প্রিন্ট এর তারিখঃ Aug 15, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Aug 13, 2026 ইং
বাদুড়ের ‘বাড়ি’

ময়মনসিংহ সংবাদাদাতাঃ
ময়মনসিংহের অর্ধ শতাব্দি ধরে একটি বাঁশঝাড়ে বাসা বেধেছে শত শত বাদুড় দল। হালুয়াঘাটের জয়রামকুড়া মিলন বাজারের পাশে এই বাঁশঝাড়টি অবস্থিত। এটি অনেকের কাছে বাদুড়ের ‘বাড়ি’ নামেও পরিচিত।
হালুয়াঘাট উপজেলা সদর থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে জয়রামকুড়া মিলন বাজার। এই বাজার পেরিয়ে ৫০ মিটার উত্তর পাশে চোখে পড়ে প্রায় এক একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত বাঁশঝাড়। এই শান্ত জনপদেই গড়ে উঠেছে বাদুড়গুলোর নিরাপদ আশ্রয়। বাঁশঝাড়ের কঞ্চিতে হুকের মতো পা আটকে মাথা নিচু করে ঝুলে থাকে বাদুড়গুলো। মানুষের উপস্থিতি কিংবা সামান্য শব্দ পেলেই ডানা মেলে উড়ে যায়। সন্ধ্যার পর তাদের কিচিরমিচির ও ডানার শব্দে মুখর হয়ে ওঠে আশপাশের এলাকা।
দিনের আলোয় বাঁশঝাড়টি নীরব। বাঁশের কঞ্চিতে সারি সারি ঝুলে থাকে কালচে রঙের বাদুড়। সন্ধ্যা নামলেই বদলে যায় দৃশ্যপট। দলবেঁধে বাদুড়গুলো উড়ে যায় খাবারের সন্ধানে। ভোরের আলো ফোটার আগেই আবার ফিরে আসে বাঁশঝাড়ে।
বাঁশঝাড়ের মালিক বিজয় রিছিল মারা যাওয়ার পর তাঁর স্ত্রী নীলিমা নকরেক ও মেয়ে লুনা নকরেক বাদুড়গুলো দেখে রাখছেন।
জানতে চাইলে নীলিমা নকরেক বলেন, ১০ বছর ধরে বাদুড়গুলো এখানে স্থায়ীভাবে বসবাস করছে। এর আগে আসা-যাওয়া করত। কোনো সময় চলে গেলে এক-দুই বছর পর্যন্ত দেখা মিলত না। আগে কিছু মানুষ বিরক্ত করত। বলার পর এখন তেমন বিরক্ত করে না।
স্থানীয় প্রবীণ বাসিন্দা জুলহাস বলেন, প্রায় ৪০-৫০ বছর ধরে এই বাঁশঝাড়ে বাদুড়ের আনাগোনা দেখে আসছেন তিনি। আগের তুলনায় এখন বাদুড়ের সংখ্যা কিছুটা কমেছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাদুড়গুলোর টিকে থাকার পেছনে রয়েছে মানুষের সহনশীলতা ও নিরাপদ পরিবেশ। বাঁশঝাড়টি নিরিবিলি হওয়ায় বাদুড়গুলো নির্বিঘ্নে সেখানে থাকতে পারে। আশপাশে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের ফলদ গাছ। ফলে খাবারেরও তেমন সংকট হয় না।
কৃ/স/জয়
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ কৃষি সময়