প্রিন্ট এর তারিখঃ Aug 17, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Aug 17, 2026 ইং
বগুড়ায় মাছের উৎপাদন বেড়েছে

বগুড়া সংবাদদাতাঃ
বগুড়ায় বেড়েছে নানা প্রজাতির মাছের উৎপাদন। যা স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে সরবরাহ করা হচ্ছে বিভিন্ন জেলায়। এর মাধ্যমে স্থানীয় মৎস্য চাষীরা ভাল টাকা আয় করছেন। তবে তাদের এই সাফল্য বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে মাছের খাদ্য ভেজাল ফিড। যা অনেক সময় তাদেও ক্ষতিগ্রস্থ করছে।
জানা যায়,এ জেলার ১২টি উপজেলায় মাছ উৎপাদনের জন্য ৬০ হাজার ৯৪৯টি পুকুর ও দিঘী,১৫ টি নদী,৮১টি বিল রয়েছে। যেখানে চাষীরা বছরজুড়ে নানা জাতের মাছ চাষাবাদ করেন। আর এসব স্থানে মাছের পোনা যোগন দিতে আছে ২টি মৎস্যবীজ উৎপাদন কেন্দ্র,১৬৩টি ব্যক্তি হ্যাচারী,৩৬১টি নার্সারী।
মৎস্য বিভাগের তথ্যমতে, বগুড়া জেলায় গত ২০২২- ২৩ অর্থ বছরে মাছের উৎপাদন হয়েছে ১ লাখ ৪ হাজার ১৫৯ মেট্রিক টন। ২০২৩-২৪ অর্থ বছরে মোট মাছের উৎপাদন হয় ১ লাখ ৪ হাজার ৯৫০ মেট্রিক টন। ২০২৪-২০২৫ অর্থ বছরে উৎপাদন হয় প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার ৩৫১ মেট্রিক টন মাছ। আর চলতি বছর উৎপাদন হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৮ হাজার ৬৪৮ মেট্রিক টন মাছ। গত ৪ বছরে এ জেলার চাহিদার তুলনায় গড়ে প্রতি বছর প্রায় ২৪ হাজার ১৪৩ মেট্রিক টন উদ্বৃত্ত মাছ উৎপাদন করেন মাছ চাষীরা। যা এ জেলার চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করে চাষীরা মোটা অংকের টাকা আয় করে থাকেন। এ খাতে জড়িয়ে কর্মসংস্থান হয়েছে বিপুল পরিমাণ চাষী ও শ্রমিকের।
এই সাফল্যের পিছনে স্থানীয় মাছ চাষীদের রয়েছে নানা সমস্যা। এর মধ্যে প্রধান সমস্য হচ্ছে-মাছের ভেজাল ফিড বা খাদ্য। এরসাথে যোগ হয়েছে মৎস্য উপকরণের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি। আর সবচেয়ে বড় শূন্যতা -প্রান্তিক চাষীদের নিজের উৎপাদিত খাবারের মান পরীক্ষা করার কোনো স্থানীয় ল্যাব তাদের হাতের নাগালে নেই।
আদমদীঘির জিএম মৎস্য খামারের স্বত্বাধিকারী আব্দুল মহিত তালুকদার জানান,গত ২০-২২ বছরে খৈল, চুন, রাইস পালিশ ও বিদ্যুতের দাম কয়েক গুণ বাড়লেও মাছের (বিশেষ করে পাঙ্গাস) বিক্রয়মূল্য বাড়েনি। উপরন্তু, ভেজাল ফিডের কারণে উৎপাদনে ধস নেমে অনেক চাষী নিঃস্ব হয়ে ব্যাংক ঋণে জর্জরিত হচ্ছেন। এ ভাবে চলতে থাকলে আগামিতে মাছের উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ময়মনসিংহ ও যশোরের চাষীরা খাদ্য পরীক্ষার ল্যাব সুবিধা পেলেও বগুড়ার চাষীদের দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে ময়মনসিংহের ল্যাবের ওপর নির্ভর করতে হয়।
এ জেলার একাধিক মৎস্যচাষীর সাথে কথা বলে জানা যায়,তারা সবাই বগুড়ায় একটি খাদ্য পরীক্ষার ল্যাব স্থাপনের দাবী জানান। তারা বলছেন, এটি স্থাপিত হলে ভেজাল খাদ্য থেকে তাদের মাছ রক্ষার পাশাপাশি উৎপাদন বাড়িয়ে তারা আরো বেশি লাভবান হবেন।
বগুড়া জেলা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. খালেকুজ্জামান বলেন,যেহেতু চাষের জমি আর বাড়ানো সম্ভব নয়, তাই সৌর প্যানেলের সাহায্যে বিদ্যুতের ঘাটতি মিটিয়ে অল্প জায়গায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি মাছের রোগব্যাধি নির্ণয়ে একটি ‘ডিজিস ডায়াগনস্টিক ল্যাবরেটরি’ স্থাপনের প্রস্তাব উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি।
কৃ/স/জয়
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ কৃষি সময়