প্রিন্ট এর তারিখঃ Aug 27, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Aug 26, 2026 ইং
রাজবাড়ীতে দেশি মাছের উৎপাদনে ফিরছে সুদিন

রাজবাড়ী সংবাদদাতাঃ
রাজবাড়ীতে মৎস্য অভয়াশ্রমের মাধ্যমে দেশি মাছের বংশ রক্ষা হচ্ছে। এখানকার কয়েকটি আশ্রমের কারনে হারিয়ে যেতে বসা দেশি মাছের বিস্তার লাভ করেছে।
জানা যায়,রাজবাড়ীর বিভিন্ন উপজেরায় চায়না দুয়ারী,কারেন্ট সহ নানা নিষিদ্ধ জাল ব্যবহারের কারনে দেশি মাছের বংশ বিলুপ্ত হতে চলেছিলো। নদ-নদী,খাল-বিলে দেশি মাছের সংকট দেখা দিয়েছিলো। এ নিয়ে স্থানীয়দের মাঝেও ক্ষোভ তৈরি হয়েছিলো।
এমন অবস্থায় দেশি মাছের বংশ রক্ষায় মৎস্য বিভাগ জেলায় বেশ কয়েকটি বড় মৎস্য অভয়াশ্রম গড়ে তুলেছে। এরমধ্যে গোয়ালন্দ উপজেলায় ১টি, কালুখালী উপজেলায় ২টি, পাংশা উপজেলায় ১টি এবং বালিয়াকান্দিতে ২টি।
এসব অভয়াশ্রমে দেশি মাছ আশ্রয় নিয়ে ডিম ছাড়ছে। যেগুলো বর্ষাও পানিতে ছড়িয়ে পড়লে নদী-নালা,খাল-বিলে। যা বড় হয়ে স্থানীয়দের মাছের চাহিদা পুরন করছে।
একই সাথে মৎস্য বিভাগ জেলার চাষীদের বিভিন্ন পুকুরে দেশি মাছ চাষাবাদের জন্য প্রশিক্ষণ সহ নানা উপকরণ দিয়ে সহায়তা করছেন। তারাও এখন পুকুরে দেশি জাতের মাছ চাষাবাদ করে স্থানীয়দের চাহিদা পুরনের পাশাপাশি সারা দেশে সরবরাহ করছে।
জেলা মৎস্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, রাজবাড়ী জেলায় নদী, বিল, প্লাবনভূমি, পুকুর, হাওর-বাঁওড়সহ মোট মৎস্য প্রজনন উৎপাদনের ক্ষেত্রের আয়তন ৪৪ হাজার ৮৮১ হেক্টর। ২০২৪-২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় প্রতিবছর ৩৩ হাজার ২৫২ মেট্রিক টন মাছ উৎপাদন হয়। এ জেলায় মোট মাছের চাহিদা ২২ হাজার ২৩৯.৮৬ মেট্রিক টন।
চাহিদার তুলনায় উৎপাদন ১১০১২ মেট্রিক টন বেশি হওয়ায় উদ্বৃত্ত মাছ জেলার চাষিরা দেশের বিভিন্ন জেলায় বিক্রি করে থাকেন।
মৎস্য সংশ্লিষ্ট ও চাষিরা জানান, আমাদের এলাকায় গত কয়েক বছর আগেও দেশি কই, শিং, মাগুর, টেংরা ও পাবদার মতো মাছের সরবরাহ তুলনামূলকভাবে ছিল না বলেই ধরা হতো। বর্তমানে আধুনিক চাষ পদ্ধতি অনুসরণ করে বদ্ধ পুকুরেও এসব মাছ উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে।
বালিয়াকান্দি উপজেলার মৎস্য কর্মকর্তা তানভীর আহমেদ বলেন, আমাদের গড়ে তোলা মৎস্য অভয়াশ্রম স্থাপনের ফলে নির্দিষ্ট এলাকায় সরকারিভাবে মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকায় এলাকার কেউ মাছ ধরার সাহস পায় না। ফলে ‘মা’ মাছ অবাধে ডিম ছাড়ার সুযোগ পায়। যা অভয়াশ্রম প্রতিষ্ঠার আগে সম্ভব হতো না। এর ফলে দেশীয় প্রজাতির মাছের সংখ্যা আগের তুলনায় বৃদ্ধি পাচ্ছে। আর এতে এখানকার সুফোলভোগী মৎস্যচাষিরা লাভবান হচ্ছেন।
কৃ/স/জয়
Email : kshomoynews@gmail.com<br></br>
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ কৃষি সময়