প্রিন্ট এর তারিখঃ Aug 15, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Aug 15, 2026 ইং
কোয়েল পালনে শামীমের ভাগ্য বদল

টাঙ্গাইল সংবাদদাতাঃ
কোয়েল পালন করে ব্যাপক সফলতা পেয়েছেন শামীম আল আমিন নামে এক টাঙ্গাইলের প্রবাস ফেরত উদ্যোক্তা। পালনের পাশাপাশি এর বাচ্চা উৎপাদন ও বিক্রির মাধ্যমে তিনি প্রতি মাসে আয় করছেন লাখ লাখ টাকা। এর ম্যাধমে তিনি নিজের ভাগ্যর চাকু ঘুরিয়েছেন।
জানা যায়,জেলার সখিপুর উপজেলার কচুয়া গ্রামের এই উদ্যোক্তা র্দীঘদিন সৌদি আরবে ছিলেন। সেখানে তিনি টেলিভিশনে কোয়েল পালন দেখে দেশে ফিরে এর খামার করার স্বপ্ন দেখেন। এরপর দেশে ফিওে ২০১২ সালে নিজের বাড়ির পাশে ২০ শতক জমিতে কোয়েলের খামার করেন। যেখানে ৫শ’কোয়েলের বাচ্চা দিয়ে এর যাত্রা শুরু করেন তিনি। কঠিন পরিশ্রম আর বাল কিছু করার প্রত্যয়ে তিন বছরে তার খামারের কোয়েলের সংখ্যা দাঁড়ায় ১২ হাজার। সাড়া পড়ে যায় চারদিক। বিভিন্ন লোকজন এবং খামারীরা তার খামার দেখতে আসতে শুরু করেন। মাঝে নানা প্রতিকুল পরিবেশেও তিনি হাল ছাড়েননি। ২০২৩ সালে তিনি চালু করেন কোয়েলের হ্যাচারি। এর পর থেকেই ব্যবসায় নতুন গতি আসে।
শামীমের খামারে এখন প্রায় ১৬ হাজার প্রজননক্ষম মা কোয়েল রয়েছে। প্রতিদিন এসব পাখি ১০ থেকে ১২ হাজার হ্যাচিং ডিম দেয়। হ্যাচারিতে ১৭ দিন পর সেই ডিম থেকে বাচ্চা ফুটে বের হয়। প্রতি মাসে প্রায় দুই লাখ বাচ্চা উৎপাদন করে দেশের বিভিন্ন জেলার খামারিদের কাছে বিক্রি করেন এ উদ্যোক্তা। প্রতিটি বাচ্চা ৭ থেকে ৮ টাকায় বিক্রি হলেও প্রতি বাচ্চায় লাভ থাকে ২ থেকে ৩ টাকা। সব মিলিয়ে মাসে ৩ থেকে ৫ লাখ টাকা আয় করছেন এই উদ্যোক্তা।
সফল এই উদ্যোক্তা শামীমের কোয়েল খামারে স্থানীয় পাঁচজন শ্রমিকের কর্মসংস্থান ও হয়েছে। কেউ পাখিকে খাবার দিচ্ছেন, কেউ ডিম সংগ্রহ করছেন, আবার কেউ হ্যাচারির কার্যক্রম তদারকি করছেন। উৎপাদন নির্বিঘ্ন রাখতে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় ব্যবহারের জন্য রয়েছে জেনারেটর। পাখির খাদ্য প্রস্তুতের জন্যও স্থাপন করা হয়েছে নিজস্ব ফিড মেশিন। শ্রমিকদের সাথে শামীম নিজেও কাজ করেন।
শামীম আল মামুন বলেন,এ খামারই এখন আমার জীবনের সবচেয়ে বড় পরিচয়। ব্যস্ততার মধ্যেই আনন্দ খুঁজে পাই। ভালো আয় হচ্ছে। পাশাপাশি অন্যদেরও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে পারছি। আমার সফলতা দেখে সখীপুরে অন্তত পাঁচ থেকে ছয়জন নতুন উদ্যোক্তা কোয়েল খামার গড়ে তুলেছেন। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকেও আগ্রহীরা খামার পরিদর্শনে এসে পরামর্শ নিচ্ছেন।
সখিপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা সাইদুর রহমান বলেন,কোয়েল পালন পরিবেশবান্ধব ও লাভজনক একটি খাত। এর ডিম ও মাংস পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ এবং কোলেস্টেরলের পরিমাণও তুলনামূলক কম। শামীম আল মামুন এ উপজেলার একজন অনুকরণীয় সফল উদ্যোক্তা। তার উদ্যোগ অন্যদেরও কৃষিভিত্তিক উদ্যোক্তা হতে উৎসাহিত করছে।
কৃ/স/জয়
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ কৃষি সময়