প্রিন্ট এর তারিখঃ Aug 27, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Aug 26, 2026 ইং
বস্তায় আদা চাষ কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা

সিরাজগঞ্জ সংবাদদাতাঃ
সিরাজগঞ্জে বস্তায় আদা চাষাবাদের পরিধি বাড়ছে। বাড়ির আঙ্গিনায় পরিত্যক্ত,ফাঁকা জায়গায়,কম খরচে এ চাষাবাদ করে কৃষকরা এখন ব্যাপক লাভবান হচ্ছেন। তারা নিজের পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে আড়তি আদা বিক্রি করে অনেকেই আয় করছেন।
সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন উপজেরায় এখন বস্তায় আদাাচাষ বাড়ছে। কৃষকরা তাদের বাড়ির আঙ্গিনা সহ আশে পাশের পরিত্যক্ত,ফাঁকা জায়গায় বস্তায় আদা চাষাবাদ করছেন। স্থানীয় কৃষি বিভাগের সহযোগীতায় তারা এ চাষাবাদ করছেন। খুব সহজে কম খরচে এই চাষাবাদ করা যায়। ফলে জেলার বিভিন্ন উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলেও এ চাষাবাদ ছড়িয়ে পড়েছে।
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বহুলি ইউনিয়নের ধিতপুর আলাল গ্রামের কৃষক মো. শাহাদাত হোসেন ১০ শতক জায়গায় ৬০০ বস্তায় বারি-২ জাতের আদা চাষ করেছেন। গত বছর খুব একটা লাভ না হলেও চলতি মৌসুমে ভালো ফলন হওয়ায় ভাল দাম পাওয়ার আশা করছেন তিনি।
এ কৃষক জানান, উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শে তিনি বস্তায় আদা চাষ শুরু করেন। এতে আলাদা জমির প্রয়োজন হয় না, চাষের খরচও তুলনামূলক কম। বস্তা সহজে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় সরানো যায়। পাশাপাশি রোগবালাইও কম হয়। ধান চাষের তুলনায় আদা চাষে ভালো আয় হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
এ কৃষকের মতো অনেক কৃষক নিজেরাই পদ্ধতি শিখে এই চাষাবাদ করছেন। প্রতিটি বস্তা থেকে ভাল পরিমাণ আদা পাওয়য়া যাচ্ছে। যা তাদের সারা বছরের আদার চাহিদা মিটিয়েও বাজারে বিক্রি করে ভাল টাকা পাচ্ছেন। একই সাথে সাথে পরিত্যক্ত,খালি জায়গাটুকোও চাষাবাদের আওতায় আসছে।
তুলনামূলক কম জায়গা, সীমিত খরচ ও সহজ পরিচর্যার কারণে বস্তায় আদা চাষ কৃষকদের জন্য সম্ভাবনাময় হয়ে উঠেছে। সরকারি সহায়তা, আধুনিক প্রযুক্তি ও সঠিক বাজার ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে দেশের চাহিদা মিটিয়ে ভবিষ্যতে আদা রপ্তানিরও সুযোগ তৈরি হতে পারে।
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এস.এম. নাসিম হোসেন জানান, কৃষকদের আধুনিক পদ্ধতিতে আদা চাষে উদ্বুদ্ধ করতে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সদর উপজেলায় ৪০ হেক্টর জমিতে আদা চাষ হয়েছে। পাশাপাশি ১৩ হাজার ৬০০ বস্তায় আদা চাষ করা হচ্ছে। বেসরকারিভাবে আরও প্রায় ১০ হাজার বস্তায় আদা চাষ হচ্ছে। উপজেলার ১০টি ইউনিয়নেই আদা চাষ হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
কৃষি বিভাগ বলছে, ছায়াযুক্ত জায়গায় সিমেন্ট বা প্লাস্টিকের বস্তায় সহজেই আদা চাষ করা যায়। প্রতি বস্তায় দোঁআশ মাটি, পচা গোবর, সার, ছাই ও কাঠের গুঁড়া দিয়ে ১৫ থেকে ২০ দিন রেখে মাটি চাষের উপযোগী করা হয়। এরপর ৪০ থেকে ৫০ গ্রাম ওজনের আদার কন্দ বপন করা হয়। নিয়মিত পরিচর্যার পর ৯ থেকে ১০ মাসের মধ্যে আদা উত্তোলন করা যায়। প্রতিটি বস্তা থেকে ১ থেকে ২ কেজি পর্যন্ত আদা পাওয়া যায়।
সিরাজগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক এ.কে.এম. মনজুরে মাওলা বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের খরিফ-১ মৌসুমে সিরাজগঞ্জ জেলায় ১৭২ হেক্টর জমিতে ২ হাজার ৩৬৩ মেট্রিক টন এবং ৬১ হাজার ২০০ বস্তায় ১২ হাজার ৩০০ মেট্রিক টন আদা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এবার বস্তায় আদা চাষ বেড়েছে। বস্তায় আদা চাষ লাভজনক হওয়ায় কৃষকরা এ পদ্ধতির দিকে বেশি ঝুঁকছেন।
কৃ/স/জয়
Email : kshomoynews@gmail.com<br></br>
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ কৃষি সময়