প্রিন্ট এর তারিখঃ Sep 6, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Sep 6, 2026 ইং
বাঁধের দুই কিলোমিটারজুড়ে সবজি চাষাবাদ

কুড়িগ্রাম সংবাদদাতাঃ
কুড়িগ্রামে একটি বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের দুই কিলোমিটার ফাঁকা জায়গায় লাই সহ নানা সবজি চাষাবাদ করা হচ্ছে। স্থানীয় কৃষকরা এই চাষাবাদের মাধ্যমে নিজেদের পরিবারের সবজির চাহিদা পূরণ সহ বিক্রি করে অবাড়তি আয় করছেন। ফুলবাড়ী উপজেলার খোঁচাবাড়ি বাজার পর্যন্ত প্রায় ২ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বাঁধের ঢালে এই চাষাবাদ হচ্ছে।
ফুলবাড়ীর এই বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে লাউ সহ নানা সবজির মাচা। তার নিচে ঝুলছে হাজার হাজার লাউ। উপরে নিচে আছে আরো নানা রকম সবজি। সবুজ পাতায় পুরো এলাকার মাচা ঢেকে গেছে। নিচে বেগুন,মরিচ সহ আছে আারো অনেক সবজি। স্থানীয় কৃষকরা এক জনের েদখা দেখি অন্যারাও লাভবান হওয়ায় পুরো বাঁধ এখন সবজি খেতে হয়ে গেছে। বাঁধের মাটির ক্ষয়রোধ ও অব্যবহৃত জমিতে বাণিজ্যিকভাবে চাষাবাদকে ইতিবাচকভাবে দেখছে চরাঞ্চলের মানুষ ও কৃষিবিভাগ।
স্থানীয়রা জানান, ২০১৭ সালের বন্যায় বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধটি ভেঙে যায়। ২০২৫ সালে ভাঙা অংশ মেরামতসহ বাঁধটি সংস্কার করে পানি উন্নয়ন বোর্ড। এরপর থেকে বাঁধের ঢালে লাউসহ বিভিন্ন সবজির চাষাবাদ করছেন স্থানীয়রা। কেউ কেউ বাণিজ্যিক ভিত্তিতেও সবজি চাষ করছেন। এই সবজি চাষাবাদ এখন তাদের আয়ের বিকল্প পথ তৈরি করে দিয়েছে।
হলোখানা ও রাঙামাটি গ্রামে প্রায় এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বাঁধের দুই পাশের ঢালে মাচায় যৌথভাবে লাউ চাষাবাদ করেছেন আলতাফ হোসেন, জিয়াউল হক জিয়া ও আব্দুল হাকিম।
বাঁধে সবজি চাষী আলতাফ হোসেন জানান, গতবছরই ছোট পরিসরে বাঁধের ঢালে লাউ চাষ করি। সেই লাউ বাজারে বিক্রি করে লাভ ভালো হয়েছে। এ বছর বড় পরিসরে উচ্চ ফলনশীল জাতের লাউচারা রোপণ করেছি। এরপর জিআই তার ও বাঁশ দিয়ে দীর্ঘ মাচা করি। নিয়মিত সেচ ও পরিচর্যা করছি। এখন লাউ তুলে বিক্রি শুরু করেছি। ভাল দাম পাচ্ছি। আশা করছি মোটা অংকের টাকা আয় করতে পারবো।
খোঁচা বাড়ি এলাকার কৃষক ফুয়াদ হোসেন বলেন, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট ও বড়বাড়ি থেকে পাইকাররা পিকআপ করে লাউ নিয়ে যায়। প্রায় হাজার খানেক লাউ বিক্রি করেছি। প্রতিটির দাম ২০ টাকা থেকে ৩০ টাকা।
সারডোব গ্রামের বাসিন্দা এনামুল হক বলেন, গত বছর থেকে বাঁধের ঢালে সবজি চাষ করা হচ্ছে। এ বছর বাণিজ্যিক ভিত্তিতে কয়েকজন লাউসহ সবজি চাষ করেছেন। সাফল্য দেখে অনেকেই এই অপ্রচলিত চাষ করার পরিকল্পনা নিয়েছেন। এর মাধ্যমে শুধু উদ্যোক্তারা লাভবান হননি, এলাকায় সবজির চাহিদা পূরণ ও কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় আব্দুল মালেক হাবিবুর রহমান জয়নাল আবেদিনসহ অনেকেই বলেন, বাঁধের ঢালে সবজির ব্যাপক চাষ আশা জাগিয়েছে চরের কৃষকদের। এর মধ্য দিয়ে ভূমিহীনরাও চাষের জন্য পেয়েছেন জমির ঠিকানা। বাজারে সবজির দাম বেশি। এখান থেকে কম দামে মানুষ কিনতে পাচ্ছে।
বিষয়ে কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, বাঁধ ও সড়কের ঢালে সবজি চাষের দিকে ইদানীং অনেক কৃষক ঝুঁকে পড়েছে। বিশেষ করে ভূমিহীন কৃষকরা বাঁধের ঢালে চাষ করে লাভবান হচ্ছে। কৃষি বিভাগ এ ব্যাপারে সব সময় কৃষকদের উৎসাহিত করে যাচ্ছে।
কৃ/স/জয়
Email : kshomoynews@gmail.com<br></br>
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ কৃষি সময়