প্রিন্ট এর তারিখঃ Aug 20, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Aug 20, 2026 ইং
অনাবৃষ্টিতে আমনের জমি ফেটে চৌচির

দিনাজপুর সংবাদদাতাঃ
দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে বৃষ্টির অভাবে আমন ধানের জমি ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। ধান বাঁচাতে মেশিন দিয়ে সেচ দিচ্ছেন কৃষকরা। এতে তাদের চাষাবাদের উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে।
উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ফুলবাড়ী পৌরসভাসহ উপজেলার সাতটি ইউনিয়নে ১৮ হাজার ১৯০ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৯১ হাজার ৩১১ টন। তবে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হলে আমন চাষ ও উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, আমনের চারা রোপণের কাজ প্রায় শেষ। কিন্তু পর্যাপ্ত বৃষ্টির অভাবে অনেক জমিতে পানি নেই। বিশেষ করে, উঁচু জমিগুলো শুকিয়ে যাচ্ছে। কোথাও কৃষক শ্যালো মেশিন দিয়ে জমিতে পানি দিচ্ছেন, আবার কোথাও সেচের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
কৃষকরা বলছেন, সময়মতো বৃষ্টি না হলে আমন চাষে এবার সেচনির্ভরতা বাড়বে। ফলে বাড়তি খরচের বোঝা তাদের ঘাড়ে পড়বে। অনেকের আশঙ্কা, বাড়তি খরচের কারণে আমন চাষে কাঙ্ক্ষিত লাভ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়তে পারে।
শিবনগর ইউনিয়নের কৃষক তওহিদ আলম বলেন, আমনের চারা রোপণের পর পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ায় শ্যালো মেশিন দিয়ে সেচ দিতে হচ্ছে। সামনে বৃষ্টি না হলে পুরো আবাদ সেচনির্ভর হয়ে পড়বে। এতে উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে যাবে।
খয়েরবাড়ী ইউনিয়নের বারাইপাড়া গ্রামের কৃষক মকছেদ আলী জানান, তিনি এক একর ২৫ শতক জমিতে আমন ধান লাগিয়েছেন। কিন্তু বৃষ্টির অভাবে জমি ফেটে গেছে। এখন সেচ দিয়ে ফসল রক্ষার চেষ্টা করছেন। গত ১৫ দিনে সেচ ও অন্যান্য কাজে তাঁর ১৬ হাজার টাকার বেশি খরচ হয়েছে। তিনি বলেন, ‘পানি না দিলে আমন ফসল টেকানো কঠিন হবে। ডিজেলের দাম বেশি হওয়ায় সেচেও খরচ বেশি পড়ছে। লোকসান হলেও আবাদ না করে উপায় নেই।
ফুলবাড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফ আব্দুল্লাহ বলেন, আমন ধানের চারা রোপণের কাজ মাত্র শেষ হয়েছে। শ্রাবণ মাসে বৃষ্টিপাত তেমন না হওয়ায় কৃষক দুশ্চিন্তায় আছেন। প্রয়োজনে গভীর নলকূপ চালু করতে বরেন্দ্র সেচ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলবেন তিনি।
কৃ/স/জয়
Email : kshomoynews@gmail.com<br></br>
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ কৃষি সময়