প্রিন্ট এর তারিখঃ Aug 15, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Aug 11, 2026 ইং
ইনফ্লুয়েঞ্জা ও গোটপক্স ভ্যাকসিন খামারি পর্যায়ে পৌঁছে দেয়া হবে-কৃষিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
কৃষিমন্ত্রী,মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, বিএলআরআই উদ্ভাবিত এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা ও গোটপক্স ভ্যাকসিন বাণিজ্যিক উৎপাদনের মাধ্যমে খামারি পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়া হবে।
মঙ্গলবার মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআই) উদ্ভাবিত এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা ও গোটপঙ্ ভ্যাকসিন বাণিজ্যিক ভিত্তিতে উৎপাদন এবং খামারি পর্যায়ে সম্প্রসারণের লক্ষ্যে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, আজকের আয়োজন শুধু একটি ভ্যাকসিন হস্তান্তরের আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং গবেষণাগারে অর্জিত জ্ঞান ও উদ্ভাবনকে মাঠপর্যায়ের খামারিদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
তিনি আরও বলেন, দেশীয় প্রযুক্তি ও গবেষণার মাধ্যমে উদ্ভাবিত এসব ভ্যাকসিন দেশের প্রাণিসম্পদ ও পোলট্রি খাতের রোগ নিয়ন্ত্রণ, উৎপাদন ব্যয় হ্রাস এবং ভ্যাকসিনের ক্ষেত্রে আমদানি নির্ভরতা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্রাণিসম্পদ খাতকে দেশের কৃষি অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, পোল্ট্রি ও প্রাণিসম্পদ খাতে রোগব্যাধি নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে খামারিরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন। বিশেষ করে এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জার মতো রোগ পোলট্রি উৎপাদন ও খামার ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। তাই দেশীয়ভাবে কার্যকর ভ্যাকসিন উদ্ভাবন ও উৎপাদনের সক্ষমতা বাড়ানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রাণি সম্পদমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিনের গবেষণা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে বিএলআরআইয়ের বিজ্ঞানী ও গবেষকেরা দেশীয় প্রযুক্তি ও উপকরণ ব্যবহার করে এসব ভ্যাকসিন উদ্ভাবন করেছেন। গবেষণাগারে কোনো উদ্ভাবন সম্পন্ন হওয়ার পর তা যদি সাধারণ মানুষের কাজে না আসে, তাহলে সেই গবেষণার পূর্ণ সুফল পাওয়া যায় না। তাই গবেষণালব্ধ উদ্ভাবনকে বাণিজ্যিক উৎপাদনের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া এবং খামারি পর্যায়ে এর ব্যবহার নিশ্চিত করা এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
সরকারের কৃষি ও কৃষকবান্ধব বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, দেশের বিপুলসংখ্যক মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কৃষির সঙ্গে যুক্ত। কৃষির উন্নতি হলে দেশের অর্থনীতিও শক্তিশালী হবে। তাই কৃষক ও কৃষিকে শক্তিশালী করার মাধ্যমে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে সরকার কাজ করছে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, দেশীয়ভাবে ভ্যাকসিন উৎপাদনের সক্ষমতা তৈরি হওয়ায় আমদানি নির্ভরতা কমবে এবং আমরা ধীরে ধীরে স্বয়ংসম্পূর্ণতার দিকে এগিয়ে যাব। ওষুধ ও ভ্যাকসিন উৎপাদনে আমরা যত বেশি স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে পারব, উৎপাদন ব্যয় তত কমবে এবং এর প্রভাব খাদ্য ও প্রাণিসম্পদজাত পণ্যের দামের ওপরও পড়বে।
অনুষ্ঠানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান, বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. শাকিলা ফারুক, বিজ্ঞানী ও গবেষক, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও চিকিৎসক, শিল্প উদ্যোক্তা, খামারি প্রতিনিধি এবং ভ্যাকসিন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
কৃ/স/জয়
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ কৃষি সময়