প্রিন্ট এর তারিখঃ Sep 3, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Sep 3, 2026 ইং
সমন্বিত কৃষি খামারে সফল হুমায়ুন

চুয়াডাঙ্গা সংবাদদাতাঃ
সমন্বিত কৃষি খামার করে ব্যাপক সফলতা পেয়েছেন হুমায়ন কবীর ফরাজী নামে এক উদ্যোক্তা। তার এই খামারে চাষাবাদ হচ্ছে- ভ্যানিলা, কাশ্মীরি কলা, পেঁপে ও ড্রাগন ফল। এছাড়াও পালন করা হচ্ছে ছাগল, দুম্বা, ভেড়া ও গরু। চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার দর্শনা থানার বেগমপুর গ্রামে ১৮ বিঘা জুড়ে এই সমন্বিত খামার গড়ে তোলা হয়েছে।
জানা যায়,প্রায় ২০ বছর আগে এই উদ্যোক্তা আধুনিক ফল চাষে নামার সিদ্ধান্ত নেন। সেই থেকে তিনি শুরু করেন নানান রকম ফলের চাষ। শুরুতে তিনি লিচু, ড্রাগন, মার্লবেরি ও অ্যাভোকাডোর চাষ শুরু করেন।
এরপর ২০২২ সালে পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে পেনিফোলিয়া জাতের ভ্যানিলার চারা কিনে আনেন। পরীক্ষামূলকভাবে নিজের ১০ কাঠা জমিতে পিলার করে গ্রিন হাউস প্রক্রিয়ায় চাষ শুরু করেন।
নানান চড়াই উৎরাই পেরিয়ে বর্তমানে সেই ভ্যানিলার গাছে প্রথমবারের মতো ফুল থেকে ফল এসেছে। এই ফলগুলো এক থেকে দেড় মাস পরে উত্তোলন করা যাবে। ভ্যানিলার ভিতরে রং অনেকটা সুরমার রঙের মতো। চলতি মৌসুমে তার জমি থেকে প্রায় ১২০ কেজি ভ্যানিলা উৎপাদন হবে। চার বছরে পুরো চাষ প্রক্রিয়ায় তার খরচ হয়েছে প্রায় ৯ লাখ টাকা। চলতি বছরে এই বাগান থেকে ৬ থেকে ৭ লাখ টাকার ভ্যানিলা বিক্রির করে আয় হবার আশা করছেন উদ্যোক্তা।
ভ্যানিলা বাগানের পাশে রয়েছে ড্রাগন ও কাশ্মীরি কলা।
কৃষি বিশেষজ্ঞরা জানান, বাংলাদেশের আবহাওয়া ভ্যানিলা চাষের জন্য পুরোপুরি উপযোগী নয়। তবে গ্রিন হাউজ করে ছায়াযুক্ত স্থানে এটি চাষ করা সম্ভব। ভ্যানিলা চাষের জন্য সহনীয় তাপমাত্রা ১৬ থেকে ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস এর মধ্যে থাকতে হয়।
উদ্যোক্তা হুমায়ুন কবীর জানান, ভ্যানিলা গাছ আস্তে আস্তে বড় হচ্ছে, এর লতা-পাতা আশে পাশে ছড়িয়ে পড়ছে। ভ্যানিলা গাছ রোপণের ৪ থেকে ৫ বছর পর ফল দিতে শুরু করে। বছরে দুইবার ফল ধরে।
সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবর সময়ে ফলের পরিমাণ বেশি থাকে। ফল তোলার পর এর ডগা কেটে পাতো দিতে হয়। আর এই পাতো জমিতে রোপণ করা যায়। ভ্যানিলায় তেমন একটা রোগ বালাই দেখা যায় না। তবে কিছু ছত্রাকনাশক ও কীটনাশক প্রয়োগে হালকা কিছু রোগ বালাই হলে তা দমন করা যায়। এপ্রিল থেকে মে মাসের মধ্যেই ভ্যানিলা গাছে ফুল আসে।
এরপর পরিচর্যা করলে খুব দ্রুতই ফুল থেকে ফলে রূপান্তরিত হয়। প্রতি কেজি শুকনো ভ্যানিলা ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন পাঁচতারকা হোটেল ও বড় বড় ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানিগুলো ভ্যানিলার ক্রেতা।
চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মাসুদুর রহমান সরকার বলেন, সদর উপজেলার বেগমপুর ইউনিয়নের কলোনীপাড়ায় হুমায়ুন কবির ফরাজী নিজে উদ্যোগী হয়ে ১০ কাঠা জমিতে ভ্যানিলা চাষ করেছেন। চার বছর পরে এবারে ফুল ও ফল এসেছে। আশা করি আগামী এক থেকে দেড় মাসের মধ্যেই উনি সব ফল সংগ্রহ করতে পারবেন। যেহেতু ভ্যানিলা একটি অত্যন্ত উচ্চমূল্যের ফসল, এর সম্প্রসারণ ঘটাতে পারলে দেশের চাহিদা পূরণ করে দেশের বাইরেও রপ্তানি করা সম্ভব। রপ্তানি করলে আমাদের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হবে। আবার বাইরে থেকে ভ্যানিলা আমদানির খরচও লাগবে না। এর সাথে সংশ্লিষ্ট কাজে বেশ কিছু লোকের কর্মসংস্থানও হবে।
কৃ/স/জয়
Email : kshomoynews@gmail.com<br></br>
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ কৃষি সময়