
নেত্রকোনা সংবাদদাতাঃ
নেত্রকোনায় দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ভার্মি কম্পোস্ট বা কেঁচো সার। জেলার মদন, মোহনগঞ্জ ও কেন্দুয়া উপজেলাসহ ১০টি উপজেলাতেই কৃষকরা নিজেদের উদ্যোগে এসব কেঁচো সার উৎপাদন করছেন। বাণিজ্যিকভাবে কৃষকরা-কৃষাণীরা অল্প পরিশ্রম ও পুঁজিতে কেঁচো সার উৎপাদন করে ভার্মি কম্পোস্ট (কেঁচো সার) উৎপাদন করে এখন ব্যাপক লাভবান হচ্ছেন। স্থানীয় কৃষি বিভাগ এ কাজে তাদের সহযোগীতা করছেন।
জানা যায়, কেন্দুয়া উপজেরার বেখৈরহাটি ব্লকের ৩ জন কৃষক-কৃষাণী ২০১৭ সালে জানুয়ারি মাসে তাদের ব্যক্তিগত প্রচেষ্টায় ভার্মি কম্পোস্ট (কেঁচো সার) উৎপাদন শুরু করেন। তাদের দেখাদেখি বর্তমানে এই ব্লকের ৬টি গ্রামে শতাধিক কৃষাণ-কৃষাণী কেঁচো সার উৎপাদন করে নিজেরা জমিতে ব্যবহার করছেন এবং অতিরিক্ত সার বাজারে বিক্রি করে আর্থিকভাবেও লাভবান হচ্ছেন। এখানে বাণিজ্যিকভাবে এ সার উৎপাদন করছেন ৩০-৪০ জন।
এখানকার কৃষকরা নিজেদের উদ্যোগে ভার্মি কম্পোস্ট বা কেঁচো সার উৎপাদন করে একদিকে যেমন নিজেদের জমিতে প্রয়োগ করছেন, অপরদিকে বিক্রি করে আর্থিকভাবে লাভবানও হচ্ছেন।
কৃষি বিভাগ সূত্র জানায়, জৈব পদার্থ মাটির প্রাণ বা হৃৎপিণ্ড। মাটির স্বাস্থ্য সুস্থ ও সবল রাখার জন্য জৈব পদার্থের প্রয়োজন। ফসলের নিবিড়তা বৃদ্ধি, অতিমাত্রায় রাসায়নিক সারের ব্যবহার, অবিবেচকের মতো বালাইনাশক প্রয়োগ, মাত্রা অতিরিক্ত আগাছা নাশক ও বিভিন্ন কৃত্রিম হরমোন ব্যবহারের ফলে প্রতিনিয়তই মাটির স্বাস্থ্য নষ্ট হচ্ছে এবং জৈব পদার্থের পরিমাণ কমে যাচ্ছে। মাটির ভারসাম্য রক্ষায় এবং জমিতে ভালো ফলন উৎপাদনের জন্য জৈব সারের কোনো বিকল্প নেই। তাই এই সারের ব্যবহার বাড়ছে দেশজুড়ে। কৃষকদেরও চাহিদা বাড়ছে।
বাণিজ্যিকভাবে কেঁচো সার উৎপাদনকারী কৃষাণী বেখৈরহাটি গ্রামের জরিনা আক্তার বলেন, বর্তমানে আমি প্রতিমাসেই ২০-৩০ মণ কেঁচো সার বিক্রি করি। প্রতি মণ সার ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা মণ দরে বিক্রি করছি। এ সারের চাহিদা অনেক। কেঁচো সার উৎপাদনে তেমন কোনো খরচও নাই। তাই বাড়িতে বসেই এ সার উৎপাদন করে আমি বেশ লাভবান।
কেন্দুয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হুমায়ূন দিলদার জানান, আমার উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের সবখানেই ভার্মি কম্পোস্ট বা কেঁচো সার উৎপাদনে কৃষাণ-কৃষাণীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এই প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে তারা নিজেরাই কেঁচো সার উৎপাদনে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।
কৃ/স/জয়