প্রিন্ট এর তারিখঃ Sep 6, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Sep 6, 2026 ইং
পাহাড়ে জুমের ধানকাটা শুরু

বান্দরবান সংবাদদাতাঃ
বান্দরবানের পাহাড়ের জুমের ধানকাটা শুরু হয়েছে। কোথাও বাতাসে দোল খাচ্ছে পাকা ধানের সোনালি শিষ, কোথাও ফসল পাহারা দিতে জুমঘরে নির্ঘুম রাত, আবার কোথাও সাথি ফসল তোলার প্রাণবন্ত ব্যস্ততা।
বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়ি ঢালে জুমচাষিদের ঘরে ঘরে শুরু হয়েছে বেঁচে থাকার আনন্দ। বৈশাখের প্রথম বৃষ্টিতে বোনা স্বপ্নগুলো ভাদ্রের রোদে সোনা হয়ে ঝরে পড়ছে।
বান্দরবান জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জেলায় ১১ হাজার ৮৯৫ হেক্টর জমিতে জুম আবাদ হয়েছে এবং চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৩ হাজার ৩৮৭ দশমিক ৯৩ মেট্রিক টন।
বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে চলছে জুমের ধানকাটা। উপজেলার যামিনী পাড়ায় দলবেধে ধান কাটছেন আদিবাসী নারী পুরুষ শ্রমিকরা।
জুমের এই জীবনচক্র যেন প্রকৃতির সঙ্গেই বাঁধা। নভেম্বর-ডিসেম্বরে জঙ্গল নির্বাচন, জানুয়ারিতে ঝোপঝাড় কাটা, মার্চ-এপ্রিলে ‘ফায়ারিং লাইন’ তৈরি করে পোড়ানো এবং বৈশাখের প্রথম বৃষ্টিতে বীজ বোনা। এরপর আগস্টের শেষ থেকে শুরু হয়ে অক্টোবর পর্যন্ত চলে ধান কাটা, মাড়াই ও শুকানোর পালা। অগ্রহায়ণ থেকে মাঘ অবধি প্রতিটি পাড়ায় বাজে নতুন চালের নবান্ন উৎসবের সুর।
জুমে শুধু ধান হয় না। বেগুন, মারফা, তিল, যব, ভুট্টা, চিনাল, মরিচ, রোজেলাসহ ৩০-৩৫ ধরনের সাথি ফসল হয়। বাজার থেকে শুধু লবণ আর নাপ্পি (এক ধরনের শুঁটকি) কিনলেই চলে। জুম এখানকার চাষীদের জন্য একটি বাজারের মতো। প্রয়োজনীয় অনেক সবজি এখান থেকেই পাওয়া যায়।
যামিনী পাড়ায় পাহাড়ি ঢালে দলবেঁধে জুমের পাকা ধান কাটছিলেন ৫৭ বছর বয়সী রিং লট ম্রো। সঙ্গে পরিবারের সদস্য ও আটজন নারী শ্রমিক। তিন ‘আড়ি’ (প্রতি আড়িতে প্রায় ১০ কেজি) বীজ দিয়ে প্রায় তিন একর জমিতে জুম বুনেছিলেন তিনি। ফলন নিয়ে আশাবাদী রিং লট ম্রো বলেন, ‘আগে সময়মতো রোদ-বৃষ্টি হলে জুমের ধান ভালো হতো। এখন সময়মতো রোদ-বৃষ্টি হয় না। প্রকৃতিও যেন উল্টো হয়ে গেছে।
তারপরও এ বছর জুমের ফলন নিয়ে আমি আশাবাদী। ম্রো আশা করছেন, তিন একর থেকে ১৫০ থেকে ২০০ আড়ি ধান ঘরে উঠবে; অনুকূল আবহাওয়া থাকলে তা আড়াইশ আড়ি পর্যন্ত হতে পারত।
একই জমিতে ধান কাটছিলেন ১৯ বছর বয়সী তরুণী সংডং ম্রো। কপালে ঘামের বিন্দু মুছে তিনি বলেন, ‘জুম না করলে আমরা কী খাব? জুম করতেই হবে। প্রতিবছর আমরা জুম চাষ করি। এটা আমাদের ঐতিহ্য।’ জুমের সাথি ফসল তাদের পরিবারের দৈনন্দিন চাহিদা মিটিয়ে স্থানীয় বাজারেও কিছু বাড়তি আয়ের পথ তৈরি করে দেয়।
বান্দরবান কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক কৃষিবিদ তৌফিক আহমেদ নূর জানান, এ বছর জুমের ফলন ভালো হওয়ার আশা করা যাচ্ছে। তবে পার্বত্য অঞ্চল হওয়ায় সব জায়গায় সমানভাবে বৃষ্টিপাত হয় না। ফলে একেক এলাকার ফলন একেক রকম হয়।’ তিনি আরও জানান, রোয়াংছড়ি, রুমা, থানচি ও আলীকদমে ধান কাটা শুরু হয়েছে এবং ফলন বাড়াতে ‘স্থানীয় জাতের পাশাপাশি উন্নত ও হাইব্রিড জাতের ধান উৎপাদনে জুমচাষিদের উৎসাহিত করা হচ্ছে।
কৃ/স/জয়
Email : kshomoynews@gmail.com<br></br>
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ কৃষি সময়