
চুয়াডাঙ্গা সংবাদদাতাঃ
চুয়াডাঙ্গার মাটিতে এখন চাষাবাদ হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের উচ্চমূল্যের বিদেশি ফলের। সদর, জীবননগর ও দামুড়হুদা উপজেলায় ফসলি মাঠে ড্রাগন, মাল্টা, আঙুর, অ্যাভোকাডো, রাম্বুটানসহ বিভিন্ন ধরনের বিদেশি ফলের। এখানকার তরুন উদ্যোক্তারা গড়ে তুলেছেন শত বিঘার ফল বাগান। এর মাধ্যমে দেশের মানুষের বিদেশি ফলের স্বাদ পূরণ সহ উদ্যোক্তারাও লাভবান হচ্ছেন।
জানা যায়,এ জেলায় ২ হাজার ৩১৪ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন ধরনের বিদেশি ফলের চাষ হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে-ড্রাগন, মাল্টা, কমলা, শরিফা, আঙুর, রকমেলন, আনারকলি, হলুদ মাল্টা, রাম্বুটান, অ্যাভোকাডো, স্ট্রবেরি, বারোমাসি কাঁঠাল, সিডলেস লেবু, ডালিম ও লংগানÑ ১৫টিরও বেশি প্রজাতির ফল। বাণিজ্যিকভাবে এই উৎপাদনের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছেন শিক্ষিত তরুণ কৃষি উদ্যোক্তারা। যার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ৯ হাজার ৩৪৫ জন কৃষক।
চাকরির অপেক্ষায় না থেকে তাদের কেউ পরীক্ষামূলকভাবে বিদেশি ফলের চাষ শুরু করেছেন, কেউ আবার কয়েক বিঘার বাগানকে নিয়ে গেছেন শত বিঘার পরিসরে।
সবচেয়ে বেশি ফলের বাগান রয়েছে জীবননগরে। সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৬৮৮ হেক্টর জমিতে ড্রাগন, ৩১২ হেক্টরে মাল্টা, ১২০ হেক্টরে কমলা, ৯ হেক্টরে আঙুর, ৬ হেক্টরে রকমেলন, ৪ হেক্টরে অ্যাভোকাডো এবং ২ হেক্টরে আনারকলির চাষ হয়েছে। এ ছাড়া শরিফা, রাম্বুটান, আনার ও বারোমাসি কাঁঠালেরও চাষ হচ্ছে। পেয়ারা চাষ রয়েছে ৭৪৮ হেক্টর জমিতে।
সদর উপজেলার রাঙ্গিয়ারপোতা গ্রামের মোকাররম হোসেন তিন বিঘা জমিতে মাল্টা দিয়ে শুরু করেছিলেন আবাদ। এখন তার ফলের বাগান প্রায় ১০০ বিঘা। প্রতিদিন সেখানে কাজ করেন ৩০-৪০ জন শ্রমিক। একইভাবে চার বিঘা জমিতে মাল্টা দিয়ে শুরু করে বর্তমানে ১২০ বিঘা জমিতে সমন্বিত ফল চাষ করছেন সাদ্দাম হোসেন।
জীবননগরের রাজাপুর গ্রামের তরুণ উদ্যোক্তা সজল আহমেদ ২০১৪ সালে ৯ বিঘা জমিতে পেয়ারা বাগান দিয়ে শুরু করেছিলেন। বর্তমানে তার বাগানের পরিধি প্রায় ১৪০ বিঘা। সেখানে ৪০ বিঘা জমিতে বিভিন্ন জাতের মাল্টা, ৩৫ বিঘায় আম এবং বাকি জমিতে ড্রাগন, কমলা, আঙুর, অ্যাভোকাডোসহ প্রায় ২০ ধরনের দেশি-বিদেশি ফল রয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মাসুদুর রহমান সরকারও ফল চাষের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেছেন। তার ভাষায়, জেলার মাটি উর্বর এবং এখানকার পরিবেশে বিভিন্ন বিদেশি ফল ভালো মানিয়ে যাচ্ছে।
কৃ/স/জয়