প্রিন্ট এর তারিখঃ Aug 20, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Aug 20, 2026 ইং
জেভাজ কিটনাশকে কমছে উৎপাদনঃ কৃষকের সর্বনাশ

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
বাড়িতি ফসল উৎপাদন,পোকামাকড় দমন সহ কৃষি কাজে ব্যবহৃত বেশিরভাগ রাসায়নিকে ভেজাল ভেজালের প্রমাণ মিলেছে। নামি দামি কোম্পানীর এসব রাসায়নিক কিনে কৃষকরা যেমন অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন। তেমনি ফসল উৎপাদনেও তারা মার খাচ্ছেন। এতে সার্বিক কৃষি অর্থনীতি ঝুঁকিতে পড়েছে।
সরকারি ল্যাবে বাজারে থাকা বিভিন্ন রাসায়নিক সংগ্রহ করে পরীক্ষায় ভেজাল প্রমানের পর ক্ষয়ক্ষতির এ চিত্র উঠে এসেছে।
জানা যায়, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর দেশের বাজারে থাকা মাঠপর্যায় থেকে বিভিন্ন রাসায়নিকের স্যাম্পল সংগ্রহ করে। যা ল্যাব পরীক্ষায় ধরা পড়েছে ভয়াবহ চিত্র। অনেক নামি কোম্পানি বছরের পর বছর ধরে রাসায়নিকের নামে ভেজাল পণ্য বাজারজাত করছে। শীর্ষস্থানীয় এসিআই লিমিটেডের ‘বাম্পার ফলন’ পণ্যের নমুনা পরীক্ষায় তা প্রমাণিত। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ১২৫০ পিপিএম থাকার কথা থাকলেও এতে আছে মাত্র ২০০ পিপিএম।
মিমপেঙ্ অ্যাগ্রোক্যামিকেল লিমিটেডের পণ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ চিত্র পাওয়া গেছে । কোম্পানিটির হিউমিক এসিডে ১২ দশমিক ৫০ শতাংশ উপাদান থাকার নিয়ম। অথচ ল্যাব পরীক্ষায় পাওয়া গেছে মাত্র শূন্য দশমিক শূন্য চার শতাংশ। একইভাবে অ্যাডভান্স কেমিক্যালস ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ন্যাপথালিক এসিটিক এসিডের মান নেই। ফসল অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ ও আইসিআই অ্যাগ্রিকেয়ারের পণ্যেও পাওয়া গেছে প্রচুর ভেজাল।
ইস্ট-ওয়েস্ট ও গোল্ডেন ক্রপ কেয়ারের পণ্যেও পাওয়া গেছে ভেজালের অস্তিত্ব। বাজারের অন্য অনেক প্রতিষ্ঠানের পণ্যের মানও খুবই নিম্ন। টেনস অ্যাগ্রো, ইস্পাহান অ্যাগ্রো ও মার্শাল অ্যাগ্রোভেটের পণ্যেও ঘাটতি মিলেছে। এ ছাড়া গ্লোবাস অ্যাগ্রোভেট ও এসএএম অ্যাগ্রো কেমিক্যালের পণ্যে উপাদানের ব্যাপক অভাব। সারা দেশের কৃষকরা নিশ্চিন্তে এসব কোম্পানীর ভেজাল রাসায়নিক কিনে জমিতে প্রয়োগ করছেন।
এসব পণ্যে যে উপাদান থাকার কথা, তার ছিটেফোঁটাও নেই। মূল উপাদানের পরিবর্তে ব্যবহৃত হচ্ছে রঙ ও পানি। এসব ভেজাল উপাদান কৃষির উৎপাদনশীলতা কমিয়ে দিচ্ছে মারাত্মকভাবে। এতে কৃষক ফসলের ক্ষতি ও আর্থিক সংকটের মুখে পড়ছেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সরেজমিন উইং এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তারা জানান, তারা সারা দেশ থেকে বিভিন্ন কীটনাশকের নমুনা সংগ্রহ করেন। কৃষি ল্যাব, সাইন্সল্যাব ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবে এসব পরীক্ষা করা হয়েছে। অনেক কোম্পানির পণ্য ভেজাল ও নিম্নমানের বলে প্রমাণিত হয়েছে। এ বিষয়ে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
প্রতিবেদনে দেখা গেছে, সক্রিয় উপাদানের পরিবর্তে পানি ও গন্ধযুক্ত রঙ মেশানো হচ্ছে। ইউরিয়ার সঙ্গে মিশিয়ে কৃষক এসব কীটনাশক জমিতে প্রয়োগ করেন। অনেক প্রভাবশালী এই ভেজাল কীটনাশক আমদানির সঙ্গে জড়িত। বছরের পর হাজার টন ভেজাল পণ্য বিক্রি হচ্ছে অবাধে।
দেশের মোট চাহিদার ৯৫ শতাংশ কীটনাশক বিদেশ থেকে আমদানি হয়। নির্দিষ্ট বিদেশি উৎস থেকে আমদানির আইন থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। অনিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান থেকে কীটনাশক আমদানি করে চলছে রমরমা ব্যবসা। এসবের নজরদারিতে থাকা সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো দায়িত্ব পালন করছে না। হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হলেও অপতৎপরতা থামেনি এখনও।
আদালত কৃষি সচিব ও এনবিআর চেয়ারম্যানের প্রতি রুল জারি করেছিলেন। ৬০ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ ছিল তাতে। কিন্তু এসব ভেজাল কীটনাশক প্রভাব ফেলছে সরাসরি ফসলে। খাদ্যচক্রের মাধ্যমে বিষ মানব শরীরেও প্রবেশ করছে। কৃষক প্রতারিত হয়ে পাঁচগুণ বেশি দামে কিনছেন এসব বিষ।
বাংলাদেশ অ্যাগ্রোকেমিক্যাল ম্যানুফ্যাকচার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কেএসএম মোস্তাফিজুর রহমান উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এসব ভেজাল পণ্য কৃষির উৎপাদনশীলতা ব্যাপকভাবে কমিয়ে দিচ্ছে। কী দিয়ে এসব তৈরি তা কোম্পানিগুলো ছাড়া কেউ জানে না। কৃষকের অর্থহানির পাশাপাশি এগুলো পরিবেশের চরম ক্ষতি করছে। ভেজাল ব্যবহারের ফলে কৃষক নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। পরীক্ষাগারে সঠিক পরীক্ষা না হওয়ার বিষয়টিও সামনে এসেছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে পর্যাপ্ত যন্ত্রপাতির অভাব রয়েছে। ১৪ হাজার কীটনাশকের নমুনা পরীক্ষার জন্য মাত্র দুটি মেশিন। তাও একটি অকেজো হয়ে পড়ে আছে দীর্ঘদিন ধরে। ফলে ল্যাবে যথাযথ পরীক্ষা ছাড়া ভেজাল পণ্য বাজারে ছাড়া হচ্ছে। এতে কৃষকরা সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন নিয়মিত।
Email : kshomoynews@gmail.com<br></br>
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ কৃষি সময়