প্রিন্ট এর তারিখঃ Aug 14, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Aug 12, 2026 ইং
পাহাড়ের পাশে বর্জ্যর স্তুপ

চট্রগ্রাম সংবাদদাতাঃ
চট্রগ্রামের সিতাকুন্ডে পাহাড়ের পাশে সওজের জায়গায় ময়লার ভাগাড় গড়ে তোলা হয়েছে। উপজেলার শেখপাড়া এলাকায় এই ময়লার ভাগাড়ের কারনে পাহাড়ের প্রাকৃতিক সুন্দর্য নষ্ট সহ পরিবেশ বিপন্ন হয়ে উঠেছে।
সীতাকুন্ড উপজেলার শেখপাড়া এলাকায় পাহাড়ের পাদদেশে এখন ময়লার ভাগাড় গড়ে তোলা হয়েছে। সওজের এই বিশাল জায়গাজুড়ে দীর্ঘদিন ধরে পৌর শহরের বিভিন্ন মহল্লা থেকে ময়লা আর্বজনা,বজ্য এনে ফেলা হচ্ছে। পৌর শহরে কোন ময়লার ডাম্পিং ষ্টেশন না থাকায় এটিই এখন ডাম্পিং ষ্টেশন হিসাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এই পলিথিন, প্লাস্টিক এবং পচনশীল বর্জ্যরে বিশাল স্তূপ থেকে প্রতিনিয়ত তীব্র দুর্গন্ধ ও বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে পড়ছে। পচে যাওয়া এসব বর্জ্যরে বিষাক্ত বাতাসে চারদিকে ছড়িয়ে পড়া দূষণের কারণে শত শত পরিবার দীর্ঘদিন ধরে ধোঁয়া, মশা ও ব্যাকটেরিয়ার সঙ্গে লড়াই করে বসবাস করছেন।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পাহাড়ের পাদদেশ-খ্যাত এই জনপদে যত্রতত্র বর্জ্য ফেলার কারণে দিন দিন পরিবেশের ভারসাম্য যেমন মারাত্মকভাবে নষ্ট হচ্ছে। তেমনি এটি পরিণত হয়েছে এক বিশাল জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশগত মৃত্যুফাঁদে।
প্রায় দুই দশকের এই স্থায়ী ভাগাড় আজ স্থানীয় হাজারো মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রার জন্য এক মারাত্মক ও অসহনীয় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানির সঙ্গে ময়লা ধুয়ে চারপাশের প্রাকৃতিক ছড়া, ঝরনা ও নিচু কৃষিজমিতে মিশে যাচ্ছে। এতে একদিকে যেমন পাহাড়ি ঝরনার সুপেয় পানি ও উর্বর মাটি মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে। অন্যদিকে স্থানীয় জলজ প্রাণী, হরেক রকম পাখি ও উদ্ভিদের জীবনচক্র চরম হুমকির মুখে পড়ছে।
পৌরবাসীদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, বিগত বছরগুলোতে একের পর এক মেয়র ও প্রশাসক এসেছেন এবং দায়িত্ব পালন করে গেছেন, কিন্তু কেউই একটি পরিকল্পিত ও স্বাস্থ্যসম্মত ডাম্পিং স্টেশন গড়ে তোলার কার্যকর উদ্যোগ নেননি।
শেখপাড়ার ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পরিবেশ রক্ষায় যেখানে প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সবচেয়ে বেশি সচেষ্ট থাকার কথা, সেখানে পাহাড়ের কোল ঘেঁষে এভাবে লোকালয়ে ময়লার ভাগাড় গড়ে তোলা অত্যন্ত দুঃখজনক ও অগ্রহণযোগ্য।
সীতাকুণ্ড পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফখরুল ইসলাম জানান,পৗরসভার নিজস্ব কোনও জায়গা নেই। খাস জমিও মেলে না। শিঘ্রই এ সমস্যও সমাধানে কার্যকরী উদ্যোগ নেয়ার কথা জানান তিনি।
কৃ/স/জয়
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ কৃষি সময়