প্রিন্ট এর তারিখঃ Aug 23, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Aug 23, 2026 ইং
কুড়িগ্রামে কেঁচো সারের ব্যবহার বাড়ছে

কুড়িগ্রাম সংবাদদাতাঃ
কুড়িগ্রামে কৃষকদের মাঝে কেঁচো সারের ব্যবহার উৎপাদন ক্রমেই বাড়ছে। জলবায়ু পরিবর্তন, মাটির উর্বরতা হ্রাস এবং রাসায়নিক সারের অতিরিক্ত ব্যবহারে কৃষি যখন নানা চ্যালেঞ্জের মুখে, তখন এ জেলার চাষীদের কাছে নতুন সম্ভাবনার নাম হয়ে উঠেছে কেঁচো সার। অনেক চাষী জমিতে ব্যবহারের পাশাপাশি এ সার তৈরি করে এখন ভাল টাকা আয় করছেন।
রাজারহাট উপজেলার মণ্ডলপাড়া এলাকার কৃষক সাজু মণ্ডল চার বছর আগে নিজের জমিতে ব্যবহারের জন্য সীমিত পরিসরে কেঁচো সার উৎপাদন শুরু করেন। ভালো ফলন পাওয়ায় এবং চাহিদা বাড়তে থাকায় বর্তমানে তার উদ্যোগটি বাণিজ্যিক খামারে রূপ নিয়েছে। কেঁচো ও গোবরের সমন্বয়ে তৈরি এই জৈব সার এখন তার আয়ের অন্যতম উৎস। বর্তমানে তার খামারে প্রায় ১৫ টন কেঁচো সার মজুদ রয়েছে।
একই এলাকার কৃষক আব্দুল হাকিম বলেন, সাজু মণ্ডল চার বছর ধরে কেঁচো ও গরুর গোবর দিয়ে জৈব সার তৈরি করছেন। তিনি নিজের জমিতে ব্যবহারের পাশাপাশি বিক্রিও করছেন। তার কাছ থেকে উৎসাহ পেয়ে আমিও জৈব সার তৈরি করে জমিতে ব্যবহার করছি। এতে ফলন ভালো হচ্ছে। সরকারি সহযোগিতা পেলে আরও বড় পরিসরে উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে।
সাজু মণ্ডলের মতো সফল কৃষকদের উদ্যোগ ইতোমধ্যে জেলার অন্য কৃষকদেরও উৎসাহিত করছে। পরিবেশবান্ধব, তুলনামূলক কম খরচের এবং টেকসই হওয়ায় কেঁচো সার উৎপাদনের দিকে ঝুঁকছেন অনেকে। কৃষি সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই ধারা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে কুড়িগ্রামের কৃষিতে জৈবসার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
কেঁচো সার তৈরির উদ্যোক্তা সাজু মণ্ডল বলেন, কেঁচো সার উৎপাদনের জন্য প্রথমে উপযুক্ত বেড বা সেট তৈরি করতে হয়। এরপর অনলাইন কিংবা কোনো খামার থেকে ভালো জাতের কেঁচো সংগ্রহ করতে হয়। বর্তমানে প্রতি কেজি কেঁচোর দাম প্রায় ২ হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকা। কেঁচো ছাড়ার আগে গরুর গোবর ১৫ থেকে ২০ দিন ভালোভাবে পচিয়ে নিতে হয়। এরপর ওই গোবরে কেঁচো ছেড়ে দেওয়া হয়। কিছুদিন পর এগুলো ছেকে কেঁচো আর সার আলাদা করে বিক্রি করেন তিনি।
তিনি উল্লেখ করনে,প্রথমে নিজের জমিতে ব্যবহারের জন্য কেঁচো সার তৈরি করতাম। পরে এর সুফল দেখে উৎপাদন বাড়াই। এখন নিজের চাহিদা মিটিয়ে অন্য কৃষকদের কাছেও বিক্রি করছি। এতে উৎপাদন খরচ কমছে, লাভও হচ্ছে। প্রতি কেজি কেঁচো সার ১২ থেকে ১৩ টাকায় বিক্রি করছেন। তবে সরকারি উদ্যোগে বাজারজাতকরণ ও প্রচারের ব্যবস্থা করা হলে তার মতো উদ্যোক্তারা আরও উপকৃত হবেন।
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দেশে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে বিভিন্ন ফসল ও সবজি উৎপাদনে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা এবং টেকসই কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে জৈবসারের ব্যবহার বাড়ানো প্রয়োজন।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জেলায় পরিবেশবান্ধব কৃষি চর্চা সম্প্রসারণে কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে দিন দিন বাড়ছে ভার্মি কম্পোস্টের ব্যবহার ও উৎপাদন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মামুনা রাব্বি মালিহা বলেন, ভার্মি কম্পোস্ট মাটির জৈব উপাদান বৃদ্ধি করে এবং মাটির গঠন উন্নত করে। এতে ফসলের উৎপাদন ভালো হয় এবং রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমানো সম্ভব। কৃষকদের জৈবসার ব্যবহারে নিয়মিত উৎসাহিত করা হচ্ছে।
কৃ/স/জয়
Email : kshomoynews@gmail.com<br></br>
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ কৃষি সময়