প্রিন্ট এর তারিখঃ Aug 19, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Aug 19, 2026 ইং
এয়ার ফ্লো মেশিন বন্ধে পচছে পেঁয়াজ

মানিকগঞ্জ সংবাদদাতাঃ
মানিকগঞ্জে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে এয়ার ফ্লো মেমিন বন্ধ হয়ে সংরক্ষণাগারে রাখা পেঁয়াজ পচে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এতে জেরায় সাড়ে চারশো পেঁয়াজ চাষী ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন।
জানা যায়, জেলার ৪৫০ জন পেঁয়াজ চাষীর মাঝে এয়ার ফ্লো মেশিন বিতরণ করে কৃষি বিভাগ। পেঁয়াজের আর্দ্রতা ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে দীর্ঘদিন সংরক্ষণে রাখার জন্য এসব মেশিন দেয়া হয়। বাজারে দাম কম থাকায় চাষীরা বেশি লাভের আশায় সংরক্ষণাগারে পেঁয়াজ সংরক্ষণ করেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারনে সংরক্ষণাগারের এয়ার ফ্লো মেশিন গুলো ঠিকমতো কাজ করছে না। ফলে সংরক্ষণাগারের পরিবেশ অনুকূলে না থাকায় এখানে রাখ পেঁয়াজে পচন ধরছে। ইতোমধ্যে কয়েকশ মণ পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। এ পরিস্থিতি চলতে থাকলে কোটি টাকার ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তারা।
হরিরামপুর উপজেলার ঝিটকা এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মো. সুমন মেম্বার বলেন, ভালো লাভের আশায় কষ্টার্জিত পেঁয়াজ সংরক্ষণ করে রেখেছিলেন। কিন্তু বিদ্যুৎ সংকটের কারণে চোখের সামনেই পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এতে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে।
কৃষকরা বলছেন, বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সমস্যার দ্রুত সমাধান না হলে আধুনিক সংরক্ষণ ব্যবস্থার সুফল পাওয়া সম্ভব হবে না। পাশাপাশি এয়ার ফ্লো মেশিন চালু রাখতে বিকল্প বিদ্যুৎ বা সৌরশক্তির ব্যবস্থা করা গেলে ক্ষতির পরিমাণ কমানো সম্ভব হতো।
ঝিটকা পেঁয়াজ হাটের পাইকার মো. বাবুল মিয়া বলেন, সংরক্ষণ করা পেঁয়াজ পচে যাওয়ার আশঙ্কায় অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে কম দামে বিক্রি করে দিচ্ছেন। কিছুদিন আগেও যে পেঁয়াজ পাইকারিতে প্রতি কেজি ৪০ থেকে ৪২ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে, বর্তমানে তা ৩৫ থেকে ৩৬ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে মানিকগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ শাজাহান সিরাজ বলেন, জেলার ৪৫০ জন চাষিকে দেওয়া এয়ার ফ্লো মেশিন দীর্ঘমেয়াদে পেঁয়াজ সংরক্ষণে অত্যন্ত কার্যকর। তবে সাম্প্রতিক লোডশেডিংয়ের কারণে মেশিন পরিচালনায় ব্যাঘাত ঘটছে। কৃষকদের ক্ষতি কীভাবে কমানো যায় এবং বিকল্প কোনো উপায়ে এ সমস্যার সমাধান করা যায় কি না, সে বিষয়ে চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে।
কৃ/স/জয়
Email : kshomoynews@gmail.com<br></br>
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ কৃষি সময়