প্রিন্ট এর তারিখঃ Sep 5, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Sep 5, 2026 ইং
পানিপ্রবাহ আটকে ভেশালে জালে মাছের বংশ ধ্বংস

কুমিল্লা সংবাদদাতাঃ
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলায় কাঁকড়ি ও ডাকাতিয়া নদীতে পানি প্রবাহ আটকে রেখে নিষিদ্ধ ভেশাল জাল দিয়ে মাছ শিকার করছে প্রভাবশালীরা। এতে দেশি মাছের বংশ ধ্বংস সহ জেলেরা মাছ ধরা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
ভারতের লঘুনাথ পর্বতমালা থেকে বয়ে আসা কাঁকড়ি ও গরিবের পুকুরখ্যাত ডাকাতিয়া নদীতে এখন অবৈধ চুঁঙ্গি ও ভেশালের ছড়াচড়ি। নদীজুড়ে একটু পর পর বসানো এসব ভেশাল দিয়ে নির্বিচারে ছোট বড় মাছ শিকার করা হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত চলে এ কার্যক্রম। এতে মাছের বংশ বৃদ্ধি যেমন বাধাগ্রস্থ হচ্ছে,তেমনি জলজ জীব বৈচিত্র্য ধ্বংস হচ্ছে।
উপজেলার উজিরপুর ইউনিয়নের কাঁঠালিয়া, ঘাসিগ্রাম, রাজার বাজার, উপজেলার মুন্সিরহাট ইউনিয়নের ছাতিয়ানী, পেছাইমুড়ি, ডাকরা, কনকাপৈতের মরকটা, পন্নারা, ডোল সমুদ্র, তারাশাইল, জাকঝুর, গুনবতীর আকদিয়া, পরিকোটসহ প্রায় বিভিন্ন অংশে এভাবে প্রায় ৫ শতাধিক ভেশাল বসানো হয়েছে। এছাড়া নদীর বেশ কিছু অংশে বাঁশ ও কাঠের জালি দিয়ে বাঁধ দেওয়া হয়েছে। এতে করে মাছের বংসবিস্তারে বাঁধা হওয়ার পাশাপাশি নদীর স্বাভাবিক পানির স্রোতও বিঘ্নিত হচ্ছে।
উপজেলা প্রশাসনের সঠিক নজরদারি না থাকায় অপার সম্ভাবনাময় এই নদীর ডিমওয়ালা মাছগুলো বংশবিস্তারে বাধাগ্রস্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে অবৈধ চুঙ্গি ও ভেশাল জাল। অন্যদিকে নদীতে বাঁধ নির্মাণ এবং সময়মত পানি নিষ্কাশিত না হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলার দক্ষিণ ও উত্তর অঞ্চলের দেড় লাখের বেশি কৃষক পরিবার। ফলে দীর্ঘদিন ধরে খাল ও নদীর বেড়িবাঁধ অপসারণ না করায় বর্ষা মৌসুমে কৃত্রিম বন্যায় অনেক জায়গায় প্রান্তিক কৃষকের ফসল পানিতে তলিয়ে যায়। যার ফলে নদী তীরবর্তী এলাকার কৃষকরা এক ফসলিতে সীমাবদ্ধ থাকতে হচ্ছে।
আরিফুল হক সুমন নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি জানান, ডাকাতিয়া ও কাঁকড়ি নদীসহ বিভিন্ন জলাশয়ে প্রাকৃতিকভাবে মাছ উৎপাদন লক্ষমাত্রার শতকরা ৩৫-৪০% ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শুধুমাত্র ভেঁসাল ও চুঙ্গিজালে। বর্তমানে এ নদীগুলোতে প্রচুর পরিমাণ ভেঁসাল বসানো হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে নদীগুলোতে দেশীয় ছোট বড় মাছের আনাগোনা বাড়ে। পরবর্তীতে টইটুম্বুর পানির এই মাছগুলো উপজেলার বিভিন্ন চর, ছোট বড় জলাশয়ে ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় বিভিন্ন মা মাছরা প্রজননের মাধ্যমে প্রচুর পরিমাণ বংশবিস্তার করে। কিন্তু মাছগুলো বড় হওয়ার আগেই একশ্রেণির অসাধু ব্যক্তি বাজারে বিক্রি করে অতিরিক্ত মুনাফা অর্জন করছে।
চৌদ্দগ্রাম উপজেলা সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা লতিফুর রহমান বলেন, এই নদী হলো চৌদ্দগ্রাম অংশের প্রাকৃতিক জলাশয়। নদীগুলোতে নিবন্ধিত জেলে ব্যতীত অন্যদের মাছ শিকার করা একবারেই নিষিদ্ধ। আমরা অতি শিগগিরই স্থানীয় উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় ডাকাতিয়া ও কাঁকড়ি নদীতে ভেশাল উচ্ছেদকরণ, কারেন্টজাল জব্দে অভিযান পরিচালনা করব।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহাদাৎ হোসেন বলেন, নদীতে বাঁধ নির্মাণ করে ভেঁসাল জাল দিয়ে মাছ শিকার করার কোনো বিধান নেই। যারা এই কাজের সঙ্গে জড়িত তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য দ্রুত অভিযান পরিচালনা করব। অতি শিগগিরই বাঁধগুলো অপসারণ করে পানিপ্রবাহ আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হবে।
কৃ/স/জয়
Email : kshomoynews@gmail.com<br></br>
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ কৃষি সময়