলার শিয়ালকোল ইউনিয়নের জৎগাজাতী গ্রামের কৃষক আব্দুল লতিফ জানান, হাইব্রিড মরিচ অল্প সময়ে ফলন দেয়। এতে লাভ বেশি হয়। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এসব মরিচ ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হচ্ছে।
মাছুয়াকান্দি গ্রামের কৃষক মালেক বলেন, পরিচর্যা ও উৎপাদনে খরচ হলেও বর্তমানে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ৮০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। রতনকান্দি ইউনিয়নের একডালা গ্রামের কৃষক রঞ্জু জানান, ৫ শতাংশ জমিতে ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা খরচে মরিচ চাষ করে ধানের চেয়ে বেশি লাভ পাওয়ায় তিনি আগামীতে আবাদ বাড়ানোর পরিকল্পনা করছেন।
সিরাজগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) মোহাম্মদ রেজাউল হক এবং সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এস. এম. নাসিম হোসেন জানান, মাঠপর্যায়ে কৃষকদের সুস্থ-সবল চারা রোপণ, সুষম সার ব্যবহার ও সঠিক পরিচর্যার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পরিকল্পিত চাষাবাদ ও সময়মতো বালাই দমন সম্ভব হলে অতিবৃষ্টির ক্ষতি কাটিয়ে কৃষকেরা ভালো ফলন ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে পারবেন বলে মনে করেন এই দুই কৃষি কর্মকর্তা।
কৃ/স/জয়
Email : kshomoynews@gmail.com<br></br>
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ কৃষি সময়