প্রিন্ট এর তারিখঃ Aug 22, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Aug 22, 2026 ইং
দুম্বা ও ছাগল পালনে তিন ভাইয়ের সাফল্য

নাটোর সংবাদদাতাঃ
মরুর দেশের দুম্বা আর বিভিন্ন দেশের উন্নত জাতের ছাগল পালনে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছেন নাটোরের তিন সহোদর ভাই। নিজ বাড়িতে ৩২ বিঘা জমিতে বাণিজ্যিকভাবে তারা গড়ে তুলেছেন দুম্বা, ছাগল,গাড়লের খামার। খামারে জন্ম নেয়া বাচ্চা আর প্রাণি বিক্রি করে তারা আয় করছেন মোটা অংকের টাকা। এই খামারের প্রাণি দিয়ে সারা দেেেশ গড়ে উঠেছে অসংখ্যা খামার। সফল এই খামারীদের বাড়ি জেলার গুরুদাসপুর থানার খামার পাতুরিয়া গ্রামে।
জানা যায়, ২০০৭ সালে ভারত থেকে আনা দুই জোড়া দুম্বা দিয়ে এই খামারের যাত্রা। খামারের উদ্যোক্তা হান্নান সরকার, আনোয়ার হোসেন ও ফেরদৌস আহমেদÑতিন ভাই মিলে ধীরে ধীরে দুম্বার সংখ্যা বাড়াতে থাকেন। বর্তমানে এই খামারে টার্কি, আওয়াসি ও নাগরি জাতের ৭৫টি দুম্বা রয়েছে। প্রতিটি দুম্বার ওজন প্রায় দেড় মণ থেকে চার মণ পর্যন্ত। আকার ও ওজনভেদে যার একেকটির দাম ১ লাখ ২০ হাজার থেকে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত। গত কোরবানির ঈদে এই খামার থেকে প্রায় ২শ’ দুম্বা বিক্রি হয়েছে। শুধু দুম্বাই নয়।
পুকুরের পাড় ঘেঁষে ছায়াঘেরা পরিবেশে গড়ে ওঠা এই খামারে ১৪ প্রজাতির প্রায় ৩০০ ছাগল রয়েছে। রয়েছে গাড়ল ও বিভিন্ন জাতের গরুও।
খামারের কার্যক্রম পরিচালনায় বর্তমানে ২৩ জন স্থানীয় শ্রমিক কাজ করছেন। পশুগুলোকে সুস্থ ও রোগমুক্ত রাখতে নিয়মিত পরিচর্যা করা হয়। খামারের সব প্রাণীকে দেশীয় ও প্রাকৃতিক খাদ্য দেওয়া হয়। প্রতিদিন দুই বেলা খড় ও ভূষি এবং দুপুরে তাজা ঘাস খাওয়ানো হয়। পশুর খাদ্যের চাহিদা পূরণে খামারের সাড়ে ছয় বিঘা জমিতে উন্নত জাতের ঘাস চাষ করা হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা এই বিশাল খামারটি সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছে। উদ্যোক্তা তিন সহোদরও তাদের খামারের পশুগুলোকে নিয়মিত ফেসবুক,ইউটিউবে প্রদর্শন করে বিক্রি করে থাকেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের সৌখিন এবং খামারীরা এখান থেকে তাদের পছন্দের পশু কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। প্রতিদিন এই খামারের শত শত পশু ক্রেতা আসছেন। পছন্দ মতো পশু কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। তারাও খামাড় পড়ে তুলছেন।
এই খামারীদের দাবী অন্য গবাদিপশুর তুলনায় দুম্বার রোগবালাই কম। খাবারের খরচও তুলনামূলক কম হওয়ায় এটি পালন করে ভালো লাভ করা সম্ভব। দেশের আবহাওয়ার সঙ্গেও প্রাণীটি ধীরে ধীরে মানিয়ে নিয়েছে। ফলে বাণিজ্যিকভাবে দুম্বা পালনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন খামারিরা।
খামারি হান্নান সরকার বলেন, “ছোটবেলায় বাবা মারা যাওয়ার পর দুই-তিনটি ছাগল পালন দিয়ে তাদের পশুপালনের যাত্রা শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে গাড়ল পালন এবং পরে গরু-ছাগলের খামার গড়ে তোলেন তারা। পরিচিত ব্যবসায়ীদের সহযোগিতায় ভারত থেকে তিনটি মাদি ও একটি পুরুষ দুম্বা সংগ্রহের পর শুরু হয় দুম্বা পালন। সেই চারটি দুম্বা থেকেই বর্তমানে খামারে সংখ্যা বেড়েছে। শুধু দুম্বাই নয়। আমাদের খামারে উন্নত জাতের হরেক রকম ছাগলও রয়েছে। এগুলো বিক্রি করছি। এ থেকে আমরা ভাল আয় করতে পারছি। শুধু আয় নয়। আমরা নতুন খামারীদের কাছে পশু বিক্রি সহ খামার পরিচালনার যাবতীয় রকম সহযোগীতা দিচ্ছি।
বড়াইগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, দুম্বার খামারটি অনেকের জন্য অনুপ্রেরণার। এটি দেখে স্থানীয় অনেকেই দুম্বা পালনে আগ্রহী হচ্ছেন।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. সেলিম উদ্দিন বলেন,বাংলাদেশের আবহাওয়া দুম্বা পালনের জন্য উপযোগী হওয়ায় দেশে বাণিজ্যিকভাবে এ প্রাণী পালনের সম্ভাবনা রয়েছে। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা এবং আধুনিক পদ্ধতিতে দুম্বা পালনের প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে পারলে দেশের প্রাণিসম্পদ খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারে।
কৃ/স/জয়
Email : kshomoynews@gmail.com<br></br>
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ কৃষি সময়