প্রিন্ট এর তারিখঃ Aug 18, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Aug 18, 2026 ইং
বাগানে ঝুলছে ২০ জাতের আঙুর

ময়মনসিংহ সংবাদদাতাঃ
সখ থেকে আঙুর চাষে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছেন মোকছেদুল ইসলাম নামে এক তরুন উদ্যোক্তা। বাড়ির সামনে ১৫ শতক জমিতে তার স্বপ্নের বাগানে ঝুলছে ২০ জাতের আঙ্গুর। যা থেকে চারা এবং ফল বিক্রির মাধ্যমে তিনি আয়ের পথ খুঁজে পেয়েছেন। এই উদ্যোক্তার বাড়ি ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার মল্লিকবাড়ি গ্রামে।
জানা যায়,এ উদ্যোক্তা এক সময় একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন। ইউটিউব ও ফেসবুকে আঙুরের চাষাবাদ দেখে তার মনেও সখ জাগে। ২০২২ সালে নিজের জমানো টাকায় দুটি আঙুর চারা লাগান। ফলন আসার পর আঙুরের স্বাদ তাকে আরও উৎসাহিত করে। এরপর নানা মাধ্যম দেখে আঙুর চাষের কৌশল শেখা শুরু করেন। পরে বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগ করে বিদেশি জাতের চারা সংগ্রহ করেন এবং নিজেই চারা উৎপাদনের কৌশল আয়ত্ত করেন। এরপর ১৫ শতক জমিজুড়ে এর চাষাবাদ শুরু করেন। এখন তার বাগানে ১৮০টি আঙুর গাছ রয়েছে।
বাগান ঘুরে দেখা যায়, সেখানে ভ্যালেজ, ডিঙ্ন, গ্রিন লং, একেলো, ব্ল্যাক রুবি, বাইকুনুর, সামার ব্ল্যাকসহ ২০ জাতের আঙুরে ভরপুর গাছ। সবুজ পাতার ফাঁকে ঝুলছে টসটসে আঙুরের থোকা। স্থানীয়দের অনেকেই বাগানে এসে আঙুরের স্বাদ নিচ্ছেন এবং চাষাবাদ সম্পর্কে জানছেন। এই বাগানে প্রতিদিন ভিড় করছেন আশপাশের মানুষ।
আঙুর বাগানের উদ্যোক্তা মোকছেদুল জানান,এখন পর্যন্ত আঙুর চাষে তার তিন লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। এ বছরই প্রথম বাণিজ্যিকভাবে ফলন পেয়েছেন। তিনি আশা করছেন, ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা কেজি দরে আঙুর বিক্রি করে দেড় লাখ টাকার বেশি আয় করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি প্রতিটি চারা ৪০০-৫০০ টাকায় বিক্রি করেও ভালো আয় হচ্ছে। তবে ফল পাকতে শুরু করলে অতিবৃষ্টিতে পচন ধরে। উন্নত দেশগুলোতে পলি নেট ব্যবহার করে এই সমস্যা মোকাবিলা করা হয়। আমাদের দেশেও এ প্রযুক্তি ব্যবহার করা গেলে আরও ভালো ফলন সম্ভব হবে এবং ভবিষ্যতে আঙুর রপ্তানির সুযোগ তৈরি হবে।
ভালুকা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নুসরাত জামান জানান, ভালুকার মাটি ফল চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। আঙুর চাষে কেউ আগ্রহী হলে কৃষি বিভাগ চারার ব্যবস্থা ও প্রশিক্ষণ দিয়ে সহযোগিতা করছে। সংরক্ষণ ও মিষ্টতা বৃদ্ধির বিষয়ে গবেষণা আরও এগোলে আঙুর বাংলাদেশের জন্য একটি সম্ভাবনাময় রপ্তানি পণ্য হয়ে উঠতে পারে।
কৃ/স/জয়
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ কৃষি সময়