প্রিন্ট এর তারিখঃ Aug 24, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Aug 24, 2026 ইং
দুধ উৎপাদন কমায় ক্ষতির মুখে খামারিরা

সিরাজগঞ্জ সংবাদদাতাঃ
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর ও উল্লাপাড়ায় বন্যার পানিতে বিশাল গো-চারণভূমি তলিয়ে যাওয়ায় গবাদিপশু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন খামারিরা। দেশের অন্যতম এ বৃহৎ দুগ্ধ উৎপাদন অঞ্চলে পানিতে ডুবে গেছে বিস্তীর্ণ বাথান ও সবুজ ঘাসের মাঠ। যার কারনে দেখা দিয়েছে গো-খাদ্যের সংকট। খামারিরা বাড়তি দামে গো-খাদ্যেও যোগান দিয়ে কম দামে দুধ বিক্রি করে চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন এই অঞ্চলের হাজার হাজার খামারি।
জানা যায়, ১৯৭৩ সালে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের বাঘাবাড়িতে মিল্কভিটার দুগ্ধ প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা স্থাপনের পর থেকেই বদলে যায় এ অঞ্চলের অর্থনীতি। গড়ে ওঠে হাজার হাজার বাণিজ্যিক গো-খামার। এই উপজেলায় প্রায় ৩৫ হাজার খামারি প্রায় ৪ লাখ গবাদিপশু পালন করেন। প্রতিদিন প্রায় ৫ লক্ষ লিটার দুধ উৎপাদন হয়েছে থাকে, যার বাজার মূল্য ৩ কোটি টাকা।
জেলার উল্লাপাড়া উপেেজলাকে এখানকার দ্বিতীয় দুগ্ধ উৎপাদন এলাকা হিসাবে বিবেচনা করা হয়। এখানেও রয়েছে হাজার হাজার খামারী। তারাও স্থানীয় মিল্ক ভিটার কারখানায় সহ বিভিন্ন কারখানায় দুগ্ধ সরবরাহ করে থাকেন। বর্ষা মৌসুমে এ উপজেলার খামারীরাও একই সমস্যায় পড়েছেন।
গবাদিপশু চারনের বাথান তলিযে যাওয়ায় তারা বাধ্য হয়ে ছোট জায়গায় গাদাগাদি করে গরু রাখায় ছড়িয়ে পড়ছে নানা রোগ। সব মিলিয়ে কমেছে দুধের উৎপাদন, বাড়ছে খামারিদের লোকসান।
শাহজাদপুর উপজেলার রেশমবাড়ি গ্রামের খামারি মিজানুর রহমান বলেন, এলাকার বাথানগুলো পানিতে ডুবে যাওয়ায় গরু চরানোর সুযোগ নেই খামারিদের। ফলে বাধ্য হয়ে আমরা বসতবাড়ি কিংবা ছোট খামারের জায়গায় গাদাগাদি করে রাখতে হচ্ছে গবাদিপশুকে। সবুজ ঘাসের সংকট মেটাতে এখন খড়, খৈল, ভুষি ও দানাদার খাদ্যের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে খামারিদের। এতে বেড়েছে গরু পালনের খরচ। এর সঙ্গে ছোট জায়গায় দীর্ঘদিন গাদাগাদি করে থাকায় গবাদিপশুর মধ্যে ছড়িয়ে পড়ছে নানা রোগ। খাবারের সংকট আর রোগব্যাধির কারণে অনেক গাভীর দুধ উৎপাদন আগের তুলনায় কমে গেছে। চাহিদা অনুযায়ী গাভিগুলিকে খাবার দিতে না পারায় দিনদিন দুধের পরিমাণ কমে যাচ্ছে। ফলে লোকসানে মুখে পড়েছি।
একই এলাকার আরেক খামারি আব্দুস সোবহান জানান, বন্যায় জমি ডুবে যাওয়ায় কাঁচা ঘাসের অভাবে দুধের উৎপাদন অর্ধেকে নেমে এসেছে। এছাড়া দানাদার খাবার ও খড়ের দাম বেশি। এই অবস্থা বিরাজ করলে খামারিরাও তাদের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হবেন।
শাহজাদপুর,উল্লাপাড়া উপজেলার খামারিদের সাতে কথা হলেও তারা দাবী করেন,আমরা দেশের সিংহভাগ দুধের জোগান দিয়ে মানুষের পুষ্টির চাহিদা পুরন করে থাকি। কিন্তু আমাদের কথা কেউ ভাবে না। মিল্ক ভিটা আমাদের কাছ থেকে কম দামে দুধ কিনে দ্বিগুন দামে বিক্রি করে। অথচ আমরা খামারিরা নিজেদেও রাভ তো দুরের কথা দুধ বিক্রি করে খামারের পশুগুলোর খাদ্য যোগান দেয়াই কঠিন। তাই অন্তত বর্ষা মৌসুমে গরুর খাবার বিতরণের জন্য সরকারের সহযোগিতা কামনা করছি। শুধু ভূষির ওপর খামার টিকিয়ে রাখা খামারিদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।
শাহজাদপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. বিল্লাল হোসেন বলেন, শাহজাদপুরে ছোট-বড় মিলিয়ে কয়েক দশ হাজার খামারে লাখ লাখ গবাদিপশু পালন করা হয়। এসব খামার থেকে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ দুধ সরবরাহ করা হয় মিল্কভিটাসহ বিভিন্ন দুগ্ধ প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানে। ফলে এই অঞ্চলে উৎপাদন কমার প্রভাব পড়তে পারে পুরো দুগ্ধ সরবরাহ ব্যবস্থায়।
তবে বন্যার পানি যতদিন না নামে, ততদিন চারণভূমি ও বাথানগুলো স্বাভাবিক হওয়ার সুযোগ নেই। ক্ষতিগ্রস্ত খামারগুলোর পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি অসুস্থ গবাদিপশুর চিকিৎসা, প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও রোগ প্রতিরোধে টিকাদান কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। এছাড়াও প্রাণিসম্পদ অফিস থেকে বিনা মূল্যে তরকা রোগের টিকা দেওয়া হচ্ছে। খামারিদের সচেতন করার জন্য বিভিন্ন এলাকায় খামারিদের সাথে উঠান বৈঠকের মাধ্যমে সচেতন করা হচ্ছে।
কৃ/স/জয়
Email : kshomoynews@gmail.com<br></br>
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ কৃষি সময়