
চট্রগ্রাম সংবাদদাতাঃ
অতুলনীয় স্বাদ, আকর্ষণীয় রং, ফলের গড়ন ও দীর্ঘ সময় সতেজ থাকা ‘কাঞ্চন পেয়ারা’ এখন দেশের গন্ডি পেরিয়ে বিশ্ব বাজারে রপ্তানী হচ্ছে। এর চাষাবাদে উচ্চ মূল্যে পেয়ে চাষীরা যেমন লাভ বান হচ্ছেন তেমনি রপ্তানী হওয়ায় দেশের কৃষি অর্থনীতিতেও সম্ভাবনাময় এই দেশীয় ফল নতুন দুয়ার খুলে দিয়েছে। দেশে বিদেশে খ্যাতি অর্জনকারী এই পাহাড়ী পেয়ারা ফলছে চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলায়।
চান্দনাইশ উপজেলায় চলতি মৌসুমে হাশিমপুর, জঙ্গল হাশিমপুর, ছৈয়দাবাদ, লট এলাহাবাদ, দোহাজারী ও ধোপাছড়ি এলাকার পাহাড় ও পাহাড়ের পাদদেশে ৭২০ হেক্টর জমিতে পেয়ারা চাষাবাদ হয়েছে। উচুঁ-নিচুঁ পাহাড়ের বিশাল এলাকাজুড়ে পেয়ারা বাগানের প্রতিটি গাছে সবুজ পাতার ডালে ডালে ঝুলে আছে অসংখ্যা পেয়ারা। পাহাড়ি ও সমতল এলাকার পাশাপাশি পাশের উপজেলা পটিয়ার বিশাল পাহাড়ি এলাকাতেও এখন পেয়ারার ব্যাপক চাষ হচ্ছে।
চন্দনাইশের উর্বর মাটি এবং অনুকূল আবহাওয়ায় উৎপাদিত কাঞ্চন পেয়ারা দীর্ঘদিন ধরেই তার স্বাদ ও গুণগত মানের জন্য দেশজুড়ে সমাদৃত। বর্তমানে ঢাকা, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, ফেনী, নোয়াখালী, সিলেট, খুলনা ও রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার পাইকাররা সরাসরি বাগান থেকেই পেয়ারা সংগ্রহ করছেন।
স্থানীয় কৃষি বিভাগ বলছে,চলতি মৌসুমে এখান থেকে প্রায় ১১ হাজার টন পেয়ারা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে আগের তুলনায় এবার কাঞ্চন পেয়ারার সামগ্রিক উৎপাদন কিছুটা কমেছে বলছেন কৃষকরা।
গত দুই-তিন সপ্তাহ ধরে বাজারে পুরোদমে আসতে শুরু করেছে কাঞ্চন পেয়ারা। জুলাই মাস থেকেই চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে এর বিক্রি চলছে। বাগান থেকে ফল সংগ্রহ ও ব্যবসায়ীদের কাছে তা বিক্রির কাজে এখন চরম ব্যস্ত সময় পার করছেন পেয়ারাচাষিরা।
পাশাপাশি রপ্তানিকারকদের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও যাচ্ছে চন্দনাইশের এই পেয়ারা। চট্টগ্রাম-কঙ্বাজার মহাসড়কের পাশে হওয়ায় পরিবহনব্যবস্থাও বেশ সহজ ও দ্রুত। ফলে আমদানিকারক ও পাইকারি ব্যবসায়ীদের কাছে পেয়ারা সরবরাহ করতে সুবিধা হচ্ছে।
প্রতিদিন ভোর থেকেই বাগান ও স্থানীয় বাজারগুলোতে বেচাকেনা জমে ওঠে এবং ট্রাক-পিকআপে করে তা দেশের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় পেয়ারা চাষিরা বলছেন, তুলনামূলক কম খরচে কাঞ্চন পেয়ারা চাষ করে ভালো আয় করা সম্ভব। ফলে প্রতিবছরই এই আবাদ বাড়ছে এবং বহু পরিবার সরাসরি এই চাষের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।
পাইকারি ব্যবসায়ী জসিম মিয়া জানান, স্বাদ ও মানের কারণে ক্রেতাদের কাছে এই পেয়ারার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বাজারে আনার পর অল্প সময়েই তা বিক্রি হয়ে যায়।
পেয়ারাচাষি মোহাম্মদ আবদুল আজিজ বলেন, অন্যান্য ফলের তুলনায় কাঞ্চন পেয়ারার উৎপাদন ব্যয় কম, অথচ বাজারমূল্য ভালো পাওয়া যায়। সঠিকভাবে পরিচর্যা করলে ফলনও অনেক বেশি হয়।
চন্দনাইশ উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আজাদ হোসেন জানান, এই অঞ্চলের পেয়ারা আলাদা সুনাম অর্জন করেছে। কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
ফল ও সবজি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান চিটাগাং ফুডস অ্যান্ড ভেজিটেবলসের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ ইসমাইল চৌধুরী হানিফ জানান, প্রায় ১০-১৫ বছর ধরে কাঞ্চন পেয়ারা বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে। বছরে প্রায় দেড় থেকে দুই কোটি টাকার কাঞ্চন পেয়ারা ও অন্যান্য জাতের পেয়ারা রপ্তানি হয়ে থাকে।
অর্থনীতিবিদ ও কৃষি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, গ্রামীণ অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে এই ফল। কৃষি বিভাগের মাধ্যমে এ চাষাবাদে কৃষকদের আরো উন্নত প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেয়া হলে পেয়ারা চাষাবাদে তারা যেমন লাভবান হবেন। তেমনি দেশের কৃষি অর্থনীতি শক্তিশালী হবে।
কৃ/স/জয়