প্রিন্ট এর তারিখঃ Aug 17, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Aug 17, 2026 ইং
কচুরিপানায় আটকা কৃষকের ভাগ্য

বাগেরহাট সংবাদদাতাঃ
বাগেরহাটের বালেশ্বর নদী এখন কচুরিপানার দখলে। একই সাথে ভরাট হয়ে যাওয়া নদীটি খনন না হওয়ায় চিতলমারী উপজেলার বেশ কয়েকটি গ্রামের হাজারো কৃষকের চাষাবাদ ব্যহত হচ্ছে।
জানা যায়,চিতলমারীর বালেশ্বর নদীটি এক সময় খরস্্েরাতা ছিল। এই নদী পথে ষ্টিমার সহ নৌকায় কৃষকরা মলামাল পরিবহন করতো। বর্ষা কিংবা ঝড় বৃষ্টিতে বিভিন্ন মাঠের পানি এই নদী দিয়ে নিষ্কাশন হতো। মাঠের ফসল নৌকায় বাড়িতে আনা হতো। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় এই নদীতে এখন মৃত প্রায়। নদীর মাঝে বিভিন্ন স্থানে চর পড়েছে। কচুরিপানার স্তুপ জমেছে। চারদিক থেকে ছোট হয়ে নদীটি নালায় পরিণত হয়েছে। যতটুকো আছে তাও কচুরিপানায় পরিপূর্ণ।
দীর্ঘদিন এই নদীটি খনন না করায় কৃষকদের সেচকাজ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি পণ্য পরিবহন বন্ধ হয়ে গেছে। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন নদীপাড়ের ১০-১২টি গ্রামের হাজারো কৃষক।
স্থানীয় চাষি মুকুন্দ বাওয়ালী ও আনন্দ বালা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, দীর্ঘদিন ধরে নদী খননের আশ্বাস শুনলেও বাস্তবে কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। শুষ্ক মৌসুমে সেচের পানির অভাবে খেতের ফসল শুকিয়ে নষ্ট হয়। আবার বর্ষায় কচুরিপানার কারণে নৌকা চালানো অসম্ভব হয়ে পড়ে। ফলে উৎপাদিত ফসল বাজারে নিতে বাড়তি খরচ গুনতে হচ্ছে। নদীর ওপর নির্ভরশীল শত শত জেলে পরিবারও এখন কর্মহীন হয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে।
এ বিষয়ে চিতলমারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. সিফাত-আল-মারুফ বলেন, অঞ্চলের কৃষি ব্যবস্থা সচল রাখতে বলেশ্বর নদী পুনঃখনন করা এখন সময়ের দাবি। আমরা বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে গুরুত্বের সাথে জানিয়েছি।
বাগেরহাট জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জয়ন্ত পাল জানান, দ্রুত কচুরিপানা পরিষ্কারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। নদীটি পুনঃখননের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।
কৃ/স/জয়
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ কৃষি সময়