
বগুড়া সংবাদদাতাঃ
২শÕবছর ধরে চলে আসছে একটি বিশাল তরল দুধের বাজার। সময়ের পরিক্রমায় দীর্ঘদনি অতিবাহিত হলেও এখনো জৌলস হারায়নি সেই বাজার। নিয়মর করে প্রতিদিন বসে এ বাজার। যেখানে ক্রয়-বিক্রয় হয় বিপুল পরিমাণ দুধ। যা থেকে তৈরি হচ্ছে বাহারা স্বাদেও দই,মিষ্ঠান্ন। প্রাচীন এই দুধের বাজারের নাম শ্বেতশুভ্র। যার অবস্থান বগুড়ার শেরপুর পৌর শহরের পার্ক এলাকায়।
এই বাজারে প্রতিদিন বগুড়ার শেরপুর, ধুনট, নন্দীগ্রাম, শাজাহানপুর উপজেলা কিংবা সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ ও তাড়াশ উপজেলা থেকে শত শত খামারি দুধ কেনা-বেচা করতে আসেন। ক্রেতা আর খামারীরা তাদের দ্বিচক্র বা ত্রিচক্র যানে রুপালি সিসা বা প্লাস্টিকের পাত্র বেঁধে ছুটে আসেন এই বাজারে। দূর থেকে দেখলে মনে হয়, মেঠো পথ বেয়ে শ্বেতশুভ্র এক নদী এসে মিশেছে শহরের এই প্রান্তরে। বগুড়ার বিশ্ববিখ্যাত দইয়ের যে ঘন বুনন আর জিভে জল আনা স্বাদ, তার আসল রহস্য লুকিয়ে আছে এখানকার দুধের ননীতে। বড় বড় মিষ্টান্ন কারিগররা তাই হন্যে হয়ে ছোটেন এই বাজারের টানে। যদিও বর্তমানে দুধের ঘনত্ব মাপার জন্য আধুনিক যন্ত্রের ব্যবহার বেড়েছে। তবে এখানকার মূল শক্তি হলো ক্রেতা ও বিক্রেতার মধ্যকার বহু বছরের অটুট বিশ্বাস, যা দুধের চেয়েও স্বচ্ছ আর খাঁটি।
প্রতিদিন প্রায় পঁচিশ থেকে ত্রিশ হাজার লিটার দুধের এই বিপুল জোগান গ্রামীণ জনপদে সচ্ছলতা এনে দিয়েছে। এই অল্প সময়ে লাখ লাখ টাকার হাতবদল গ্রামবাংলার সাধারণ খামারিদের বেঁচে থাকার রসদ জোগায়।
কোনো প্রকার আধুনিক হিমাগার বা বিশেষায়িত সংরক্ষণ ব্যবস্থা ছাড়াই শুধু শৃঙ্খলা আর পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা এই বাজারটি শেরপুরের মানুষের কাছে কেবল জীবিকা নয়, বরং উত্তরসূরিদের রেখে যাওয়া এক অমলিন অহংকার। বংশপরম্পরায় চলে আসা এই শ্বেত-বিপ্লব আজও এই জনপদকে এক অনন্য উচ্চতায় ধরে রেখেছে।
স্থানীয়রা জানান,বংশ পরম্পরায় তারা এই বাজাওে দুধ ক্রয়-বিক্রয় করে আসছেন। এখানকার দুধ চলে যাচ্ছে বগুড়া শহরের নামি দাবী মিষ্টান্নের কারখানা সহ আশে পাশের উপজেলায়। গুনে মানে ভাল হওয়ায় এখানকার দুধের চাহিদা ব্যাপক। খামারীরাও ভাল দামে এখানে দুধ বিক্রি করে পেওে লাভবান হচ্ছেন।
কৃ/স/জয়